নারী ও শিশুরা বিশ্বস্তদের কাছেও নিরাপদ নয়!
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ নভেম্বর ২০১৭
দেশ ডেস্ক: বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের কাছেই নারী ও শিশুরা এখন আর নিরাপদ নয়। তাদের হাতেই নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বেশি। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে নারী ও শিশুদের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার হার ৮০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু চিলড্রেন (এনএসপিসিসি) এসব তথ্য জানিয়েছে।
ব্রিটিশ অনলাইন দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে নারীদের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রায় এক হাজার ঘটনা রেকর্ড করে রেখেছে এনএসপিসিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষক, পরিচর্যাকারী ও তরুণ বিচারকেরাই এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটান। ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীরাই তাঁদের দ্বারা বেশি নির্যাতনের শিকার হয়। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এ ধরনের ২৯০টি ঘটনা ঘটেছে। গত তিন বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ১৫৯টি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লি নামের (ছদ্মনাম) ১৫ বছর বয়সী এক শিশু তাঁর গ্রুপের দলনেতা দলের বাইরে দেখা করতে বলতেন। মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোনে অশালীন বার্তা পাঠাতেন। একদিন তিনি লিকে যৌন নির্যাতন করেন। ভয়ে লি এ ঘটনা কাউকে জানায়নি।
এনএসপিসিসি বলছে, বিদ্যমান আইন শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারছে না। এ কারণে শিশুদের সুরক্ষা দিতে আইনের সংশোধন প্রয়োজন। বিশ্বস্ত ব্যক্তি বলতে যারা শিশুদের নিয়ে কাজ করেন যেমন—স্কুলের শিক্ষক, স্পোর্টস কোচ, শিল্পকলার প্রশিক্ষকের কাছে এখন মেয়ে শিশুরা নিরাপদ নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুটবল কোচের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর কোচ আইন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার সংশোধনের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু শিশুদের সুরক্ষা দিতে নিয়মিত যারা কাজ করেন, তাঁদের ব্যাপারেও একই আইনের প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে এনএসপিসিসি।
এনএসপিসিসির প্রধান নির্বাহী পিটার ওয়ানলেস বলেন, এটা বিশ্বাস করা খুব কষ্টকর যে বর্তমান আইন শ্রেণিকক্ষে ১৬-১৭ বছর বয়সী শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষায় কাজ করে। কিন্তু খেলার মাঠ বা কোনো মঞ্চে তা কাজ করে না। প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে একটি শিশুকে খেলার মাঠে নামার উপযোগী করে গড়ে তুলতে কাজ করেন। কিন্তু সেই ব্যক্তিটিই ওই শিশুর বয়স ১৬ হতেই তাকে যৌন নির্যাতনের জন্য উঠেপড়ে লেগে যান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্ক বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে যৌন নির্যাতনের হাত থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে আইন সংশোধনের দাবিতে হ্যাশট্যাগ ‘#ট্রাস্টটুলিড’ শীর্ষক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে এনএসপিসিসি।

