গার্ডেন্স অব পিস-এ চিরনিদ্রায় শায়িত শাহাব উদ্দিন বেলাল, শোক-ভালোবাসায় বিদায় জানালো কমিউনিটি
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
দেশ রিপোর্ট: পূর্ব লন্ডনের গার্ডেন্স অব পিস-এ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলার সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ শাহাব উদ্দিন বেলাল। ২৭ জানুয়ারি শনিবার বাদ জোহর ইস্ট লন্ডন মসজিদে তাঁর নামাজের জানাযা সম্পন্ন হয়। এসময় বিপুল সংখ্যক কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদগন উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন বেলাল ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে, ১ মেয়ে নাতি-নাতনীসহ বহু আত“ীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এদিকে নামাজে জানাযা শেষে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সিনিয়র সাংবাদিকরা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, শাহাব উদ্দিন বেলাল ৭০, ৮০ ও ৯০ দশকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে বাঙালিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে লেখনি ও আন্দোলনের মাধ্যমে কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যান। সাবেক কাউন্সিলার ও বর্ণবাদ বিরোধী নেতা রাজন উদ্দিন জালাল বলেন, শাহাবুদ্দিন বেলাল ছিলেন বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামী কমিউনিটি নেতা। আমাদের সমাজের অধিকার আদায়ে তাঁর ভুমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি অনেক ক্ষেত্রে ছিলেন আপোসহীন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ বলেন, বেলালকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল আন্দোলন সংগ্রামে কাছে থেকে দেখেছি। তার মতো এমন নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক মানুষ আমি খুবই কমই দেখেছি। সে আমৃত্যু স্বাধীনতা দেশপ্রেম, বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনা সকলের প্রতি মায়া শ্রদ্ধা ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দেখিয়েছে। তার মত সৎ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ খুবই বিরল। মেয়র জন বিগস বলেন, শাহাব উদ্দিন আমার খুবই ভাল বন্ধু ছিলেন, আমরা এক সাথে লেবার পার্টিতে কাজ করেছি। আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, শাহাব উদ্দিন বেলাল ছিলেন সকলের কাছে খুবই প্রিয়। তাঁর একটা আলাদা আন্তরিকতা ছিলো সবার জন্য। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কমিউনিটি লিডার হিসেবেও তার ভূমিকা ছিলো অনেক। বিশেষ করে মেইনস্ট্রিম রাজনীতিতে লেবার পার্টির শুরুর দিকে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। তিনি বাংলা মিডিয়াকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাথে যুক্ত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক নবাব উদ্দিন বলেন, আমরা একজন বন্ধুকে হারিয়েছি। তিনি কমিউনিটির খুবই সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও সংবাদিক হিসেবে কমিউনিটি কাজ করে গেছেন। তিনি বলেন, তাকে হারিয়ে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পুরণ হবার নয়।
সাংবাদিক রেজা আহমেদ ফয়সল চৌধুরী সুয়েব বলেন, আমি তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। যখন কুদ্দুছ আলীকে বর্ণবাদীরা হামলা করেছিল তখন দেখেছি পুলিশী হামলাকে উপেক্ষা করে মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি লেখক ও সাংবাদিক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। সাপ্তাহিক সুরমার সাবেক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন বলেন, শাহাব উদ্দিন বেলাল ছিলেন খুবই অমায়িক ও স্বজ্জন ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি, এখানে লেবার পার্টির রাজনীতিসহ বাংলা মিডিয়ায় বিশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন। তিনি মানুষের চাকরি ও বাসস্থানের জন্যও কাজ করে গেছেন। সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বেলাল আহমদ বলেন, তার মৃত্যুতে শুধু সাংবাদিক সমাজের ক্ষতি হয়নি ও কমিউনিটিরও ক্ষতি হয়েছে। কমিউনিটির সকল আন্দোলনে বেলাল ভাইকে পাওয়া যেত। তিনি মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের প্রধান উপদেষ্টা সামসুদ্দিন খান বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ৭৫ পরবর্তীতে বেলাল আহমদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তখন হাতে গুনা যে কয়জন লোক ছিলেন, তার মধ্যে বেলাল ছিলেন অন্যতম। উল্লেখ্য মরহুম শাহাব উদ্দিন আহমদ বেলাল ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটের বিয়ানীবাজারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকদের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার দেহে বাইপাস অপারেশনসহ ছয়টি রিং বসানো হয়েছিল। ছয় মাস পূর্বে তার দেহে একটি পেস মেকারও লাগানো হয়।

