পূর্ব লন্ডনে বৃটিশ-বাংলাদেশী রাইস আহমদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা : শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশী ড্যানিয়েলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
তাইসির মাহমুদ, লন্ডন, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : গত বছরের অক্টোবরে পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যামের কাস্টমস হাউস এলাকায় ৫০ বছর বয়সী বৃটিশ-বাংলাদেশী রইস আহমদকে হত্যার দায়ে শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশী ৪৬ বয়সী ড্যানিয়েল হোয়াইব্রোকে ন্যূনতম ২৪ বছরের সাজাসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে । তিনি নিউহামের হার্টিংটন রোডের বাসিন্দা । ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে বিচার শেষে এই সাজা ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণাকালে বিচারক বলেন, ড্যানিয়েল বর্ণবাদী বিদ্বেষ প্রদর্শন করেছেন— যদিও এটিকে সম্পূর্ণভাবে বর্ণবাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা যায় না। গ্রেপ্তারের পর হোয়াইব্রো ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতি এবং দুইজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিও বর্ণবাদী গালিগালাজ করেছিলেন।
মেট পুলিশের স্পেশালিস্ট ক্রাইম ইউনিটের ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর সামান্থা টাউনসেন্ড বলেন:
“এই কঠিন সময়ে আমার চিন্তা-ভাবনা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। আমি আশা করি এই সাজা তাদের জন্য সামান্য হলেও শান্তি ও ন্যায়বিচার বয়ে আনবে।”
আদালতের শুনানী থেকে জানা যায়, গত বছরের ৫ অক্টোবর (২০২৪) একই ফ্ল্যাট ব্লকে বসবাসকারী দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধ শুরু হয় । রাইস তাঁর স্ত্রীকে জানান, তিনি যখন বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন তখন হোয়াইব্রো তাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। ধারণা করা হয়, ফ্ল্যাটের মূল দরজা খোলা রাখা নিয়ে তাদের মধ্যে এ বিরোধ তৈরি হয়। পরে রাইস তার বন্ধুকে ডাকেন এবং দু’জনে একসঙ্গে ফ্ল্যাটে ফিরে এসে হোয়াইব্রোকে দেখতে পান। তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়, এরপর হোয়াইব্রো নিজের রান্নাঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে হাত বাড়িয়ে একটি ছুরি নেন । তখন সে চিৎকার করে বলতে থাকে, “আমি তোমাকে মেরে ফেলব” এবং রাইসের বন্ধুকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেন।
ডিটেকটিভরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পান, হোয়াইব্রো এরপর রাইসের দিকে ছুটে আসে এবং তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে । রাইস মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও সে ছুরিকাঘাত করতে থাকে । আত্মরক্ষার জন্য রাইস একটি স্টিয়ারিং লক হাতে নিলেও হোয়াইব্রো তার ওপর হামলা চালতে থাকে ।
খবর পেয়ে অম্বুল্যান্স সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায় । প্রতিবেশীরাও হোয়াইব্রোকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসে। লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও লন্ডনস এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্যারামেডিকরা রাইস আহমদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলায় আহত তাঁর ১৬ বছরের কিশোর ছেলেকেও হাসপাতালে নেওয়া হয় । তার আঘাত জীবন-সংকটজনক বা স্থায়ী ক্ষতির মতো না হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হামলার পর হোয়াইব্রো তার ফ্ল্যাটে ফিরে যায়। দ্রুত সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে শনাক্ত করে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
আদালতে ৬ অক্টোবর ২০২৪ তার বিরুদ্ধে প্রথমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। তবে ৭ অক্টোবর রাইস আহমদের মৃত্যুর পর অভিযোগ পরিবর্তন করে হত্যা মামলা করা হয়।
গত ২২ আগস্ট (২০২৫) শুক্রবার স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্টে হত্যার দায়ে হোয়াইব্রো দোষী সাব্যস্ত হন। ৩ সেপ্টম্বর হত্যা মামলায় ২৪ বছরের সাজা এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতির দায়ে আরও ৬ বছরের সাজা দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একইসঙ্গে চলবে।

