বাংলাদেশ এখন ফ্রিল্যান্সিং থেকে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করে-লন্ডনে আইএফআইসি ব্যাংকের রেমিটেন্স রোড শো’তে সালমান এফ রহমান
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ মে ২০২৩
প্রবাসীদেরকে বৈধপথে, ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ প্রেরণে উদ্ধুদ্ধ করণের লক্ষ্যে আইএফআইসি ব্যাংক ও লন্ডনস্থ অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি মানি ট্রান্সফার ইউকের যৌথ উদ্যোগে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হলো ‘আইএফআইসি রেমিটেন্স এন্ড আমার বন্ড রোড শো’।
গত ৮ মে সোমবার পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সী হলে অনুষ্ঠিত এই জাঁকজমক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
তিনি প্রবাসীদের বৈধপথে দেশে অর্থ প্রেরণের আহবান জানিয়ে বলেন, সরকার বিভিন্নভাবে বৈধপথে অর্থপ্রেরণে মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করছে। বৈধপথে অর্থ প্রেরণ করলে একদিকে আপনি আড়াই পার্সেন্ট প্রণোদনা পাচ্ছেন, অন্যদিকে আপনার দেশ উপকৃত হচ্ছে। আপনাদের প্রেরিত অর্থেই দেশে আজ অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, আইএফআইসি ব্যাংক শীঘ্রই মুনাফাভিত্তিক বন্ড চালু করতে যাচ্ছে। আশা করছি, প্রবাসীরা এই বন্ডে বিনিয়োগ করে লাভবান হবেন।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্ট সালমান এফ রহমান সরকারের বিভিন্ন উনয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিলো ৯৬ বিলিয়ন ডলার আর ১২ বছরের মাথায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে এখন ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ২০০৯ সালে দারিদ্রতার হার ছিলো ৪৪ পার্সেন্ট। বারো বছরের মাথায় তা নেমে এসেছে ১৮ শতাংশে । সরকার দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৫ কোটি মানুষকে দারিদ্রতা থেকে বের করে আনতে পেরেছে। যেসব মানুষের বাড়ি নেই সরকার তাদের জমি দিচ্ছে । আবার বাড়িও তৈরি করে দিচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে আমরা দারিদ্রতার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সচেষ্ট হবো।

তিনি বলেন, ভারতের পরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ফ্রিল্যান্সার কাজ করে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে সবধরনের সুযোগ সুবিধা করে দিয়েছেন। এখন আমরা ফ্রিল্যান্সিং থেকে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি উপার্জন করে থাকি। তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন গোটা বিশ্বের জন্য একটি দৃষ্টান্ত
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী শাহ আলম সারোয়ার ও আইএসআইসি মানি ট্রান্সফার ইউকের চেয়ারম্যান নাজমুস সাকিব। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইএফআইসি মানি ট্রান্সফার ইউকের সিইও মনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক উর্মি মাযহার ও মিডিয়া পার্টনার ছিলো এফএম মিডিয়া হাউজ লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে লন্ডনের ১৩টি মানি ট্রান্সফার এজেন্টকে আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে এপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ফেয়ারডিল এক্সপ্রেস মানি ট্রান্সফারের ডাইরেক্টর মুহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন, জমজম এক্সচেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এর ডাইরেক্টর গুলজার আহমদ, লাব্বায়েক লিমিটেডের স্বত্তাধিকারি হাফিজুর রহমান চৌধুরী, বিদেশপে লিমিটেডের ডাইরেক্টর শের মাহমুদ শায়কা, পিবিএল সার্ভিস লিমিটেডের ডাইরেক্টর শিবলু রহমান, পার্লস রিলায়েন্স লিমিটেড এর ডাইরেক্টর ফরহাদ আহমদ, সাফওয়ান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড-এর ডাইরেক্টর সুমন আহমদ, এস.এ.এস এন্টারপ্রাইজ লন্ডনের ডাইরেক্টর মোঃ শফিজুর রহমান, সোনালী বিজনেস সেন্টার ইউকে লিমিটেড এর ডাইরেক্টর নুর আহমদ, সোনালী ট্রাভেলস এন্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড এর ডাইরেক্টর আব্দুল আজিম, টি.এন.এম এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এর ডাইরেক্টর মোঃ নাসির উদ্দিন আহমদ ও ইউএমটি ট্রাভেলস এন্ড এক্সচেঞ্জ লিমিটেড এর ডাইরেক্টর মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি সালমান এফ রহমানসহ অতিথিরা ১৩ জনের হাতে অনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমানের বক্তব্যের পর উপস্থিত কমিউনিটির বিশিষ্টজনকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, প্রবাসীরা বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে কবে স্মার্ট আইডি-কার্ড পাবেন।
জবাবে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রেরণে প্রবাসীদের উদ্ধদ্ধু করতে বর্তমান আড়াই পার্সেন্ট প্রণোদনা কি আরো বৃদ্ধি করা যায়, তিনি বলেন বাড়ানোর সুযোগ নেই।
লন্ডনে আইএফআইসি ব্যাংকের শাখা স্থাপনের প্রশ্নে তিনি বলেন, তাদের পরিকল্পনা আছে। সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই চলছে । প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করলে একসময় তা দখল হয়ে যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দখল করে আপনাদের বিনিয়োগ পার্টনার। এটাই আমরা দেখে আসছি। তাই পার্টনার পছন্দ করতে সতর্কতার সাথে করবেন। আর নতুনা নিজে নিজে বিনিয়োগ করবেন। প্রশ্নোত্তরপর্ব শেষে নৈশভোজের মাধ্যমে রেমিটেন্স রোডশো’র সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, এর আগে ৫ মে শুক্রবার বিকেলে আইএফআইসি রেমিটেন্স রোডশোকে সফল করার লক্ষ্যে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন আইএফআইসি ব্যাংকের সিইও শাহ এ সারওয়ার, আইএসআইসি মানি ট্রান্সফার ইউকের চেয়ারম্যান নাজমুস সাকিব। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইএসআইসি মানি ট্রান্সফার ইউকের সিইও মনোয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ডাইরেক্টর কামরুন নাহার আহমদ, ডাইরেক্ট রাবেয়া জামিলি, ডাইরেক্ট জাফর ইকবাল, ডাইরেক্টর শুধাশু শেখর বিশ্বাস ও ডাইরেক্ট গোলাম মোস্তফা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

