স্বজনদের আহাজারিতে ভারী বার্ন ইউনিট
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ জুলাই ২০২৫
দেশ ডেস্ক:: রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আরিয়ানের মা আঁখি আক্তারের আহাজারিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এলাকা শোকার্ত হয়ে উঠেছে। ১০ বছর বয়সী আরিয়ান একটি ভবনে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় এই হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের ৬০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে।
আঁখি আক্তারের সঙ্গে থাকা একজন আত্মীয় জানালেন, দুপুরে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত হবার পর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বার্ন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার অবস্থা ভালো নয়।
এই আরিয়ানসহ আগুনে পোড়া অনেক রোগীকে বার্ন হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাদের একজন বাপ্পি সরকার মাইলস্টোনের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। চতুর্থ তলার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বাপ্পির শরীরের ৬৫ ভাগ পুড়ে গেছে।
বাপ্পির বাবা শাহীন সরকার জানান, তার ছেলে দুর্ঘটনা কবলিত মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ ভবনের শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুপুরেই তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুড়ে গেছে। আহাজারি করে তিনি বলতে থাকেন, ‘সময় যাচ্ছে আর ছেলের শ্বাসকষ্ট বাড়ছে, এখন আমি কি করি!’
কেবল আরিয়ান বা বাপ্পি নয়, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে আজ সোমবার বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত দগ্ধ ৭০ জনকে। অধিকাংশেরই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধ অধিকাংশের শরীরের ৫০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে।
বেলা সোয়া একটার দিকে স্কুল ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে দগ্ধদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আসতে থাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে। তাদের প্রত্যেকেরই হাত, পা, মুখ, বুক, পিঠ ঝলসে গেছে। কেউ কেউ গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র, ছাত্রী ও শিক্ষক রয়েছেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটে আসা দগ্ধদের মধ্যে শিক্ষার্থী বেশি। তাদের অধিকাংশ চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হাসপাতালে নিয়ে আসার পরপর তাদের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। জরুরি বিভাগে আনার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন। পরে সেখান থেকে তাদের হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।
চতুর্থ তলার আইসিইউতে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ৮ জন, ষষ্ঠ তলার আইসিইউতে ছয়জন এবং সপ্তম তলার আইসিইউতে ছয়জন গুরুতর দগ্ধ রয়েছেন।
মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র উক্যছাইন মারমাকে সপ্তম তলার আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তার মা ও স্বজনরা আহাজারি করছেন আইসিইউর সামনে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক মো. মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেল পর্যন্ত তারা ৭০ জন ভর্তি হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। অধিকাংশের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।’

