সিলেট বিএনপিতে ফের দ্বন্দ্ব, বিভক্তি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ মার্চ ২০২০
সিলেট, ২ মার্চ :: অক্টোবরে হঠাৎ করে যখন সিলেট বিএনপি’র পুরনো ভাঙার গুঞ্জন শুরু হয় তখনই খোঁজা শুরু হয়েছিলো একজন যোগ্য আহ্বায়কের। প্রথমেই তারা টার্গেট করেছিলেন সিলেট বিএনপির সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা এম এ হককে। এরপর একেক করে সাবেক আহ্বায়ক নুরুল হক, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা সহ আরো কয়েকজন নেতার দ্বারস্থ হন সিলেট বিএনপি’র সাবেক কমিটির নেতারা।
কিন্তু আহবায়ক হতে সিনিয়র কেউই রাজি হননি। অবশেষে বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সহ সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদারকে আহবায়ক করা হয়। এরপর সিলেট বিএনপির যে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয় সেটি নিয়ে তুমুল বিদ্রোহ দেখা দেয় সিলেটে। বিভক্ত হয়ে পড়েন নেতারা। এই অবস্থায় এগিয়ে আসেন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সিলেট বিএনপির চার নেতা।
এরা হলেন- মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক, এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছিলো। এরপর আহবায়ক কমিটি কাজ শুরু করে। আহবায়ক কমিটি গঠনের প্রায় ৫ মাস পর জেলা বিএনপির অধিভুক্ত ১৮ ইউনিট বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার এই কমিটিগুলো ঘোষণার পর পরই বিভক্ত হয়ে পড়েছেন সিলেট বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্যরা। আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ১৫ জন সদস্য। আর অন্যদিকে- কাইয়ূম চৌধুরী-আব্দুল মান্নানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ৯ সদস্য। রোববার ৯ সদস্যের নেতারা এক বিবৃতিতে ঘোষিত কমিটিগুলো নিয়মতান্ত্রিক করা হয়নি বলে দাবি করেন।
তারা বলেন- আহবায়ক কমিটির সভা না করেই আহবায়ক সহ কয়েকজন সদস্য কমিটিগুলো ঘোষণা করেছে। পূর্বের বৈঠকগুলোতে নেয়া সিদ্ধান্ত পালন হয়নি বলে জানান তারা। এখন তাদের সব অভিযোগের তীর উঠেছে জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের বিরুদ্ধে। গতকাল আহবায়ক কমিটির ৯ সদস্য জানিয়েছেন- জেলা আহবায়ক কিছু সংখ্যক সদস্যদের ভোট ব্যাংক বাড়াতে কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ করেই ১৮টি ইউনিট গঠন করেছেন। তিনি সার্বজনীনভাবে কাজ না করার কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে। তারা আহবায়কের পদত্যাগ দাবিতে সোচ্চার হবেন বলে জানান।
এদিকে- গতকাল আহবায়ক কমিটির সদস্য নতুন করে বিবৃতি দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান। তারা বলেন- কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে, তৃনমূলের মতামতের ভিত্তিতে, যথাযথ নিয়ম মেনেই সকল ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর ইউনিটগুলোর তৃনমূল নেতাকর্মীরা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ইতিমধ্যে সকল ইউনিটের সদ্য সাবেক দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ঘোষিত ইউনিট কমিটি নিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি না করে দল পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত আহ্বায়কের স্বেচ্ছাচারিতার মিথ্যা অভিযোগ তুলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কতিপয় সদস্যের কমিটি প্রত্যাখ্যানের সংবাদে আমরা বিস্মিত হয়েছি। সকল ইউনিটে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা করে সকলের মতামতের ভিত্তিতেই সবগুলো কমিটি গঠিত হয়েছে। আর সবগুলো ইউনিট কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই ঘোষণা করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একাধিক সভায় কমিটির খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটিতে কোন বিশেষ বলয়কে প্রাধান্য না দিয়ে ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। কারো ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা না হওয়ায় কমিটি প্রত্যাখ্যান করে হিংসার বশবর্তী হয়ে বিবৃতি প্রদান এবং দলে কোন্দল সৃষ্টির দায় দল নেবে না। এব্যাপারে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি একটি বড় দল। সুতরাং বিএনপিতে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিহিংসা কখনোই কাম্য নয়। কমিটি নিয়ে বিতর্ক ও বিভ্রান্ত সৃষ্টি না করে ঘোষিত ইউনিট সমূহের কাউন্সিল সফলে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতি প্রদান করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল গফফার, আশিক উদ্দিন চৌধুরী, আলী আহমদ, অধ্যাপিকা সামিয়া চৌধুরী, মইনুল হক চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম ফারুক, শাহ জামাল নুরুল হুদা, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মামুনুর রশীদ মামুন, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মাজহারুল ইসলাম ডালিম, আব্দুল আহাদ খান জামাল, আবুল কাশেম ও শামিম আহমদ প্রমুখ।

