শাহজালালের মাজারে জমজম পানির নামে প্রতারণা : তদন্তে ইসলামিক ফাউন্ডেশন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ নভেম্বর ২০১৭
দেলোয়ার হোসাইন, সিলেট থেকে: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর মাজারে গভীর নলকূপ থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে সেটাকে মক্কার জমজমের পানি বলে বিক্রির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে ইসলামিক ফাউন্ডশন। গত ২২ নভেম্বর বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডশনের সহকারি পরিচালক শাহ নজরুল ইসলাম মাজারের কূপ পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে শাহ নজরুল ইসলাম সাপ্তাহিক দেশ’কে বলেন, ঝর্ণার পারে যে কূপটা আছে সেখানে দু’টি সাইবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, সাইবোর্ডে লেখা আছে- হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর ব্যবহৃত কূপের পানি। তিনি বলেন, মাজারের সাথে জড়িত কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা পানি বিক্রির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি মাজারে আগতদের সাথেও কথা বলেন। তাঁরাও পানি বিক্রির ব্যাপারটি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোনো এক সময় পানি বিক্রির ব্যাপারটি ঘটে থাকতে পারে। কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে এটা করে থাকতে পারে। যদিও আজ এরকম কিছু দেখা যায়নি। তিনি বলেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর মাজারে পানি বিক্রির প্রতারণার নিয়ে একাত্তোর টেলিভিশনে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রচার হওয়ার পর সিলেটে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ বলছেন, এই কূপের সঙ্গে মক্কার জমজম কূপের কোনো সংযোগ নেই। এটি কুসংস্কার, ধর্মের নামে ব্যবসা। ধর্মীয় বিশ্বাস কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র ফায়দা লুটছে।
একাত্তর টেলিভিশনে প্রতিবেদন দেখে পানি কিনে প্রতারণার শিকার কদমতলীর বাসিন্দা এইচএম আব্দুর রহমান গত ১৯ নভেম্বর রোববার সিলেটের মূখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে একটি প্রতারণার অভিযোগ করেন। সাইফুজ্জামান হিরোর অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
এ বিষয়ে এইচএম আব্দুর রহমান সাপ্তাহিক দেশ’কে বলেন, গত ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার আসরের নামাজ পড়ে মাজার জিয়ারত করে পশ্চিম দিকে গিয়ে দেখি এখানে জমজমের পানি বিক্রি হচ্ছে। আমি ধারণা করেছিলাম হয়তো মক্কা থেকে জমজম কূপের পানি নিয়ে এসে এখানে বিক্রি করা হচ্ছে। তাই আমিও দুই বোতল পানি কিনি। এরপর একাত্তর টেলিভিশনে প্রতিবেদন দেখে আমার টনক নড়ে। এরাতো জমজমের পানির নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হই।

