কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে ২১ কোটি টাকা লোপাট, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দেশ ডেস্ক:: কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ঢাকার কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ২১ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ব্যাংকটির এমডিসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদি হয়ে কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এজাহারে বলা হয়, সাবেক ভূমিন্ত্রীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের একজন কর্মচারী মোহাম্মদ মিছবাহুল আলমের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ওই ব্যাংক থেকে ২১ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। ব্যাংকের ঢাকার কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। মিছবাহুল আলম ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে নিজেকে মডেল ট্রেডিংয়ের মালিক হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। পরে ওই প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করে ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় একটি চলতি হিসাব খুলেন। শাখার সাবেক কর্মকর্তা শ্রাবন্তী মজুমদার ও অপারেশন ম্যানেজার মোসাদ্দেক মো. ইউসুফ কোনো রূপ যাচাই ছাড়াই হিসাব খুলার সুযোগ দেন।
এতে আরও বলা হয়, তিনি ৩০ কোটি টাকার ঋণের আবেদন করেছিলেন। পরে ২১ কোটি টাকার অনুমতি দেওয়া হয়। ঋণের প্রস্তাবনায় শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম রাকিব (এফএভিপি ও ক্রেডিট ইনচার্জ), মোসাদ্দেক মো. ইউসুফ (এসভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার) এবং আলমগীর কবির (এসভিপি ও শাখা প্রধান) মিথ্যা পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে গ্রাহককে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে কাগুজে গুদামঘর, হাজার হাজার মেট্রিক টন স্টক ও শত কোটি টাকার পণ্য মজুদের ভুয়া তথ্য দেওয়া হয়।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৮ সালের জুলাই-আগস্টে ঋণের অর্থ মডেল ট্রেডিং-এর হিসাবে জমা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা নগদে উত্তোলন ও বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়। ইউসিবিএলের অন্য এক গ্রাহকের নামে অনুমোদিত ২৫ কোটি টাকার আরেকটি ঋণের অর্থ ঘুরিয়ে এনে মডেল ট্রেডিং-এর ২১ কোটি টাকার দায় সমন্বয় দেখানো হয়। অর্থাৎ একটি অপরাধলব্ধ ঋণ অন্য অপরাধলব্ধ ঋণের অর্থ দিয়ে পরিশোধ দেখানো হয়েছে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২)(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, মডেল ট্রেডিংয়ের মালিক ও আরামিটের কর্মচারি মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম, হিসাব খোলার পরিচয়দানকারী মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ, ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আখতার মতিন চৌধুরী, এম এ সবুর, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার শ্রাবন্তী মজুমদার, সাবেক এফএভিপি ও কারওয়ান বাজার শাখার ম্যানেজার (অপারেশন) মোসাদ্দেক মো. ইউসুফ, সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার মুঝায়োনা সিদ্দিক, সাবেক এভিপি ও ক্রেডিট অফিসার মোহাম্মদ গোলাম রাকিব, ইউসিবির সাবেক এফভিপি ও কারওয়ান বাজার শাখার প্রধান আলমগীর কবির, আরামিট গ্রুপের এজিএম (ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং) মো. আব্দুল আজিজ ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের এক্সিকিউটিভ (একাউন্টস) মো. ইউসুফ চৌধুরী।

