আপনি ভ্যাকসিন সম্পর্কে কতটা জানেন?
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জুলাই ২০২৩

আমরা অনেকেই গত তিন বছরে ভ্যাকসিনেশন নিয়ে আলোচনা করেছি – কিন্তু আমরা কতটা জানি ভ্যাকসিন সম্পর্কে? যেমন, এনএইচএস কেন ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাকসিন প্রদান করে থাকে এবং এগুলো কীভাবে কাজ করে?
ভ্যাকসিনেশন ভাইরাস প্রতিরোধে আধুনিক সমাধান নয়
বহু শতাব্দী ধরেই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রথম স্বীকৃত ভ্যাকসিন – স্মল পক্সের যা ১৭৯৬ সালে বের হয় । অথচ, স্মল পক্সে আক্রান্ত হওয়া শেষ ব্যক্তি পাওয়া যায় ১৯৭৭ সালে। ভ্যাকসিন আমাদের পোলিও এবং হামের মতো রোগ থেকেও রক্ষা করেছে যা আরো বেশি মৃত্যুর কারণ ছিল । বিশেষজ্ঞরা দেখিয়ে দিয়েছেন যে ভ্যাকসিন বিশ্বজুড়ে আমাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করেছে। স্বাস্থ্যসম্মত পানি ও স্যানিটাইজেশনের পাশাপাশি ভ্যাকসিন অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থার চেয়ে আরও বেশি জীবন বাঁচিয়েছে।
ভ্যাক্সিনেশনের উদ্দেশ্য রোগ প্রতিরোধ করা, নিরাময় নয়
ইমিউনোলজির সহযোগী অধ্যাপক এবং ব্রিটিশ সোসাইটি ফর ইমিউনোলজির সদস্য, ডা. ডোনাল্ড পামার ব্যাখ্যা করেছেন ভ্যাকসিন কীভাবে কাজ করে। তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন হলো এমন একটি জিনিস যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে ভাইরাস চিহ্নিত করতে সাহায্য করে এবং তার বিরুদ্ধে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে শেখায়। বিভিন্ন ভ্যাকসিন আপনার শরীরকে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে পারার প্রশিক্ষণ দেয়। সুতরাং, আপনি যখন সেই রোগের সংস্পর্শে আসেন, তখন আপনার ইমিউন সিস্টেমটি ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসকে দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি এবং কোষগুলো তৈরি করবে।”
আমেরিকায় ব্যবহার করা সমস্ত টিকা কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়
ডা. পামার আরও বলেন, “আমেরিকায় ব্যবহার করা সব ভ্যাকসিন সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছানোর আগে সেগুলো বিভিন্ন বয়স, লিঙ্গ ও বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়।”
ডা. পামারের কাছে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা হয় তা হলো, কোভিড চলে আসার পর কীভাবে ভ্যাকসিনগুলি এত দ্রুত বের করা সম্ভব হয়েছে? তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী গবেষকরা ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানতেন এবং মহামারীকে টার্গেট করে কিভাবে এগোনো যায় তা নিয়ে কাজ করছিলেন। দুনিয়াজুড়ে ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তার কারণে এই তথ্য গবেষকদের মধ্যে শেয়ার করা হয়েছিল। এছাড়াও, ওষুধের পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত প্রত্যেকে একত্রিত হয়েছিল যেন অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত শেষ করা যায়।
যদিও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বহু জীবন বাঁচিয়েছে, ভাইরাসটি এখনও মানুষকে খুব অসুস্থ করে তুলতে পারে । তাই আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আপনি এবং আপনার পরিবার প্রয়োজনীয় সমস্ত সুরক্ষা পান।
ভ্যাকসিনে কী কী উপাদান রয়েছে তা জানতে পারবেন

বিভিন্ন ভ্যাকসিনে বিভিন্ন ধরনের উপাদান থাকে এবং সেগুলো আমাদের শরীরকে ভাইরাস, রোগ বা সংক্রমণ থেকে মুক্তি দিতে বিভিন্ন উপায়ে কাজ করে । অনেকগুলি, যেমন কোভিড ভ্যাকসিনে লাইভ ভাইরাস নেই। এর মানে হল, আপনি কোনভাবেই ভ্যাকসিনের কারণে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হতে পারবেন না। অনেক ভ্যাকসিন শুয়োর বা অন্যান্য প্রাণীজাতীয় পণ্য ছাড়াই পাওয়া যায়।
ইন্টারন্যাশনাল হেলথের নার্স ম্যানেজার শিরহান হাসান মানুষের জন্য যথেষ্ট সময় দেন যেন তারা ভাক্সিনেশন সম্পর্কে জানতে পারে এবং এ বিষয়ে সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্তটি নিতে পারে। শিরহান এমন লোকেদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন যারা ফার্মাসিস্ট বা স্বাস্থ্য পেশাদারদের সাথে ভ্যাকসিন ও এর উপাদান নিয়ে কথা বলতে উদ্বিগ্ন বোধ করেন । নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিনের উপাদানগুলির সম্পূর্ণ তালিকা “মেডিসিন ও হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সির” ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। “যদি এমন কোনো ভ্যাকসিন থাকে যার উপাদানগুলির কারণে আপনি সেটি নিতে না চান, তবে আপনার জিজ্ঞাসা করতে হবে এর কোনো বিকল্প আছে কি না। অথবা যদি এটি আপনার বিশ্বাসের ক্ষেত্রে উদ্বেগ সৃষ্টি করে, তবে আপনার ইমাম বা ধর্মীয় কোন নেতার সাথে কথা বলা সহায়ক হতে পারে।
কখনও কখনও বিদেশে ঘুরতে গেলে নির্দিষ্ট ভাক্সিনেশনের প্রয়োজন হয়
যদি আপনি অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ করতে চান, তবে সেই দেশের প্রবেশ বিধিমালা সম্পর্কে জানতে GOV.UK ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন । এছাড়াও, TRAVEL HEALTH PRO -এর মতো ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করে দেখুন, যা থেকে আপনি জানতে পারবেন কোন ভ্যাক্সিনগুলো সুপারিশ করা হয় এবং দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পেতে হলে নির্দিষ্ট কোন ভ্যাকসিন নেয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে কিনা।
ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক মানুষদের আগে থেকেই পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন শিরহান । “কিছু ভ্যাকসিন কার্যকর হওয়ার জন্য তা ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে নেয়া ভাল। এছাড়া, ভ্রমণের সময় আপনার সাথে কোন ওষুধগুলো নেয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে আপনার জিপি প্রাকটিসের সাথে কথা বলতে ভুলবেন না।”
আপনার বয়স হিসেবে নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন দেয়া হবে
ডা. পামার বলেন, “আমরা জন্ম থেকেই এবং জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন টিকা পেয়ে থাকি। আমাদের যখন বয়স বাড়ে, আমাদেরকে নির্দিষ্ট টিকা নেয়ার দরকার হয় কারণ আমাদের ভাইরাসজনিত অসুখ যেমন কোভিড, নিউমনিয়া ও দাদ হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয় এবং এগুলো থেকে খুব অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বেশি।”
বাদ পড়ে যাওয়া কোন ভ্যাকসিন নিতে সক্ষম হতে পারেন
এনএইচএস বিভিন্ন ভ্যাকসিনের একটি সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে এবং সেগুলো কখন নেয়া যাবে সেটিও পাওয়া যাবে WWW.NHS.UK ওয়েবসাইটে। আপনি হয়তো নিশ্চিত নন যে আপনি, আপনার শিশু কিংবা আপনার পরিবারের কোনো প্রিয়জন সব টিকা সময়মত নিয়েছেন কিনা। দাদের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে ৭০ বছর বয়সী মানুষকে টিকা দেয়া হয়। আবার মিজেলস, মাম্পস ও রুবেলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদানের টিকা শিশুদের সাথে প্রাপ্তবয়স্কদেরও দেয়া হয়।
শিরহান পরামর্শ দেন, “আপনার শিশুর চাইল্ড হেলথ রেকর্ড বা রেড বুকে আপনি দেখে নিতে পারেন তার জন্য কোন ভ্যাকসিন নেয়া উচিত। এছাড়াও, আপনি আপনার জিপি প্রাকটিসের কাছে আপনার, আপনার সন্তানের বা পরিবারের সদস্যদের কোন টিকা দেয়া হয়েছে সে সস্পর্কে জানতে চাইতে পারেন । একই সঙ্গে বাদপড়া ভ্যাকসিন বা ডোজগুলি পাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য চাইতে পারেন।”
কোভিড-নাইন্টিনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা তৈরিতে এখনো খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি
কোভিড-নাইন্টিনের টিকা নেয়ার জন্য আপনার ও আপনার পরিবারের কাছে ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত সময় রয়েছে। যদি আপনি বা তারা: শুধু একটি কোভিড-১৯ টিকা নেন বা একেবারেই না নিয়ে থাকেন এখনও ¯স্প্রি ভ্যাকসিন না নিয়ে থাকেন এবং আপনার বয়স যদি ৭৫ বছরের বেশি হয়ে থাকে, বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী ৫ বছর বয়সের বেশি শিশু থেকে থাকে, বা কোনো বয়স্ক ব্যক্তি যদি কেয়ার হোমে বসবাস করেন। তবে এটি দ্রুত করা জরুরি – জুলাই থেকে, কোভিড- নাইন্টিন ভ্যাকসিনটি কেবলমাত্র সেইসব ব্যক্তিদের দেয়া হবে যারা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
কিছু ভ্যাকসিন আলাদা ডোজ হিসেবে বা একাধিকবার দেয়া হয়
কিছু ভ্যাকসিন, যেমন কোভিড-১৯ টিকা, ম্যাসেলস, মাম্পস ও রুবেলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করার জন্য এমএমআর, একাধিক ডোজে দেয়া হয়।
“একটি ভ্যাকসিনের অতিরিক্ত ডোজ- বা বুস্টার ডোজ – নির্দিষ্ট কোনো রোগ থেকে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দেয়। এটি নির্দিষ্ট কোন ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে হতে পারে, বা রোগটি নিজেই পরিবর্তিত হতে পারে, যে কারণে আরেকটি ভ্যাকসিন দেয়া হয় যেন আমরা ভাইরাসটিকে আরও ভালভাবে মোকাবেলা করতে পারি। ডঃ পামার বলেন, “এই কারণেই প্রতি বছর যোগ্য ব্যক্তিদের ফ্লু ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।”
একই কারণে, ইতিমধ্যে কারো ভাইরাস থাকলেও টিকা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়, কারণ আমরা সবসময় জানি না একটি নির্দিষ্ট ভাইরাস থেকে ইমিউনিটি কতক্ষণ স্থায়ী হয়। কোভিড-নাইন্টিন ও অন্য কিছু রোগের ক্ষেত্রে, আমরা জানি যে, ইমিউনিটি সময়ের সাথে কমে যায়।
আপনার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বুক করতে এনএইচএস অ্যাপটি ব্যবহার করুন, অথবা অনলাইনে বুক করতে ভিজিট করুন NHS.UK/COVIDVaccination অথবা ফ্রি কল করুন ১১৯ নম্বরে । আপনি, আপনার সন্তান অথবা কোনো পরিবারের সদস্যের মিস করা অন্যান্য ভ্যাকসিন সম্পর্কে পরামর্শ পেতে আপনার জিপি প্রাকটিসে কথা বলুন।
ভ্যাক্সিনেশন কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে আরও জানতে এই অ্যানিমেশনটি দেখুন ।
এতে ব্রিটিশ সোসাইটি অব ইমিউনোলজি ইউটিউব চ্যানেলে ডা. ডোনাল্ড পামারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে ।
বাংলাদেশি ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতা
বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৬০ সালে বাংলাদেশি ব্যবসায়িদের দ্বারা পরিচালিত ক্যাটারিং শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এম এ মুনিম বলেছেন, ‘আমরা আমেরিকা এবং বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ওপর ভাইরাসটির ধ্বংসাত্বক প্রভাব দেখেছি এবং সাহায্য করতে চেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, ‘টিকাদান একটি সুযোগ হিসেবে আমাদের সামনে আসে যা মানুষকে কঠিন অসুখ থেকে বাঁচতে বা ভাইরাসের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে সাহায্য করে । তাই, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি আমরা আমাদের কর্মীদের, গ্রাহকদের ও আমাদের কমিউনিটির সাথে কোভিড-নাইন্টিন টিকা এবং যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে কথা বলার জন্য এনএইচএসকে আমাদের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। টিকা নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য আমরা আমাদের নিজের ব্যক্তিগত ভ্যাক্সিনেশনের গল্পগুলো শেয়ার করেছি।”
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ক্যাটারিং ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ১২ হাজার ব্রিটিশ বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ এবং টেকওয়ে রয়েছে এতে প্রায় ১ লাখ লোক কাজ করে থাকেন।
জনাব মুনিম বলেছেন, ‘আমরা এনএইচএস-কে সাহায্য করেছি কোভিড-১৯ টিকা সংক্রান্ত সাংস্কৃতিগতভাবে সংবেদনশীল বার্তা তৈরি করতে, পাশাপাশি মহামারীর সময় কীভাবে নিরাপদে থাকা যায় এবং নিজ নিজ সুস্থতার প্রতি যত্নশীল হওয়ার বিষয়ে পরামর্শদান করেছি।“ বিসিএর সদস্যরা তাদের ভ্যাক্সিনেশনের যাত্রা সম্পর্কে ছবি এবং ভিডিও তৈরি করে অফিসিয়াল টিকা বার্তা সহ সেগুলো তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও চ্যানেলগুলোতে শেয়ার করেছেন।”
“হাইলাইটগুলো অন্তর্গত ছিল আমাদের বিখ্যাত জাব-অ্যা-জালফ্রেজি প্রমোশন চালানো, এবং অনলাইনে দুইটি কোভিড-১৯ প্রশ্ন-উত্তর ফোরামে সমর্থন ও অংশগ্রহণ করা । এই ফোরামগুলি রমজান ২০২১ এর সময় বিতরণ করা হয়েছিল এবং অধ্যাপক ক্রিস হুইটি ও ডা. নিকি কানানি সরাসরি আমাদের কমিউনিটিকে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও সাংস্কৃতিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু তথ্যের অ্যাক্সেস দিয়েছেন । আমরা জনগণকে কেবল ভ্যাকসিন সম্পর্কে আরও শিখতে সক্ষম করিনি, বরং ঈদ উদযাপনের সময় তাদের কোভিড-১৯ হওয়ার ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায় তাও শিখিয়েছি।”


