৩৩ বছরে কানাইঘাট এসোসিয়েশনের ব্যাপক সফল্য, বার্ষিক অনুষ্ঠানে ২২ লাখ টাকার সেবা কার্যক্রম
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
তুলনামূলকভাবে স্বল্প সংখ্যক ইউকে প্রবাসীর এলাকা হলেও কানাইঘাট এসোসিয়েশন ইউকে নিয়মিত নীরবে-সরবে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এবারও সর্বশেষ সেবা প্রজেক্টে অর্থের পরিমান ছিলো ২২ লাখ টাকা। এসোসিয়েশনের বার্ষিক ফ্যামেলি গ্যাদারিং, এজিএম ও স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানে সবাই এই অনন্য কার্যক্রম ছাড়াও সংগঠনের ৩৩ বছর (১৯৮৫-২০১৮)-এর সেবা কর্মসূচী ভিত্তিক তথ্যচিত্র দেখে সামগ্রিকভাবে এসোসিয়েশনের প্রশংসা করেন। পূর্ব লন্ডনের অ্যানসাইন ক্লাবের এই অনুষ্ঠানে দুটি হল ছাড়াও খোলা মাঠে খাবারের আয়োজন, আর শিশুদের জন্য বাউন্সি ক্যাসল ছিলো উপভোগ্য।
নেতৃবৃন্দের বক্তৃতার পাশাপাশি এবারও মূল আকর্ষণ ছিলো জিসিএসই, এ লেভেলে অনন্য ফলাফল এবং গ্রাজুয়েশনে ভর্তি হওয়া ৩১ স্টুডেন্টকে সম্মাননা সাটিফিকেট প্রদান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পীকার কাউন্সিলার আয়াস মিয়া। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কানাইঘাটের কৃতী সন্তান লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়েরকে বৃটিশ বাংলাদেশী পাওয়ার হান্ড্রেডে তালিকাভূক্তির সাফল্যে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সভাপতি নাজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আজমল আলী এবং এসিসট্যান্ট সেক্রেটারি মখলিছুর রহমানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আর্থিক রিপোর্ট পেশ করেন ট্রেজারার জাকারিয়া সিদ্দিকী। সার্টিফিকেট পর্ব উপস্থাপন করেন আহমেদ ইকবাল চোধুরী , হারুন রশিদ ও ফারুক চোধুরী।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে কানাইঘাট এসোসিয়েশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের যেভাবে সার্টিফিকেট দিয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। আর এলাকার গরিব ও মেধাবীদের জন্য যেভাবে সেবার হাত বাড়ানো হয়েছে-তা দৃষ্টান্তমূলক। তিনি ইউকের প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনকে মূলধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার আহবান জানান। বিশেষ অতিথি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, আমাদের আসল স্টার হল আমাদের এই নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা। এরা যেভাবে এডুকেশন এবং বিশেষ প্রফেশনে এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেই তাঁরাই কমিউনিটির জন্য সুনাম নিয়ে আসবে। অনুষ্ঠানে এসোসিয়েশনের ১৯৮৫-২০১৮ সাল তথা ৩৩ বছরের নেতৃত্ব ও কার্যক্রমের উপর তথ্যচিত্রের প্রদর্শন করা হয়। এতে সর্বশেষ ২২ লাখ টাকার কল্যাণকর কাজের চিত্র দেখে সকলে প্রশংসা করেন। এই শিক্ষা উন্নতকরণ প্রকল্পের অর্ধেক দান ছিলো সংগঠনের সভাপতি নাজিরুল ইসলামের। বাকি অর্ধেক সংগঠনের ইসি সদস্য, সাধারণ সদস্য ও এডভাইজারদের। সভাপতি বলেন, সবাই যদি আরো আন্তরিকতা নিয়ে যতটুকু সম্ভব এগিয়ে আসেন তবে আরো ভালো সেবা কাজ করা যাবে।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলায়াত করেন হাফিজ মাওলানা জয়নুল আবেদীন চৌধুরী। সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পর প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন ইসমত সিদ্দিকা, সায়মা রশিদ, নুহা রহমান ও আবুবক্কর চৌধুরী। বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ জুবায়েরকে ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধান অতিথি আয়াছ মিয়া ও সংগঠনের সভাপতি নাজিরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের এডভাইজার যথাক্রমে সর্বজনাব হাফিজ মাওলানা আবু সাঈদ, মখলিছুর রহমান, ব্যারিস্টার কুতুবুদ্দিন আহমেদ সিকদার এমবিই, মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, ইস্ট লন্ডন মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল হোসাইন খান, সহ সভাপতি যথাক্রমে আনিসুল হক, সাদেকুল আমিন, আবুল ফাতেহ, ইসি মেম্বার প্রফেসার আব্দুল মালিক, এসিস্টেন্ট ট্রেজারার হারুন রশিদ, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আহমেদ ইকবাল চোধুরী, এসিস্টেন্ট অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ফারুক আহমেদ চোধুরী ও মাসুদ আহমেদ চৌধুরী ও আফতাব চৌধুরীসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, এসোসিয়েশন সেক্রেটারির নেতৃত্বে সম্প্রতি এই ২২ লাখ টাকার সেবা কার্যক্রম উপলক্ষে ভাইস চেয়ার খসরুজ্জামান (ভিপি খসরু) ও ইসি মেম্বার প্রফেসর আবদুল মালিক এলাকায় যান। শিকদার ফাউন্ডেশন কলেজ হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সর্বমোট ৫১টি কম্পিউটার দেওয়া হয়। উপজেলার ৪টি কলেজ, ২৬টি উচ্চমধ্যমিক স্কুল, ১৪টি সরকারি মাদ্রাসা, ৬টি কৌমি মাদ্রাসা তথা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১টি করে এবং একজন প্রতিভাবান ছাত্রকে ১টি কম্পিউটার দেওয়া হয়।
তাছাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সর্বমোট ১১৩টি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ২৫ হাজার কলম বিতরণ করা হয়। ২৬টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৮ জন শিক্ষার্তী, ৭টি মাদ্রাসার ২১জন এবং হাফিজি মাদ্রাসার ৮০জন ছাত্র ও ছাত্রীকে নগদ বৃত্তি প্রদান করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

