ব্যক্তি জীবনে নিভৃতচারি, নিরহঙ্কারি এবং বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন মাহবুব আহসান চৌধুরী- স্মরণসভায় সুধীজনের মন্তব্য
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
অদম্য সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহবুব আহসান চৌধুরী ব্যক্তি জীবনে ছিলেন নিভৃতচারি, নিরহঙ্কারি এবং বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী। ছিলেন একজন সৃজনশীল ব্যক্তি। তাঁর মৃতু্যতে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন শুন্যতা বিরাজ করবে।
পূর্ব লন্ডনে আয়োজিত তাঁর স্মরণ সভায় বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার পূর্ব লন্ডনের জুবিলি স্ট্রিটে অবস্থিত সাপ্তাহিক পত্রিকা অফিসে আয়োজিত স্মরণ সভায় লেখক হামিদ মোহাম্মদের পরিচালনায় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন চ্যানেল এস এর চেয়ারম্যান ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, আই অন টিভির ডারেক্টর সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ এনামুল ইসলাম, কবি টি এম আহমেদ কায়সার, সংস্কৃতিকর্মী শামীম শাহান, কাউন্সিলার শাহ আলম, সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, সুরমা সম্পাদক আহমদ ময়েজ, লেবার পাটি ও কমিউনিটি নেত্রী জেসমীন চৌধুরী, লিটল থিয়েটারের শাহ সাদিক মিঠু। স্মৃতিচারণে মাহবুব আহসান চৌধুরীর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যে স্মরনিকা প্রকাশসহ নানা প্রস্তাব করা হয়।
তাঁর ঘনিষ্টজনদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন আবদুল কায়ূউম লাহী, শোয়েব আদমজী, বাবুল রহমান, লীনা সিদ্দিক, আরিফুর খন্দকার, মুনিরা পারভীন, আফিয়া আদমজী রেখা, চ্যানেল এস এর সিনিয়র রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল ও সাংবাদিক খিজির হায়াত খান কাওসার। স্মরণসভা আয়োজন করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সুধীগুণীজনের অংশগ্রহণকে সাধুবাদ জানিয়ে মাহবুব আহসান চৌধুরীর কনিষ্ঠ ভ্রাতা জাহাঙ্গীর ইকবাল চৌধুরী সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য,বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও লেখক মাহবুব আহসান চৌধুরী বাবর গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৩টায় সিলেট শহরের লাভলী রোডের নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মাহবুব আহসান চৌধুরী ১৯৭৫ সালে সিলেট প্রান্তিক কচিকাঁচার মেলা’র প্রতিষ্ঠাতা এবং সংগঠক ছিলেন। প্রান্তিক কচিকাঁচার মেলার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮১ পর্যন্ত। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত জেলা শিল্পকলা একাডেমি সিলেট-এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সনামখ্যাত ‘মোহাম্মদী’ প্রেসের স্বত্ত্বাধিকারী মাহবুব আহসান চৌধুরী সাহিত্যাঙ্গনেও ছিলেন সক্রিয় ।তাঁর লেখা দুটি উপন্যাস পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট-এর সভাপতি। নাট্যসংগঠন নাট্যায়ন সিলেট-এর সংগঠক এবং সভাপতিও ছিলেন তিনি।
এছাড়া কর্মজীবনে ১৯৯৮ থেকে ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার সিলেটের কন্স্যুলার রিপ্রেজেন্টেটিভ । ২০০০ সাল থেকে ইমিগ্রেশন এডভাইসরি সার্ভিস-এর বাংলাদেশ শাখার প্রধান ছিলেন মাহবুব আহসান চৌধুরী।
উল্লেখ্য,মাহবুব আহসান চৌধুরীর পিতা লতিফুর রহমান চৌধুরী তাজপুর মঙ্গলচণ্ডি নিশিকান্ত বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বিশিষ্ট লেখিকা লাভলী চৌধুরী তাঁর সহোদরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


