যুক্তরাজ্য-কানাডায় পোশাক রপ্তানি বাড়লেও কমেছে যুক্তরাষ্ট্রে
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জুন ২০২৩
দেশ ডেস্ক:: চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য, কানাডায় রপ্তানি বেড়েছে একইসঙ্গে অপ্রচলিত বাজারেও তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। সম্প্রতি দেশভিত্তিক রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়ে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশ ২১.২২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা মোট রপ্তানির ৪৯.৭৮ শতাংশ।
এদিকে জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৬৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪২.৬৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে শুধু ইউরোপের বাজার থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ২১.২২ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যে ৪.৫৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির ১০.৭৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে গেছে মোট রপ্তানির ১৮.১৪ শতাংশ পোশাক, যা থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৭.৭৩ বিলিয়ন ডলার।
কানাডায় গেছে আলোচ্য সময়ে মোট রপ্তানির ৩.২৬ শতাংশ তৈরি পোশাক। এ থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১.৩৯ ডলার। এ ছাড়া অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮.০৪ শতাংশ, যা থেকে আয় হয়েছে ৭.৬৯ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৫.০৭ শতাংশ কমেছে। এতে রপ্তানি আয় ৮.১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৭.৭৩ বিলিয়ন ডলার নেমেছে।
একই সময়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় রপ্তানি যথাক্রমে ১২.১৭ শতাংশ ও ১৭.৬২ শতাংশ বেড়েছে।
অপ্রচলিত বাজারে আলোচ্য ১০ মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৮.০৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে ৪৫.৫০ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে রাশিয়া ও চিলিতে যথাক্রমে ২৮.৮২ শতাংশ ও ১১.৭৯ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বিজিএমইএ’র পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। কারণ এটি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য, যেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে সময়ের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-মে পর্যন্ত সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯.৯৪ শতাংশ। পোশাক রপ্তানির আয় ১৯.৩০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২১.২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, জার্মানিতে উল্লেখিত সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের (জুলাই-মে) তুলনায় রপ্তানি ৭.২২ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি ৬.৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৬.০৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ফ্রান্সে ২.৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় বেড়ে ২৩.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর ইতালিতে ২.০৬ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৪৪.৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

