উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো দ্বিতীয় সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২
বৃটেনে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো গোলাপগঞ্জবাসীদের প্রাণের উৎসব দ্বিতীয় সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব-২০২২। বিলেতে বহুজাতিক সংস্কৃতির মাঝে বাংলাদেশিদের মূল শেঁকড় বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি-কৃষ্টিকে লালন আর ধার করে গত ৪ সেপ্টেম্বর রোববার পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠে। যেন গোলাপগঞ্জবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এতে যোগ দিতে লন্ডন ছাড়াও লুটন, বার্হিমংহাম, কেন্ট, আশফোর্ড, রেডিং, মানচেস্টারসহ বিভিন্ন শহর থেকে সকাল ১০টা সবাই জড়ো হতে থাকে ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারের সামনে।
এখানে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন উৎসব উদযাপন কমিটির আহŸায়ক আবু তাহের। এরপর পরই উদযাপন কমিটির সদস্যসহ প্রায় ৫০ টির মতো সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানারে দুপুর সাড়ে ১২টায় র্যালী শুরু করে বাংলা টাউন হয়ে শেষ হয় উৎসবের মূল হল ব্রাডি আর্ট সেন্টারে। উৎসবে গোলাপগঞ্জ উপজেলা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কাউন্সিলরবৃন্দ, সাংবাদিক, সপরিবারে উপস্থিত হয়েছিলেন। দুপুরের খাবারের বিরতির পর বিকাল ৪টায় জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের ২য় পর্ব। জাতীয় সংগীতের পর পরই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব তমিজুর রহমান রঞ্জু।
গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র, বিয়ের গান, ধামাইল, পুঁতি, সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কবিতা, সিলেটি নাটক আর সিলেটি গান। উৎসবে কমিউনিটিতে অবদানের জন্য প্রথমবারের মতো গোলাপগঞ্জের গুণীজনদের মধ্যে ৫ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা ও ৪ জনকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। মরণোত্তর সম্মাননা প্রাপ্ত গুণীজন হলেন, তাসাদ্দুক আহমেদ, নেছার আলী, নবাব আলী, হাফিজ মজির উদ্দিন ও খন্দকার ফরিদ উদ্দিন এবং আজীবন সম্মাননা প্রাপ্ত গুণীজন সালেহ আহমদ খাঁন এমবিই, হাফিজ শামছুল হক, ইসহাক আলী ও আতাউর রহমান খান।
এছাড়াও ব্যবসা ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সফলতার জন্য তিনজনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন, স্টক অন ট্রেন্ট এর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও ক্যাটারার্স আব্দুল মতিন, আকলু প্লাজার স্বত্বাধিকারী ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ী আকলু গ্রæপের চেয়ারম্যান আকলু মিয়া, বারাকা পতেংগা পাওয়ার লিমিটেড চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম রাব্বানী চৌধুরী। মরণোত্তর সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ। বাবার কর্মের স্বীকৃতি নিজ এলাকার পক্ষ থেকে পেয়ে গর্ববোধ করেন সন্তানেরা। প্রথমবারের মতো সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসবের মাধ্যমে এ সম্মাননা প্রদান করায় তা সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুণীজনদের সম্মানিত করতে পেরে আনন্দিত বলে জানিয়েছে উৎসব কমিটি।
অনুষ্ঠানের অতিথি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটিতে গোলাপগঞ্জের গুণীজনদের গুরুত্ব অপরিসীম। গোলাপগঞ্জবাসীর ইতিহাস গৌরবের। সকলের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে গোলাপগঞ্জ উৎসব এটা অন্যান্য উপজেলার মানুষের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ থেকে উৎসবে যোগ দিতে আসা দৈনিক শুভ প্রতিদিন পত্রিকার স¤পাদক ও প্রকাশক সারওয়ার হোসেন বলেন, আমি গর্বিত আমার নানাবাড়ি গোলাপগঞ্জে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্য প্রবাসী গোলাপগঞ্জবাসীদের ভুমিকা অপরিসীম। আজ লন্ডনের এ উৎসব যেন একখÐ গোলাপগঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় মেয়র লুৎফুর রহমানকে আজীবন সম্মাননার উত্তরীয় পরিয়ে দেন আহŸায়ক আবু তাহের ও সাংবাদিক আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল এবং সারওয়ার হোসেনকে আজীবন সম্মাননার উত্তরীয় পরিয়ে দেন সদস্য সচিব তমিজুর রহমান রঞ্জু ও কোষাধ্যক্ষ মাসুদ আহমেদ জোয়ারদার।
এছাড়াও উৎসবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার ও সাবেক ডেপুটি মেয়র আ ম অহিদ আহমদ, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ স¤পাদক ও সপ্তাহিক দেশ পত্রিকার স¤পাদক তাইসির মাহমুদ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাপ্তাহিক জনমত স¤পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, সাবেক প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক নবাব উদ্দিন, কবি ও সাহিত্যিক আহমেদ ময়েজসহ গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিল গোলাপগঞ্জ এর প্রতিটি গ্রাম নিয়ে জারীগান এবং সিলেটের জনপ্রিয় নাট্যকার ও অভিনেতা বেলাল আহমদ মুরাদ, এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি, বিপ্লব এষ -এর পরিবেশনায় নাটিকা। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন বৃটেন জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক ফারহান মাসুদ খান ও বিশিষ্ট আবৃতিকার মুনিরা পারভীন। সিলেটি কবিতা পাঠ ও আবৃতি করেন জনপ্রিয় আবৃতিকার মুনিরা পারভীন, ছড়াকার দিলু নাসের, কবি মাসুক ইবনে আনিস, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কবি মুজিবুল হক মনি, শতরুপা ও সাহেরা খাতুন। তরুণ বাঁশিবাদক বাঁশির টানে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে গান পরিবেশন করেন বিলেতের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী গৌরী চৌধুরী, আলাউর রাহমান, হাসি রানি, মিতা তাহের, শতরুপা দিলরুবা, মৃদুল ও মহিমা। নিত্য শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন সনিয়া সুলতানা, নন্দিনি, প্রেরণা, রিয়া। এছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠান পর্বে ছিলেন ক্ষুদে শিল্পীরা। তবলা, অক্টোপেড, কিবোর্ড পরিচালনায় ছিলেন বিলেতের স্বনামধন্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক পরিবার হলে ঢুকতে না পারায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন আগামীতে এ উৎসব যেন বৃহৎ পরিসরে পালন করা হয় যাতে সবাই সপরিবারে উপভোগ করতে পারেন। সবশেষে রাফেল ড্র এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

