থেরেসা মে’কে উৎখাতের ষড়যন্ত্র
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ অক্টোবর ২০১৭
দেশ ডেস্ক: বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে তার নিজ দলের ৩০ এমপিও রয়েছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে বৃটেনের আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। আর এমন সময় নিজ দলের সদস্যদের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন মে। বিরোধিতাকারী আইনপ্রণেতাদের ভাষ্যমতে, বুধবার দলীয় সম্মেলনে দেয়া ভাষণে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ায় দলের ওপর তার কর্তৃত্ব কমে গেছে। উল্লেখ্য, বুধবার একদলীয় সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছিলেন মে। তবে সেই ভাষণ সুষ্ঠুভাবে দিতে পারেন নি তিনি। তার ভাষণ বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়- অসুস্থ থাকায় কিছুক্ষণ পরপর কাশতে থাকেন তিনি। পাশাপাশি একজন তার সঙ্গে রসিকতা করেও ভাষণে বিঘ্ন ঘটায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
তার দলের সাবেক চেয়ারম্যান গ্র্যান্ট শ্যাপস বলেন, কনজার্ভেটিভ পার্টিকে পরবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হতে না দেখতে চাইলে মে’র উচিত পদত্যাগ করা। শুক্রবার বিবিসি রেডিওকে তিনি বলেন, মে’র উচিত এই মুহূর্তে দলের নেতা ঠিক করার জন্য নির্বাচন ডাকা। মে নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছেন, মন্ত্রীপরিষদকে এক করতে ব্যর্থ হয়েছেন, দলীয় সম্মেলনে ব্যর্থ হয়েছেন- এতকিছুর পর আমি বলবো তার পতনের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে (দ্য রাইটিং ইজ অন দ্য ওয়াল)। মে আগাম নির্বাচন ডেকেই ভুল করেছিলেন। তবে তার দলের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা অবশ্য তার পাশে রয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, বৃটেনের এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা উচিত মে’র। বর্তমানে দলের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তার জায়গায় বৃটেনকে ব্রেক্সিট ইস্যুতে এক করতে পারবে। এদিকে, এখনও তার নিজ দলের কেউ তাকে উৎখাতের পক্ষে জনসম্মুখে কিছু বলেননি বা ইঙ্গিত দেন নি। তবে তার পদত্যাগের এমন সপষ্ট দাবি তার দুর্বলতার গভীরতা প্রকাশ করে। এতদিন পর্যন্ত তিনি টিকে আছেন কারণ, ব্রেক্সিট ইস্যুতে তার চেয়ে ভালোভাবে বৃটেনবাসীকে এক করতে পারবে দলের মধ্যে এমন উত্তরসূরির অভাব রয়েছে। পাশাপাশি অনেক কনজার্ভেটিভের আশঙ্কা, মে না থাকলে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিরোধীদলীয় লেবার নেতা জেরেমি করবিনই এখন ক্ষমতায় থাকতেন।
ষড়যন্ত্র কতটুকু গুরুতর
বুধবার দলীয় সম্মেলন থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মে’কে জনসম্মুখে দেখা যায়নি। এই সম্মেলন ছিলো তার জন্যে বিপর্যয়কারী। সম্মেলনে সুষ্ঠুভাবে পারফর্ম করতে পারলে দলের মধ্যে নিজের অবস্থান শক্ত করে তুলতে পারতেন তিনি। কিন্তু তার বদলে হয়েছে উল্টোটা। পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে গড়িয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শ্যাপস বলেন, ওই দলীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকেই ষড়যন্ত্র চলছিল। আর এতে সংশ্লিষ্ট রয়েছে উভয় পক্ষের মানুষই- ব্রেক্সিট সমর্থনকারীরা ও ব্রেক্সিটের বিরোধীতাকারীরাও। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা তার জায়গায় কাকে বসানো যেতে পারে এ বিষয়ে একমত হতে পারছেন না। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লিডারশিপ চ্যালেঞ্জ’ করতে ৪৮ জন কনজারভেটিভ আইনপ্রণেতাকে দলের কথিত ১৯২২ সালে গঠিত কমিটির (দ্য কনজারভেটিভ প্রাইভেট মেম্বারস কমিটি) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান চার্লস ওয়াকার বিবিসি রেডিওকে বলেন, গ্র্যান্ট শ্যাপস এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, গ্র্যান্টের অনেক প্রতিভা রয়েছে। তবে একটি জিনিস তার নেই সেটি হচ্ছে দলের মধ্যে তার কোন অনুসারী। তাই একেবারে সৎভাবে বলতে গেলে আমি মনে করি, এই ষড়যন্ত্র কয়েকদিনের মধ্যেই নাই হয়ে যাবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মে প্রধানমন্ত্রী থাকলে ব্রেক্সিট ইস্যুতে বৃটেনের পথ প্রদর্শক হবেন বৃটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল নেতাদের একজন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কূটনীতিবিদ ও কর্মকর্তারা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ক্ষমতায় থাকা উচিত মে’র
দলের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরাসহ অনেকেই মনে করেন ব্রেক্সিট ইস্যু সামলানোর জন্যে ক্ষমতায় বহাল থাকা উচিত মে’র। লন্ডনের পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফে এ নিয়ে একটি নিবন্ধও লিখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড। ‘থেরেসা মে উইল স্টে এজ প্রাইম মিনিস্টার এন্ড গেট দ্য জব ডান’ (থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ও সফলভাবে কাজটি শেষ করবেন) শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে তার পক্ষে বলা হয়, মে’র ক্ষমতায় থাকা উচিত। মে’র কার্যত ডেপুটি ও যুক্তরাজ্যের ফার্স্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট ডামিয়ান গ্রীন বলেন, তার দায়িত্ব বহাল থাকা উচিত। পরিবেশমন্ত্রী মাইক্যাল গোভ জানান, তিনি প্রত্যাশা করেন যে মে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। গ্রীন বিবিসিকে বলেন, আমি জানি তিনি ব্রেক্সিট সফল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এটা তার কাছে একটি দায়িত্ব। তিনি এটা সফলভাবে শেষ করবেন। আর এই সরকারকে একটি সফল সরকারে পরিণত করবেন। অনেক কনজারভেটিভ অ্যাক্টিভিস্টের ধারণা, এই মুহূর্তে কোন লিডারশিপ চ্যালেঞ্জ ইউরোপের বিষয়ে দলকে দুইভাগে বিভক্ত করে দেবে। উল্লেখ্য, এই একই ইস্যুর কারণে পূর্বের তিন মন্ত্রী- ডেভিড ক্যামেরুন, জন মেয়র ও মার্গারেট থ্যাচারের পতন ঘটেছিল। একটি লিডারশিপ চ্যালেঞ্জ নতুন একটি নির্বাচনের সূচনাও ঘটাতে পারে। অনেক কনজার্ভেটিভের ধারণা এমনটি হলে ক্ষমতায় চলে আসবে বিরোধী দল।

