‘অধ্যক্ষ প্রফেসর হাসান ওয়ায়েজ ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর’
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুন ২০২৩
এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম :: সিলেট এমসি কলেজের কিংবদন্তিতুল্য সাবেক অধ্যক্ষ, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ প্রফেসর হাসান ওয়ায়েজ ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। তিনি ছিলেন কলেজের একজন নিবেদিত প্রাণ। তার চিরবিদায়ে জাতি যেন বিবেক আর নীতির শেষ শেষ নির্যাস হারালো। হাসান ওয়ায়েজের শুন্যতা কোনোভাবে পূরণ হবার নয়।
সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সময়ে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ, ছাত্র রাজনীতি, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক, পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রমের উন্নয়নে তাঁর দক্ষতা, আন্তরিকতা, সাহসিকতা কিংবদন্তিতুল্য হয়ে আছে।
গত ০৫ জুন সোমবার রাতে ব্রিটেনের নর্থাম্পটন আল জামাতুল মুসলিমিন অফ বাংলাদেশ মসজিদে নর্থাম্পটনে বসবাসরত এম সি কলেজের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত হাসান ওয়ায়েজের শোক সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
এমসি কলেজের সাবেক ছাত্র শামসুদ্দিন সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ দিলাল মিয়ার পরিচালনায় শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এম এ ফাত্তাহ চৌধুরী ফয়ছল।

অধ্যক্ষ ড হাসান ওয়ায়েজের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে আলোচনা করেন ফয়সল আহমদ, ফিরোজ মিয়া, আবদুল মুকিত, কাউন্সিলর এনামুল হক, কাউন্সিলর তুরন মিয়া প্রমুখ। সভায় তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম ও খতিব আবু বক্কর।
উল্লেখ্য, প্রফেসর হাসান ওয়ায়েজ এর পিতা খ্যাতিমান সাহিত্যিক প্রফেসর আবু হেনা ছিলেন এমসি কলেজের অধ্যক্ষ। পিতার চাকুরির সুবাদে প্রফেসর হাসান ওয়ায়েজ সিলেট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স করেন। তিনি ১৯৬১ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পদে সহকারী পরিচালক, উপ-পরিচালক, এমসি কলেজ ও আনন্দমোহন কলেজের অধ্যক্ষ, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে দক্ষতার সাথে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমসি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর সময়কাল কিংবদন্তিতুল্য হয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন তাঁর সহকর্মী-শিক্ষার্থীরা। ১৯৮৯ সালে জানুয়ারি মাসে তিনি এমসি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করে ১৯৯২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়কালকে তৎকালীন শিক্ষার্থীরা কলেজের ‘স্বর্ণালি সময়’ বলে উল্লেখ করেন।

