টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ৭ লাখ পাউন্ডের প্রকল্প থেকে সহায়তা পেয়েছে শতাধিক ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জুলাই ২০২৫
টাওয়ার হ্যামলেটস বারার ছোট ব্যবসা এবং উদ্যোগতাদের সহায়তা করার জন্য, কাউন্সিল গত ১২ মাসে ৭ লাখ বিনিয়োগ করেছে। যার মাধ্যমে ২০০ জনেরও বেশি বাসিন্দাকে ‘এন্টারপ্রাইজ রেডি’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে এবং শতাধিক ব্যবসা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) কাউন্সিল টাউন হলের গ্রোসার্স উইংয়ে এক বিশেষ গালা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে এই বারার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অবদানকে উদযাপন করা হয়।
গত বছর কাউন্সিল যেসব উল্লেখযোগ্য প্রকল্পে ৭ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: থিঙ্ক স্টার্ট আপ এন্ড লীন স্ট্রার্টআপঃ যাদের ব্যবসা শুরু করার আগ্রহ আছে কিন্তু আর্থিক সহায়তা নেই, তাদের জন্য এই প্রকল্প।
সাপোর্টেড এক্সেস টু ফাইন্যান্সঃ যাদের ব্যবসা শুরু করতে অর্থের প্রয়োজন, এবং যারা ফান্ডিং পেতে ও আবেদন করতে শিখতে চান, তাদের জন্য এই উদ্যোগ। উইমেন মীন বিজনেসঃ ৫০টি ক্ষুদ্র ও স্বতন্ত্র নারী মালিকানাধীন ব্যবসায় সহায়তা করেছে। সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ইমপেক্ট প্রজেক্টঃ স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটি সেক্টরের সংগঠন গুলোকে সহায়তা করেছে। এসএমই সাসটেইনেবিলিটি প্রজেক্ট: স্থানীয় ব্যবসা গুলোকে টেকসই উদ্যোগে সহায়তা প্রদান।এসএমই এনার্জী রিডাকশন প্রোগ্রামঃ ব্যবসার জ্বালানি (গ্যাস-বিদ্যুতের খরচ) ব্যয় হ্রাসের জন্য অন-সাইট অডিট, নির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করেছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র, লুৎফুর রহমান কাউন্সিলের এই বিনিয়োগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “আমরা গর্বিত যে আমাদের বারাতে পারিবারিক উদ্যোগ, সৃজনশীল ভেঞ্চার, স্টার্টআপ, হালকা ধরনের উৎপাদক শিল্প ও ক্ষুদ্রমাঝারি ব্যবসা ইত্যাদি নানা রকমের ব্যবসা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যবসাগুলো যেন সাফল্য লাভ করতে পারে, বরোতে টিকে থাকতে পারে, এবং আরও বৈচিত্রময় ব্যবসা যেন আকৃষ্ট করা যায়-যেন বিভিন্ন আগ্রহ ও দক্ষতার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় – এটা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে যারা আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রইল।
কেবিনেট মেম্বার ফর জব্স, স্কিলস এন্ড গ্রোথ, কাউন্সিলর মোস্তাক আহমেদ বলেন, এইসব স্টার্টআপের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হই। কীভাবে তারা নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিণত হয়েছেন, সেটা অন্যের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হতে পারে। সামনে আমরা আরও ধরনের সহায়তামূলক প্রকল্প আমরা চালু করব, যার মাধ্যমে বারার ছোট ব্যবসাগুলো ফ্রি মাস্টারক্লাস এবং পরামর্শ সেবা নিতে পারবে। আমাদের ওয়েবসাইটে এর বিস্তারিত পাওয়া যাবে।
রোক্সানা ফ্লোরিনা পোপা, যিনি ‘ফ্লোরিনা প্রিমোর্ডিয়াল’ নামের একটি গহনার ব্র্যান্ড পরিচালনা করেন, এবং ‘উইমেন মীন বিজনেস’ প্রকল্প থেকে সহায়তা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ছোট ব্যবসার প্রতি যেভাবে সহায়ক মনোভাব দেখিয়েছে এবং যেসব প্রশিক্ষণ মডিউল দিয়েছে, সেগুলো আমার ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে মিল রয়েছে। আমার ব্যবসার দুইটি দিক নারী এবং কমিউনিটিতে পরিবর্তন আনা – এই প্রকল্পগুলো সেগুলোকেই প্রতিফলিত করে। সারা কার্টার কনসালটেন্সির দেওয়া টুলস আমার ব্যবসাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে ও মাত্র ৬ মাসে অধিকতর পরিচিতি পেতে সাহায্য করেছে।
চলতি বছরের জুন মাসে ‘ফ্লোরিনা প্রিমোর্ডিয়াল’ কে ‘এলি’ ম্যাগাজিনের বিশেষ জুয়েলারি সংখ্যায় তুলে ধরা হয়।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে রোক্সানা বলেন, “আপনার ভিশন স্পষ্ট করুন, এবং নিজেকে বারবার জিজ্ঞেস করুন – ‘এটি কী?’ ‘এর অর্থ কী?’ মাঝে মাঝে একটু সময় নিয়ে ভ্রমণ করুন, নিজেকে রিফ্রেশ করুন-ব্যবসার পরবর্তী ধাপ জোর করে টানার দরকার নেই, বরং পরিবর্তনের ধারা অনুভব করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যদি নিজে ব্যবসা শুরু করতে চান, তাহলে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অফারকৃত মাস্টারক্লাস ও পরামর্শ সেবা সম্পর্কে জানতে টাওয়ার হেমলেটসের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

