বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় পালের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাই কমিশনারের শোক
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ জানুয়ারি ২০২৩
দেশ ডেস্ক:: একাত্তরের কলমযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় পালের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
গত ০৮ জানুয়ারি এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, অজয় পাল পাঁচ দশকেরও অধিক সময় সাংবাদিকতা পেশায় নিবেদিত ছিলেন। ১৯৭০ সালে সিলেটের প্রাচীনতম সংবাদপত্র যুগভেরী থেকে শুরু করে সিলেটের স্থানীয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় অজয় পাল তাঁর মেধাবী সাংবাদিকতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের আগরতলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জাগরণেরও সাংবাদিক ছিলেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তাঁর লেখনীর মাধ্যমে অবদান রেখে গেছেন। বিলেতেও বাংলা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে জনাব অজয় পাল তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, অজয় পালের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বাংলা সংবাদ-মাধ্যম ও সাংবাদিকগণ, তদপুরী বৃটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটি একজন অভীজ্ঞ ও নিবেদিত সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যক্তিত্বকে হারালো। আমি অজয় পালের বিদেহী আত্মার পরম শান্তি কামনা করছি।
প্রসঙ্গত, একাত্তরের কলমযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় পাল গত শনিবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে গত বুধবার ব্রেন স্ট্রোক করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।
সত্তরের দশকে সাপ্তাহিক ‘যুগভেরী’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন অজয় পাল। তিনি কাজ করেছেন বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কানাডার স্বনামধন্য সব সংবাদমাধ্যমে। বাংলাদেশে জাতীয় দৈনিকের মধ্যে বাংলার বাণী, দৈনিক সংবাদ, দেশবাংলা ও বাংলাবাজার পত্রিকা ছাড়াও সিলেটের স্থানীয় দৈনিক সিলেট বাণী পত্রিকায়ও কাজ করেন কিছুদিন। আর সাপ্তাহিকের মধ্যে যুগভেরী, সিলেট সমাচার, দেশবার্তা ও সিলেটধ্বনি পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন বহুদিন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমা, জাগরণ, পত্রিকা, দেশবার্তা, পূর্বদেশ ও কানাডা থেকে প্রকাশিত বাংলা নিউজ পত্রিকার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন । ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত মাসিক হৃদয়ে বাংলাদেশ ম্যাগাজিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন তিনি।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি ছড়াসাহিত্যেও অজয় পাল ছিলেন অনবদ্য। শব্দে-বাক্যে টানতেন চমৎকার অন্তমিল। গান রচনায়ও তিনি ছিলেন বেশ সাবলীল। তাঁর লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সুবীর নন্দী, হিমাংশু গোস্বামীর মতো খ্যাতনামা শিল্পীরা।
২০০১ সালে অজয় পাল কিউবার হাভানায় অনুষ্ঠিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি কনভেনশনে বাংলাদেশ সংসদীয় দলের সঙ্গে সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।

