দক্ষিণ এশীয় মুসলিম নারীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ‘দিস গার্ল ক্যান’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের সুচনা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দেশ ডেস্ক, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫: স্পোর্ট ইংল্যান্ডের আলোচিত উদ্যোগ This Girl Can (এই মেয়ে পারে) ক্যাম্পেইন ১০ সেপ্টেম্বর “উই লাইক দ্যা ওয়ে ইউ মোভ” শিরোনামে নতুন প্রচারণা শুরু করেছে । এ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হলো নারীদের সক্রিয় জীবনযাপনকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা এবং বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীগুলোকে সামনে আনা—যার মধ্যে দক্ষিণ এশীয় মুসলিম নারীরাও রয়েছেন।
টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে ইংল্যান্ডজুড়ে ১৩ জন সাধারণ নারীকে দেখা যাবে । তারা তাদের বাস্তব জীবনের মতোই নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত—যেমন পরিবার-পরিজন নিয়ে সাইকেল চালানো, রান্নাঘরে নাচ, গর্ভাবস্থায় যোগব্যায়াম, হুইলচেয়ার রাগবি, বক্সিং কিংবা হাঁটতে হাঁটতে ফুটবল খেলা।
একই সময়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জগতে সব নারীর সমান প্রতিনিধিত্ব এখনো হয়নি । গুগল ম্যাপসের মাধ্যমে সংগৃহীত ইংল্যান্ডজুড়ে স্পোর্টস ক্লাব, পার্ক, জিম, সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন স্থানের ৪ হাজারের বেশি ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—কৃষাঙ্গ নারী, দক্ষিণ এশীয় নারী, প্রতিবন্ধী নারী, বয়স্ক নারী ও গর্ভবতী নারী অনলাইনে প্রচারিত ছবিতে খুব একটা দেখা যায়না।
বিশ্লেষণে উঠে আসে, মোট ৮,৫৫৯ জন নারীর ছবির মধ্যে মাত্র ৬১ জন দক্ষিণ এশীয়, অথচ ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তারা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬.৮ শতাংশ । উপরন্তু এই ৬১টি ছবির মধ্যে অর্ধেকের বেশি শুধু লন্ডনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ, অন্যান্য অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
স্পোর্ট ইংল্যান্ডের তথ্য বলছে, দক্ষিণ এশীয় মুসলিম নারীরা খেলাধুলায় অংশ নিতে বেশি আগ্রহী হতেন যদি—শুধু নারীদের জন্য আলাদা সেশন থাকত (৪৭শতাংশ), পোশাকে বেশি নমনীয়তা থাকত (৩১শতাংশ), এবং কর্মীরা তাদের প্রয়োজনগুলো বোঝার মতো হতো (২৫শতাংশ)।
একইসঙ্গে প্রতিবেদন জানায়, শারীরিক কার্যকলাপ মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি, ভালো ঘুম, সামাজিক যোগাযোগ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সহায়ক—যা দক্ষিণ এশীয় মুসলিম নারীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
‘দিজ গার্ল ক্যান’ ক্যাম্পেইনের মার্কেটিং পরিচালক কেট ডেল বলেন, “একটি ছবি হাজার শব্দের কথা বলে। আমাদের গবেষণা দেখায়, কিছু দক্ষিণ এশীয় মুসলিম নারী এখনো এমন জায়গায় প্রতিনিধিত্ব পান না, যেখানে তাদের স্বাগত জানানো উচিত ছিল । ফলে তারা নিজেদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতে পারেন না। এতে তারা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক উপকার থেকে বঞ্চিত হন, যা স্বাস্থ্য বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেয় । সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ সবার জন্য সুযোগ তৈরি করে—যেখানে প্রত্যেকে নিজের মতো করে সক্রিয় হতে পারেন। গত এক দশকে ‘দিজ গার্ল ক্যান’ চার মিলিয়নেরও বেশি নারীকে সক্রিয় করেছে, কিন্তু বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে। আমরা সেই নারীদের জন্য কাজ করছি যারা পিছিয়ে আছেন। একসাথে আমরা সক্রিয় হওয়ার ছবিটা বদলে দিতে পারব।”
ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারী একজন হলেন ৩২ বছর বয়সী সারা । তিন সন্তানের এই জননী ওয়ালসালে বসবাস করেন । তিনি বলেন, হিজাব আমার পিছিয়ে পড়ার কারণ নয় । মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে লড়াইয়ের পর বুঝেছি, আমাকে নিজের যত্নও নিতে হবে। সাইকেল চালানো হোক বা একা সময় কাটানো, শরীরচর্চা আমাকে নতুন শক্তি দেয় এবং মনে করিয়ে দেয় যে স্বাস্থ্যই আসল সম্পদ।”
মুসলিমাহ স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াসমিন হারুন বলেন, “দক্ষিণ এশীয় মুসলিম নারীরা অনেক বাধার মুখে খেলাধুলায় আসেন—বিশেষ করে নারীদের জন্য আলাদা জায়গার অভাব এবং পোশাকে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সঠিক পরিবেশ তৈরি হলে নারীরা সক্রিয় হতে অনুপ্রাণিত হন।”
“দিস গার্ল ক্যান” ক্যাম্পেইন সকল নারীকে আহ্বান জানাচ্ছে নিজেদের চলাফেরা বা ব্যায়ামের অভ্যাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #ThisGirlCan (হ্যাশটাগ দিস গার্ল ক্যান) ব্যবহার করে শেয়ার করার মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার ধারণা বদলে দিতে । ঘরে বসে স্ট্রেচিং হোক, পার্কে ফুটবল খেলা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতার কাটা—প্রত্যেক নারীর গল্পই প্রমাণ করে যে সক্রিয় হওয়ার জন্য শুধু একটিমাত্র মাধ্যম বা ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। এ ব্যাপারে আরো তথ্য জানতে www.thisgirlcan.co.uk/move ওয়েবসাইট ভিজিট করতে বলা হয়েছে।

