যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ম্যানাফোর্টের বিরুদ্ধে
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ অক্টোবর ২০১৭
দেশ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা টিমের চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্ট, ম্যানাফোর্টের সাবেক ব্যবসায়ী সহযোগী রিক গেটসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, অর্থ পাচার সহ ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ গঠন করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির গ্রান্ড জুরি। তাতে পল ম্যানাফোর্টকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। এর বাইরে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে ট্রাম্প টিমের সাবেক উপদেষ্টা জর্জ পাপাডোপুলাস। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাশিয়ার কূটনীতিক বা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়ে তিনি মিথ্যা কথা বলেছিলেন এফবিআইয়ের কাছে।
এ অভিযোগ তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে পল ম্যানাফোর্ট ও রিক গেটস তাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ স্বীকার করেন নি। সব মিলে ট্রাম্প টিমের সাবেক তিনজন শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা হলো ফৌজদারি অভিযোগ। স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মিয়েলার তাদের বিরুদ্ধে কি সব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিজনেস ইনসাইডার।এতে বলা হয়, অভিযুক্তরা হলেন, ট্রাম্প টিমের প্রচারণা বিষয়ক সাবেক চেয়ারম্যান বা ম্যানেজার পল ম্যানাফোর্ট, তার ব্যবসায়ী সহযোগী রিক গেটস ও ট্রাম্পের উপদেষ্টা জর্জ পাপাডোপুলাস। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে এ অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। এতে ১২ দফা অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বর অভিযোগ হলো তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। অর্থ পাচার নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছেন। তারা বিদেশী একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। মিথ্যা ও ভুল বিবৃতি দিয়েছেন। মিথ্যা বক্তব্য রেখেছেন। বিদেশের ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের অর্থ থাকার কথা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ জন্য সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৩১ পৃষ্ঠার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর সোমবার সকালে পল ম্যানাফোর্টকে তার বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যায়। এ সময়ের যেসব ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়েছে তাতে দেখা যায় তিনি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে গাড়িতে উঠতেন। তারপর আত্মসমর্পণ করছেন এফবিআইয়ের কাছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প টিমের গোপন সমঝোতা নিয়ে তদন্তের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগগুলোর সরাসরি সম্পর্ক নেই। যুক্তরাষ্ট্রকে বাজে অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা ছিল বলে অনুসন্ধানে তা ধরা পড়ে। তবে এর জবাবে ট্রাম্প অবশ্য টুইট করেছেন। তার ভাষায়, মিডিয়া এখন ‘ফেক নিউজ’ বা ভুল প্রচারণার মাধ্যম। তার জন্য মত প্রকাশের উত্তম মাধ্যম হলো টুইটার। সেখানে তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা অনেকদিন আগের। পল ম্যানাফোর্ট যখন ট্রাম্পের প্রচারণা টিমের অংশ হয়েছিলেন তারও অনেকটা আগের ঘটনা সেগুলো। এতে ট্রাম্প প্রশ্ন রেখেছেন, তদন্তে কেন তার ডেমোক্রেট দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের বিষয়ে নজর দেয়া হচ্ছে না। তিনি আরো বলেছেন, কোনো গোপন বোঝাপড়া হয় নি (রাশিয়ার সঙ্গে)। ওদিকে অভিযোগ গঠনের পরে হোয়াইট হাউজে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করেছেন প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হাকাবে স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গায়ে আঁচড় ফেলে না। অর্থাৎ ট্রাম্প যে এমন অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত তা প্রতিফলিত হয় না। তিনিও দাবি করেন, জনগণের উচিত হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা টিমের তহবিল সংগ্রহের বিষয়ে।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কানকথা ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, রবার্ট মুয়েলারকে বরখাস্ত করতে পারেন ট্রাম্প। এমন গুজবের বিষয়ে সারাহ স্যান্ডার্স মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু এটুকু বলেছেন, তার (প্রেসিডেন্টের) এমন পরিকল্পনা নেই। যদি রবার্ট মুয়েলারকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প তাহলে দ্রুততার সঙ্গে ‘একশনে’ যাবে কংগ্রেস, এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ডেমোক্রেট দলের শীর্ষ সিনেটররা। ৫ মাস আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই ঘটনায় বরখাস্ত করেছিলেন এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমিকে। এবার তিনি রবার্ট মুয়েলারের দিকে হাত বাড়াতে পারেন। এ আশঙ্কায় সিনেটরদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পারদ তুঙ্গে। তবে এখন ক্যাপিটল হিলে দুটি বিল ঘুমন্ত অবস্থায় আছে। এ দুটি বিল দিয়ে রবার্ট মুয়েলারকে বরখাস্ত করার উদ্যোগ থামানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তাকে বরখাস্ত করা হলেই বিলটি সচল হতে পারে এবং তিনজন বিচারকের প্যানেল এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দিতে পারেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সোমবার সকালেই চিফ অব স্টাফ জন কেলির সঙ্গে বৈঠক হয় হোয়াইট হাউজের স্টাফদের। তারা পরে সংবাদ মাধ্যম থেকে পল ম্যানাফোর্টকে অভিযুক্ত করার বিষয়ে জানতে পারেন। রাশিয়া কানেকশনে পল ম্যানাফোর্টকে অভিযুক্ত করায় হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এ কারণে যে, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের নামে কোনো কলঙ্ক লাগে নি। তবে পরবর্তীকে কাকে অভিযুক্ত করা হবে তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন যে সপ্তাহটি শুরু হয়েছে তা থাকবে রাজনৈতিক উত্তেজনায় ভরপুর। আলোচনার টেবিলে জ্যাম লেগে যাবে কথার। ফেসবুক ও টুইটার এ সপ্তাহে কংগ্রেসকে জানাবে, ‘আমরা প্রথমে যতটুকু ধারণা করেছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ তার চেয়েও ভয়াবহ’।

