‘গাজা-ফিলিস্তিন রক্ষায় বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সময়ের সবচেয়ে বড় ফরজ দায়িত্ব’
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ এপ্রিল ২০২৫
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে টাওয়ার হ্যামলেটস শাখার উদ্যোগে গত ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজা ফিলিস্তিনে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী বিনাশযজ্ঞ এবং ভারতে ওয়াকফ বিল পাস করে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরাট প্রতিবাদ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় টাওয়ার হ্যামলেটস শাখা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা হাফিজ মুহাম্মদ ইলিয়াস সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন টাওয়ার হ্যামলেটস জমিয়তের সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল হাসান। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ইউকে জমিয়তের সভাপতি ডক্টর মাওলানা শুয়াইব আহমদ। প্রধান বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন ইউকে জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট মিডিয়া ভাষ্যকার মুফতি আবদুল মুনতাকিম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইউকে জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ, সহ সভাপতি হাফিজ হুসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, ইউকে জমিয়তের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শামছুল আলম কিয়ামপূরী।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আল্লামা হবিগঞ্জী রহমতুল্লাহি আলাইহির জামাতা মাওলানা মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাস্টার আমির উদ্দিন, ইউকে জমিয়তের ট্রেজারার হাফিজ রশিদ আহমদ, লন্ডন মহানগর শাখার সেক্রেটারি মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ, ও টাওয়ার হ্যামলেটস জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তারেক আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডক্টর মাওলানা শুয়াইব আহমদ বলেন, গাজা ফিলিস্তিনের ভয়াল বিনাশযজ্ঞে এ মুহূর্তে আল্লাহর সমীপে অশ্রুসিক্ত নয়নে কায়মনোবাক্যে নিয়মিত দোয়া মোনাজাতের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। তিনি আগামী প্রতিবাদ কর্মসূচি গুলো স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে পালনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
মুফতি আবদুল মুনতাকিম বলেন, মজবুত বৈশ্বিক ঐক্যের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজা ফিলিস্তিনে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন মুসলমানদের উপর সময়ের সবচেয়ে বড় ফরজ দায়িত্ব। এর জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিম সরকার গুলোর উপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি এবং পর্যায়ক্রমে পুরো মানবজাতির মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের জোয়ার তৈরি করেই আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম এ জুলুম নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে গাজা ফিলিস্তিনের ভয়াল তান্ডব লীলা সহ সকল অনাচার থেকে মুক্তি পেতে পারি। অবশ্য তাওবা ইস্তেগফার ও দোয়া মোনাজাত এবং মসজিদে মসজিদে কুনূতে নাযেলা পাঠ সময়ের অপরিহার্য দাবি।
সভায় বক্তারা বলেন, আসল দুশমনদের মোকাবেলায় সুদৃঢ় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। ভারতে মুসলিমদের ইতিহাস হাজার বছর পুরাতন। তারা উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেই আমাদের পক্ষে সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা সম্ভব। সভায় স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে যাঁরা শহীদ হয়েছেন ও পঙ্গুত্ব বরণ করে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সভা শেষে ফিলিস্তিনের মজলুম মানুষ, ভারতের ষড়যন্ত্র কবলিত অত্যাচারিত মুসলমান ও দেশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকা থেকে আগত মেহমান মাওলানা হাবীবুল্লাহ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

