শেখ কামাল অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব : স্পিকার শিরীন শারমিন
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ আগস্ট ২০২২
শেখ কামালের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে শান্তি ও সহনশীলতার শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের ছাত্র ও যুব সমাজের কাছে এক অসাধারণ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব শেখ কামাল। তিনি খেলার মাঠ থেকে নাটকের মঞ্চ, সংগীত জগত এবং সদ্য-স্বাধীন দেশে তরুণদের সুসংগঠিত করতে যে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন তা বিশ্বের যেকোনো দেশের তরুণ সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করবে।
শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের নামে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশন প্রবর্তিত পুরস্কারকে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে স্পিকার আরও বলেন, এই পুরস্কার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মকে শেখ কামালের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে ও অনুপ্রাণিত হতে আরো উৎসাহিত করবে।

স্পিকার শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ০৫ আগস্ট শুক্রবার বাঙালি অধ্যুষিত লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ‘শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল: রিমেম্বারিং এ ব্রিলিয়ান্ট ফ্রিডম ফাইটার এন্ড এ ইউথ আইকন’ শীর্ষক স্মারক অনুষ্ঠানে ডিসকাশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম।
বিশেষ অতিথি মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সদ্য-স্বাধীন দেশের পুন:গঠনে তরুণ সমাজকে সুসংগঠিত করে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন সেজন্য তিনি চির অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও তাঁর ঘনিষ্ট অনুসারীদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতেই ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫-এর কালরাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধিরা ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। এরপর তারা দেশে-বিদেশে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। বর্তমানেও এধরনের অপপ্রচার আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে এধরণের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিশেষ করে যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিদের সুদৃঢ় অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান।
স্বাগত বক্তব্যে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছিলেন একজন ট্রেন্ড সেটার, ভিসনারি ও আইকন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শক্ত ভিত্তির ওপরই আজ বাংলাদেশ বিশেষ করে বিশ্ব-ক্রীড়াঙ্গনেও গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান অর্জন করেছে।
যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ হাসান এমবিই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকান্ডে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে শেখ কামালের সহপাঠী ও ঘনিষ্ট বন্ধু এবং জাতীয় অলিম্পিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাম্বাসেডর সৈয়দ শাহেদ রেজা ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সিনিয়র ব্যক্তিত্ব সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকসহ বাংলাদেশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অনুরাগী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ মিরাজ সাদাত ও ব্রিটিশ-ইউক্রেনিয়ান তরুণ আলবার্ট এডওয়ার্ড সালিমোভ অংশগ্রহণ করেন।
অ্যাম্বাসেডর সৈয়দ শাহেদ রেজা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ কামালও ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও যুব নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একজন সার্বজনীন নেতা ছিলেন। তিনি শুধু নিজের আবাহনী ক্রীড়াচক্রের জন্যই নয়, অন্যান্য ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও সবসময় সক্রিয় ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাই কমিশনার অতিথি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিয়ে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পু®পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ও তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে হাই কমিশনার স্পিকার, মন্ত্রী ও অতিথিদের নিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ওপর বাংলাদেশ হাই কমিশন আয়োজিত এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে শেখ কামালের জীবনের ওপর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সকালে হাই কমিশনে দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

