হাইকমিশনে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে জিএসসি’র স্মাকলিপি : ভোটার তালিকায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের নাম অন্তর্ভূক্তির দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জানুয়ারি ২০১৮
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নাম ‘বাংলাদেশের ভোটার তালিকায়’ অন্তর্ভুক্তি ও তাদের ভোটার আইডি কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ইতালি, সৌদি আরব ও মালেশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাই কমিশনের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস সমূহে সার্কুলার ইস্যু করা হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গ্রেটার সিলেট ডেভোলাপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইউকে। তবে দীর্ঘদিন যাবত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা দাবি জানানোর পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নির্বাচন কমিশনের সাথে মতবিনিময় এবং স্মারকলিপি প্রদানের পরও যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের প্রাথমিক তালিকায় রেজিস্ট্রেশন না করায় তাঁরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। এরই আলোকে গত ২২ জানুয়ারি সোমবার লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইনের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের চেয়ারপার্সন নূরুল ইসলাম মাহবুব, জেনারেল সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম কয়ছর, ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এমএ মান্নান, আব্দুল রাকিব সিকদার, জয়েন্ট সেক্রেটারি ড. মুজিবুর রহমান ও হাবিবুর রহমান রানা।
স্বারকলিপিতে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে উল্লেখ করে বলেন, আপনি অবশ্যই জানেন যে, বিগত দুই দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশীরা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। আপনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে প্রবাসী ভোটাধিকার বিল পাশ করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছেন। গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল ইউকে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসেনকে যুক্তরাজ্যে দাওয়াত দিয়ে এনেছিলো। সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার শাখাওয়াত হোসেন ও মোহাম্মদ ছহুল হোসেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে মতবিনিময় সভা করে ভোটার তালিকায় বৃটিশ বাংলাদেশিদের নাম অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। এদিকে ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বাংলাদেশে গিয়ে প্রবাসীরা বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকার হন। আমরা আশ্চর্য হয়েছি যে, বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশন আমাদের বার বার আশ্বাস দেওয়ার পরও এবার যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের উপেক্ষা করে অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের নাম অন্তর্ভুক্তির ও ভোটার আইডি কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এতে আমরা হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকরণ ও ভোটার আইডি কার্ড প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করার জোর আবেদন জানাচ্ছি। আশা করি, বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদান বিবেচনা করে ভোটার নিবন্ধন, দ্বৈত নাগরিকত্ব কার্ড ও ভোটার আইডি কার্ড প্রদান এবং ভোট প্রদানের সকল ব্যবস্থা হাই কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

