তত্ত্বাবধায়কের রূপরেখা দেবে বিএনপি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জুন ২০২৩
দেশ ডেস্ক:: জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা দেবে বিএনপি। এই নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনাও করছে দলটি। গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এজন্য সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি। আরও আলোচনা করছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটা রূপরেখা আসবে বলে আশা করি। এ সময় তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেহেতু আওয়ামী লীগ বাতিল করেছে, অতএব তাদেরই এটা সংবিধানে সংযোজন করে পদত্যাগ করতে হবে।
চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে যারা আছেন, সেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে আন্দোলনকে আরও জোরদার করা হবে। গত রবিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের ভাড়া বাসা ফিরোজায় দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মির্জা ফখরুল। মতবিনিময়সভায় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম এবার হাসপাতাল থেকে ফেরার পর একটু ভালো আছেন। কিন্তু ওনার মূল সমস্যা লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, হার্টের সমস্যা। মেডিক্যাল বোর্ড বারবার বলছে, দেশের বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। সেটা তো হচ্ছে না। সে জন্য আমরা বলি, ওনার রিস্ক (ঝুঁঁকি) থেকে যাচ্ছে।’
সংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা দল ও দেশের নানা বিষয় নিয়ে জানতে চান মহাসচিবের কাছে। খোলামেলা জবাবও দেন তিনি। বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের পর এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে, দল বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংবিধান হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে যেভাবেই হোক দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে এই অবস্থা করেছে। এ সময় তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীও বৈধ নয়, একই কারণে সরকারও বৈধ নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ওনারা (আওয়ামী লীগ) বলেন, উনি (শেখ হাসিনা) ছাড়া কেউ নেই। এটা ফ্যাসিবাদী মনোভাব। আপনারা গণতন্ত্র চালু করেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিলে দেখা যাবে যথেষ্ট যোগ্য নেতৃত্ব আছে, যারা দেশ পরিচালনা করতে পারবে। এ সময় তিনি সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো সময় আছে, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মানুষকে বোকা বানিয়ে ভুল বুঝিয়ে বলা যায়- আমাদের অর্থনীতি অনেক শক্ত-সবল। অথচ প্রত্যেক অর্থনীতিবিদ বলবেন যে, দেশে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। অত্যন্ত বড় রকমের সংকট চলছে। রিজার্ভ অত্যন্ত কমে গেছে, ব্যাংকগুলো থেকে টাকা পাচার হয়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমিয়ে আনার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। জনগণের কাছে এই সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
এখন পর্যন্ত এই সরকারের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, রবিবার রাত ১০টায় কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি নেতা আবদুল কালামের বাড়িতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ চার-পাঁচশ নেতাকর্মী সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালিয়েছে। তার বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে, সমস্ত কিছু লুটপাট করেছে এবং সামনের সড়কও কেটে দিয়েছে। এ সময় ৮-৯ জন নেতাকে কুপিয়েছে। এর ছবি দেখিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এরা নাকি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করবে?’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, নির্বাচন করতে পারেন এমন বিরোধী দলের নেতাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তুলে নিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, তাদের চাকরি পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এখানে কীভাবে আশা করেন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে?
বাংলাদেশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিসহ গণতান্ত্রিক বিশে^র মনোভাবের প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, কিছুদিন আগেও তো আমেরিকা এসব কথা বলেনি, কানাডাও বলেনি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও কোনো কথা বা চিঠি দেয়নি। এখন কেন দিচ্ছে? নির্বাচনটা ঘনিয়ে আসছে। গণতান্ত্রিক বিশ^ চায়, বাংলাদেশের মানুষ যেহেতু গণতন্ত্র চায় এবং একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, তাই তাদের দায়িত্ব হিসেবে তারা এই কথাগুলো বলছেন। তাদের নিয়মে তারা ব্যবস্থাগুলো নিচ্ছে। আমরা এতে পুলকিত নই। কারণ এটা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার ব্যাপার। সরকারের ব্যর্থতার কারণে গণতান্ত্রিক বিশ^ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে।
মতবিনিময়সভায় এক দফা আন্দোলন খুব শিগগির আসবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কৌশল অনুযায়ী এগোতে চাই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ না থাকলে নাকি উন্নতি হয় না, কোথায় উন্নয়ন? কাঁচামরিচের কেজি ৪০০ টাকা। কোথায় নিয়ন্ত্রণ আছে সরকারের, সরকার আছে?

