লাফবরায় নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর ব্রিটিশ-বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ আগস্ট ২০২৫
মোহাম্মদ রহিম:: যুক্তরাজ্যের লাফবরায় নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম শাহাব উদ্দিন (৪০)। বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। পুলিশসহ এলাকার শত শত স্বেচ্ছাসেবক ড্রোন ব্যবহার করে বিস্তৃত অঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে লাফবরার এ-৬ সড়কের ওয়ান অ্যাশ রাউন্ডএবাউটের পাশে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ পাওয়া যায়।
শাহাব উদ্দিন ছিলেন এলাকায় সুপরিচিত। এলাকার মানুষের সাথে ছিল তাঁর সুসম্পর্ক। তাই তাঁর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার বাদ জোহর লাফবরা মসজিদে জানাজা শেষে লাফবরা সেমেট্রিতে শাহাব উদ্দিনকে দাফন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শাহাব উদ্দিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যের লাফবরা শহরে। কিছুটা লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি থাকলেও তিনি ছিলেন লাফবরা কমিউনিটির একজন প্রিয় মানুষ। ১২ আগস্ট মঙ্গলবার, লাফবরার শাহজালাল জামে মসজিদে আসরের নামাজের পর পরিচিত সবার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে বাসায় ফিরেন শাহাব উদ্দিন। বাসায় ফিরে মায়ের কাছ থেকে কিছু পকেটমানি নিয়ে বন্ধুর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। বাসা থেকে বেরোনোর সময় শাহাব উদ্দিন মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নিতে ভুলে যান। তিনি ওষুধের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ওই দিন রাত ১২টা পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় পরিবার-পরিজনের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তাঁকে সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজতে শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিখোঁজ সংবাদ শেয়ার করেন এবং পুলিশকে অবহিত করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শাহাব উদ্দিনের নিখোঁজ সংবাদ দেখে এক প্রতিবেশী পরিবারকে জানান, তিনি ১২ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাকে লাফবরার একটি পেট্রল স্টেশনের পাশে দেখেছেন। এ সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ পেট্রল স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দেখতে পারে শাহাব উদ্দিন রাত ১০টা ২৫ মিনিটের সময় লেস্টারমুখী এ-৬ রাস্তায় হাঁটছেন।

সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবি
১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার লাফবরার কাউন্সিল লিডার জুয়েল মিয়া (লেবার পার্টির সাবেক এমপি প্রার্থী) একটি পাবলিক মিটিংয়ের আয়োজন করেন এবং ‘মিসিং পারসন’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেন। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একদিনের মধ্যেই প্রায় এক হাজার লোক যুক্ত হন। এ গ্রুপটি সময় নির্ধারণ করে প্রতিদিন প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবক মিলে লাফবরার কোর্ণ, মাউন্টসরল, রতলি সহ বিভিন্ন ভিলেজে সার্চ করতে থাকেন।
এরই মধ্যে ১৩ আগস্ট বুধবার রাতে এক ভদ্রলোক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানান যে, তিনি আগের রাতে শাহাব উদ্দিনের মতো একজন লোককে কোর্ণ ভিলেজে দেখেছেন। পুলিশসহ শত শত স্বেচ্ছাসেবক ড্রোন ব্যবহার করে কোর্ণের আশপাশের গ্রামীণ অঞ্চলে তল্লাশি চালাতে থাকেন। অবশেষে ৯ দিন পর ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার পুলিশ লাফবরা এ-৬ সড়কের ওয়ান অ্যাশ রাউন্ডএবাউটের পাশ থেকে শাহাবের মরদেহ উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, পুলিশ শাহাব উদ্দিনকে খুঁজতে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করে।
শাহাব উদ্দিনের মৃত্যুকে অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এর তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশের ‘মিসিং ফ্রম হোম’ টিমের গোয়েন্দা পরিদর্শক জোনাথন ডিকেন্স বলেন: ‘দুঃখজনকভাবে আমরা শাহাব উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। অনুসন্ধানের সময় তার পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবক যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তদন্তের সময় তথ্য দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমাদের তদন্ত চলছে এবং আমরা যত দ্রুত সম্ভব আরো তথ্য জানাব।’
শাহাব উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে খুঁজে বের করতে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ একসাথে কাজ করেছেন । শাহাব উদ্দিনের এক পারিবারিক বন্ধু সাপ্তাহিক দেশকে বলেন, উনি এখানকার কমিউনিটিতে খুবই পরিচিত ছিলেন। সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ, সবাই তাঁকে ভালোবাসতেন । নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন আমার সাথে দেখা হয় । অনেক্ষণ কথা হয়, উনার অসুস্থ মায়ের জন্যে আমাকে দোয়া করতে বলেন।

