লন্ডনের থার্রক কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত হলো বাঙালীর প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জুন ২০২৩
প্রথমবারের মত লন্ডনের থার্রক কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত হলো বাঙালীর প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলা। গত ৩১ মে রুবিমনা’র ব্যবস্থাপনায় ইস্ট টিলবারি ভিলেজ হলে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় অনেক দূর দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন উৎসবপ্রিয় বাঙালি লোকজন। তারা মাতিয়ে তুলেছিলেন থার্রক বাংলা বৈশাখী মেলার মঞ্চ।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী টিলবারি ক্যাশ এন্ড ক্যারির মালিক রাফিউল চৌধুরী সোহেলের বিশেষ তত্ত্বাবধানে মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন থার্রক কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র কাইসার আব্বাস।
কাইসার আব্বাস তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে মেলার প্রত্যেকটি স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি সবার সাথে কথা বলেন এবং ব্যবসায়ীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এছাড়া ভবিষ্যতে এ রকম মেলার আয়োজন করলে কাউন্সিলের বরাবর ফান্ডের আবেদন করার কথা জানান।

আয়োজকরা জানান, মেলায় বাহারী পণ্য সমেত ছিলো রুবিমনা ক্লোজেটের পণ্য সামগ্রী। ছিলো বাঙালীর ঐহিত্যবাহী বৃহত্তর ময়মনসিংহের নকশি পিঠাসহ সব রকমের পিঠা পুলির স্টল। রানীস পিঠাঘর, মুখ রোচক লোভনীয় স্ট্রিট-ফুড চটপটি, ফুচকা, আচার, নারকেলের নাড়ু, জাম-মাখা চা ও ঝালমুড়ি নিয়ে সাজানো হয়েছিলো রুবিমনাস ফুড কর্ণার। সিলেটের বিরিয়ানি স্টল, এঞ্জেল ডেলাইটের ফ্রুইট জুস, মিল্ক সেইক, আইস্ক্রিমসহ বিভিন্ন কেক ও ডেজার্ট স্টল। মেলায় আরও ছিলো মিথিলাস ক্রিয়েটিভ কর্ণার থেকে হালিম, পিজ্জা, পেটিস ও ঘরে বানানো হাতে তোলা ঘী। ছিলো নুসরাত তামান্নার মেহেদী ডিজাইন কর্ণার। এমন কি বাচ্চারাও বিভিন্ন রকমের স্টল সাজিয়ে বসেছিলো স্বানন্দে। বাচ্চাদের স্টলগুলো মধ্যে ছিলো, ওয়ারিশাস ব্রেসলেট হাব, মাহিয়াস সুইট শপ, আরিজস বাবল পপ ইত্যাদি। মেলায় পরিবেশিত হয়েছিলো তেলাওয়াত, নাচ, গান ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন রকমের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নুসরাত তামান্নার মিউজিক স্কুলের তত্ত্বাবধানে বিদেশের মাটিতে জন্ম গ্রহণ ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাচ্চারা গেয়েছে জাতীয় সংগীত, সাথে যোগ দিয়েছিলেন বড়রাও। গণকণ্ঠে গাওয়া হয়েছিলো বৈশাখী গান। ছোট বড় অনেকের কণ্ঠেই ছিলো নজরুল ও আধুনিক গান। ছিলো জমজমাট ব্যান্ড সংগীতের ঝংকার।

রুবিমনার অন্যতম সক্রিয় সদস্য, থার্রক বাংলা বৈশাখী মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা নাসিমা রহমান জানান, আমাদের অনেক দিনেরই একটা স্বপ্ন ছিলো যে, পুরো টিলবারি তথা থার্রকবাসীকে একত্রিত করে একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারার একটা সুব্যবস্থা করা। কারণ, আমরা প্রবাসী বাঙ্গালীরা যারা বিদেশে থাকি, তাদের নিজের কমিউনিটিতে পরিচয় বিস্তার থাকলে যে কোনো বিপদে আপদে, আনন্দে অনুষ্ঠানে নিজেদের অস্তিত্্ব আরও সরব ভাবে জানান দেয়া সম্ভব হবে বিশ্ববাসীকে। এই মহৎ উদ্দেশ্য থেকেই তিনি রুবিমনার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এই মেলার উদ্যোগ নেন।
রুবিমনার আরেক সদস্য নাহার বলেন, বিদেশী ভাষার ভিড়ে জন্মে ও বেড়ে ওঠে বাচ্চারা যে কপ্লিট সুরে ও তালে বিদেশের মাটিতে দেশীয় ভাষায় গান গেয়েছে, দেশীয় গানে নৃত্য করছে এটা এই মেলা উপলক্ষেই সম্ভব হয়েছে। তাই, এই রকম আরও অনেক মেলা বা বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রায়ই করা উচিত মূল শহরের বাইরেও বিভিন্ন কাউন্টি সাইডগুলোতে। যাতে কাউন্টি সাইডে বসবাসরত প্রবাসী বাচ্চারা তাদের পূর্বপুরুষদের কালচারের সাথে সহজেই সম্পৃক্ত হতে পারে।
রুবিমনার সদস্য ফারহানা বারী বিথী বলেন, বিভিন্ন রকমের মেলা তাদেরকে কাস্টমারের কাছাকাছি যেতে সাহায্য করে। যাতে করে কাস্টমাররা সামনাসামনি দেখে কনফিডেন্টের সাথে তাদের পছন্দমত প্রোডাক্ট পার্চেস করতে সামর্থ হয়। রুবিমনার সদস্য রুমা জামান বলেন, মেলায় আসলেই কেবল পাওয়া যায় বাংলাদেশী বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের স্বাদ।

মিথিলাস ক্রিয়েটিভ কর্ণারের মিথিলা ইসলাম মজুমদার বলেন, এসব মেলা নতুন ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তারা তাদের নিজেদের ট্যালেন্ট সবার সামনে তুলে ধরতে পারেন। রানীস পিঠাঘরের রানী বলেন, মেলার মত এমন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আমাদের বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী পিঠা পুলির সাথে পরিচয় করানো সম্ভব নতুন প্রজন্মকে।
উল্লেখ্য, রুবিমনা মূলত একটি অনলাইন শপিং পেইজ। রুমা, বিথী, মন্নি, নাহারার আদ্যক্ষর দিয়ে এই পেইজের নামকরণ করা হয়েছে। পেইজে মেয়েদের শাড়ি, সেলওয়ার-কামিজ এবং বিভিন্ন রকমের গহনা বিক্রি করা হয়ে থাকে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

