ডাকসু নির্বাচন : শিবিরের বিজয়ে বড় ভূমিকা নারীদের
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দেশ ডেস্ক:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বড় বিজয়ের পেছনে নারীদের ভোটের বড় ভূমিকা আছে। যে কেন্দ্রগুলোতে নারীরা ভোট দিয়েছেন, সেগুলোতেও শিবিরের প্রার্থীরা প্রচুর ভোট পেয়েছেন। অনেকেই বলছেন, শিবিরের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীরা নেতিবাচক প্রচার চালিয়েছেন। এটিকে নারীরা সহজভাবে নেননি। নেতিবাচক প্রচারণাই তাদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে।
গত ২৬ আগস্ট প্রচারণার প্রথম দিনেই শিবিরের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। বিকৃত করা হয় প্যানেলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী সাবিকুন নাহার তামান্নার ছবি। সেদিন নিজের ফেসবুক আইডিতে ভাঙচুরের ছবি শেয়ার করে তামান্না লেখেন, ‘স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার পথযাত্রী, আমরা থামব না।’ তাঁর ছবি বিকৃত করাকে নারীর পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতার প্রতি বিদ্বেষী মনোভাবের প্রকাশ বলে মন্তব্য করেন অনেক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ভোট দেন রোকেয়া হলের ছাত্রীরা। এই কেন্দ্রে শিবিরের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম পেয়েছেন এক হাজার ২৭০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা পেয়েছেন ৫৪৭ ভোট। ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪২৩ ভোট। জিএস পদে শিবিরের প্রার্থী এস এম ফরহাদ পান ৯৬৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের মেঘমল্লার বসু পান ৫০৭ ভোট। ছাত্রদলের প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম পেয়েছেন ৪০২ ভোট। অন্য কেন্দ্রগুলোতেও অনেকটা এমন চিত্রই দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের তাহমিনা তামান্না বলেন, এই হলে শিবির এবং ছাত্রদল প্রচার সভা করেছে। ছাত্রদলের সভায় শিবির নারীবিদ্বেষী বলে বক্তব্য দেওয়া হয়। বেশ কিছু প্রশ্ন এসেছে এটা নিয়ে। শিবিরের পক্ষ থেকে এগুলোর সুস্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়েছে। শিবিরের বক্তব্যে মেয়েরা সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটা আস্থার জায়গা শিবির তৈরি করেছে। হয়তো মেয়েদের বাকি ৪টি হলেও এভাবেই তারা আস্থা তৈরি করতে পেরেছিল।
সাবিকুন নাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, হিজাবফোবিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ব্যালটের মাধ্যমে। সাবিকুন নাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হিজাবি-নিকাবি নারীর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে হিজাবি-নিকাবিরা বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছিলেন। এর একটি চিত্র আমরা দেখতে পেয়েছি সাবিকুন নাহারের ছবি বিকৃত করার মাধ্যমে।
শামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থী নিশাত আনজুম বলেন, প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিবির ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ ছাড়া ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা ছাত্রীদের আকর্ষণ করেছে। এ কারণে তারা হয়তো অন্য প্যানেলের চাইতে শিবিরের প্যানেলকে বেশি যোগ্য মনে করেছে। এ ছাড়া শিবিরের বিভিন্ন ফোরামে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
কবি সুফিয়া কামাল হলের জান্নাত তিথি বলেন, ‘আমরা শিবির সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করতাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর শিবির ক্যাম্পাসে অনেকগুলো আয়োজন করছে। তাদের ব্যবহার আর আচার-আচরণ অন্য সবার থেকে আলাদা। নারীবিদ্বেষী আচরণ তারা করেনি।’
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থী তানজিলা বলেন, প্রচারণায় ইসলামী ছাত্রী সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটির সদস্যরা ধর্মীয় বৈঠকে ছাত্রীদের কাছে কৌশলে ভোট চেয়েছেন। এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

