কেন্দ্রীয় ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জুলাই ২০২৫
দেশ ডেস্ক:: কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সারাদেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর শাহবাগে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অর্গানোগ্রামের (সাংগঠনিক কাঠামো) সিদ্ধান্তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারাদেশের সকল কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।’
তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যনার ব্যবহার করে নামে-বেনামে অনেক ধরনের অপকর্ম করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। আমরা যেদিন আত্মপ্রকাশ করি সেদিনই সতর্ক করেছিলমা যে, এই ধরনের কোনোকিছু বরদাস্ত করা হবে না।’ যারা অনৈতিক কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রিফাত রশিদ বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।’
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম ও সাদাব এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদের বিরুদ্ধে। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর গতকাল সংগঠন দুটি থেকে তাদের স্থায়ী বহিস্কারও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শাম্মি আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর গুলশান থানায় ছয় জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ১৭ জুলাই আসামি আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বাদীর গুলশান ২ এর বাসায় হুমকিধমকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চাঁদা দাবি করেন। অপারগতা প্রকাশ করলে, তাকে আওয়ামী লীগের ও স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর হুমকি দেয়। ভয়ে তাদেরকে ১০ লাখ টাকা দেন। পরে ১৯ জুলাই পুনরায় বাকি ৪০ লাখ টাকা জন্য যায়। সেদিনও হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে গত ২৬ জুলাই চাঁদা নিতে আসলে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আটক করে। এ সময় কাজী গৌরব অপু পালিয়ে যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মুরাদনগর উপজেলার মুখপাত্র খাদিজা আক্তার কেয়া। শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
নিজের পোস্টে কেয়া লেখেন, ‘যার জন্য করলাম চুরি, সেই বলে চোর! এটা আমার ক্ষেত্রেই যে প্রযোজ্য হবে না, কে বলল? আপনারা সবাই জানেন আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন দায়িত্বশীল কর্মী ছিলাম। কিন্তু আজকের পর থেকে এই আন্দোলনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি প্লাটফর্মে এসেছিলাম মুরাদনগর থেকে। সেই অভ্যুত্থানে আমাদের হাজারো ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন। আমি তাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারি না। তাই আমি নিজেই এইসব কিছু থেকে সরে দাঁড়ালাম। আজ থেকে এই প্লাটফর্মের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না।’
এ বিষয়ে কেয়া মুঠোফোনে সমকালকে বলেন, ‘সম্প্রতি কুমিল্লা টাউনহল মাঠে এনসিপির পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের লোকজন সামনের সারিতে ছিলেন। যারা আমাদেরকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বাধা দেয়। এ বিষয়গুলো দেখে মনে হয়েছে আমাদের শহীদের সঙ্গে বেঈমানি করা হচ্ছে। এগুলো দেখে এই ফ্ল্যাটফর্মে আমি থাকতে চাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এসব ঘটনার পর রোববার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারাদেশের সকল কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

