সিলেটে ১০ মিলিয়ন পাউণ্ড ব্যয়ে গড়ে ওঠছে এনআরবি হাসপাতাল : ২৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ফান্ডরেইজিং ডিনার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ আগস্ট ২০২৫
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এনআরবি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান । বামে প্রজেক্টের সিনিয়র প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর শফিকুল ইসলাম শিকদার । ডানে ব্রান্ডিং এন্ড মার্কেটিং ডাইরেক্টর আরাফ বিন তারেক
দেশ ডেস্ক, ৯ আগস্ট ২০২৫ :সিলেটের বালাগঞ্জের ওসমানীনগরে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে গড়ে ওঠছে ২৫০ শয্যার এনআরবি হাসপাতাল । পর্যায়ক্রমে সেখানে প্রতিষ্ঠা হবে মেডিকেল কলেজও। এই হাসপাতাল নির্মাণে ইতোমধ্যে ২.৫ মিলিয়ন পাউণ্ড সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বাকি অর্থ সংগ্রহণের জন্য ফান্ডরেইজিং অব্যাহত রয়েছে । এ লক্ষ্যে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যা ৭টায় রমফোর্ডের দ্যা সিটি প্যাভেলিয়ান ভেনুতে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ফান্ডরেইজিং ইভেন্ট । এতে প্রায় ১১শ অতিথি অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।
৮ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে পূর্ব লন্ডনের একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, এটি হবে একটি মডেল হাসপাতাল । সুযোগ-সুবিধা থাকবে বিশ্বমানের । চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এমন অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকবে, গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীরা এই হাসপতালে চিকিৎসা-সুবিধা নিতে ছুটে আসবেন । তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৮ সালের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন হাসপাতাল প্রজেক্টের সিনিয়র প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর শফিকুল ইসলাম শিকদার ও ব্রান্ডিং এন্ড মার্কেটিং ডাইরেক্টর আরাফ বিন তারেক ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লুৎফুর রহমান বলেন, এনআরবি হাসপাতাল হবে একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, যেখান থেকে প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগণের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে । তিনি বলেন, আমরা কেবল একটি হাসপাতাল গড়ছি না, আমরা গড়ছি একটি ভবিষ্যৎ এবং একটি স্বপ্ন। এই হাসপাতাল হবে মানবসেবার একটি কেন্দ্রবিন্দু।
এই প্রকল্পটি প্রমাণ দিচ্ছে, কীভাবে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিশ্বব্যাপী তাদের প্রতিভা ও কষ্টে অর্জিত অর্থকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি টেকসই হাসপাতালের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেন।
তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার গুণীজন, চিকিৎসক থেকে শুরু করে আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সম্মানিত প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তাঁরা শুধু আর্থিকভাবে সাহায্যই নয়, বরং পেশাগত পরামর্শ, নেটওয়ার্কিং ও নেতৃত্ব দিয়ে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিচ্ছেন, এগিয়ে নিবেন এবং সফল করবেন । ইতিমধ্যে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী এই মহতী উদ্যোগে দান করে হাসপাতালের মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
জনাব লুৎফুর রহমান আরো জানান, আগামী ফান্ডরেইজিং ইভেন্টে আগ্রহীরা ১ হাজার পাউন্ড পরিশোধ করে ফাউন্ডার মেম্বার অথবা ৫০ হাজার পাউন্ড দিয়ে পেট্রন হতে পারবেন । এছাড়াও আরো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে হাসপাতালের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দানের অর্থ এককালীন অথবা ১ থেকে ৫ বছর মেয়াদের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি স্তরের সঙ্গে থাকছে আজীবন স্বাস্থ্যসেবা, সম্মাননা ও পরিবারের জন্য বিশেষ সুযো-সুবিধা।
লুৎফুর রহমান বলেন, হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ২৫০টি ইনপেশেন্ট বেড, ৫০টি আইসিইউ বেড, ১২টি অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক টেলিমেডিসিন ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা, একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট।
এর আগে প্রথম ধাপের তহবিল সংগ্রহে ওসমানী নগরের উমরপুর ও আশারকান্দি ইউনিয়নের অধিবাসী ১৫০ জন প্রবাসী দাতা সদস্য হিসেবে ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । ইতিমধ্যে ওসমানী নগরে পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণ করে শুরু হয়েছে আর্কিটেকচারাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং পরিকল্পনা।
আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে বহির্বিশ্বের সর্বস্তরের প্রবাসীদের প্রতি আহবান, আপনি বা আপনার পরিবার ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে এই ইতিহাসের অংশ হোন । আপনার মাধ্যমে আরও অনেকে এই মহতী প্রচেষ্টায় অংশ নিতে পারেন।
নির্মাণাধীন এনআরবি হাসপাতালের নকশা

