‘রিয়া’র প্রতি মানুষের আস্থা ও ভরসার মুল কারণ অর্থের নিরাপত্তা- বিশেষ সাক্ষাৎকারে কান্ট্রি ম্যানেজার ইভার্স লোপেজ
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ এপ্রিল ২০২৩
তাইসির মাহমুদ
‘রিয়া’। মানি ট্রান্সফার জগতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয় এক নাম । এক দেশ থেকে অন্যদেশে অর্থ প্রেরণের সবচেয়ে নিরাপদ ও দ্রুততম মাধ্যম । শুধু যুক্তরাজ্য কিংবা ইউরোপ, আমেরিকার দেশেই ‘রিয়া’র কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়, এর সার্ভিস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চলে । প্রতিটি দেশেই রিয়া এখন জনপ্রিয় । রাস্তার মোড়ে মোড়ে, দোকানে দোকানে শোভা পায় ‘রিয়া’মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের সাইবোর্ড ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো যুক্তরাজ্যেও ‘রিয়া’ খুব জনপ্রিয় । এখনকার বাংলাদেশী কমিউনিটিতে রিয়া আরো জনপ্রিয়। দেশে টাকা পাঠানোর কথা ভাবলেই রিয়ার কথাই সর্বাগ্রে মাথায় আসে । আর যেহেতু প্রবাসী বাংলাদেশীরা যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রিয়জনের কাছে রিয়ার মাধ্যমে টাকা পাঠান তাই বাংলাদেশেও এই কোম্পানী সবধিক জনপ্রিয়।
এই ক’বছর আগেও আজকের মতো মানি ট্রান্সফারের উন্নত ব্যবস্থা না থাকায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশীদের বেশিরভাগই হুন্ডিতে করে দেশে টাকা পাঠাতেন । আর হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হতো। বিভিন্ন সময় অনেক হুন্ডি প্রতিষ্ঠান প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে দেশে পাঠানোর পরিবর্তে ‘উধাও’ হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। তাই দেশে টাকা পাঠানোর অনশ্চিয়তার মধ্যে থাকতে হতো প্রবাসীদের ।
এই অবস্থায় ২০০৭ সালের দিকে ইউরোপের বাজারে ব্যবসা শুরু করে রিয়া। খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানি ট্রান্সফার জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করে কোম্পানীটি । এখন আর দেশে টাকা পাঠিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়না প্রবাসীদেরকে। মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু হওয়ায় মুহুর্তের মধ্যে রেমিটেন্স পৌঁছে যায় প্রিয়জনের কাছে।
মানি ট্রান্সফার জগতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর এবং জনপ্রিয় হয়েওঠার গল্প শুনতে সাপ্তাহিক দেশ মুখোমুখি হয়েছিলো ‘রিয়া’র যুক্তরাজ্য কান্ট্রি ম্যানেজার হোসে ইভারস-লোপেজ-এর। সম্প্রতি কোম্পানীর ওয়েস্ট লন্ডনের ব্যাকার স্ট্রিটস্থ প্রধান কার্যালয়ে সাপ্তাহিক দেশকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি । জানিয়েছেন রিয়া বিশ্বের মানুষের কাছে বিশ্বস্ত ও তুমুল জনপ্রিয় মানি ট্রান্সফার হয়েওঠার পেছনের গল্প।

যেভাবে যাত্রা শুরু
একান্ত সাক্ষাৎকারে ইভারস-লোপেজ জানান, অ্যামেরিকা থেকে বহির্বিশ্বে রেমিটেন্স পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৭ সালে নিউ ইয়র্কে যাত্রা শুরু করে রিয়া । দ্রুত, নিরাপদে ও কম খরচে অর্থ পাঠানোর ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে ‘রিয়া’র খুব বেশি সময় লাগেনি । ২০০৭ সালে ইউরোনেট ওয়ার্ল্ডওয়াইড এর স্বত্ত্বাধিকার গ্রহণ করে । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রসারিত হতে থাকে রিয়া । ইউরোপ ও এশিয়ার গণ্ডি পার হয়ে আফ্রিকার বহু দেশে এখন এই প্রতিষ্ঠান কাজ করছে । বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মানি ট্রান্সফার সার্ভিস ‘রিয়া’।
ইউরোনেট মূলত একটি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। কাজেই রিয়া’য় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষসাধন একটি অব্যাহত ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, আর্থিক প্রযুক্তিখাতে তাদের নিয়মিত বিনিয়োগ রেমিটেন্স ট্রান্সফারের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। সেবাগ্রহিতারাও এর সুফল পাচ্ছেন। । বর্তমানে রিয়া ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ৩৫ বছর ধরে রেমিটেন্স সেক্টরে কাজ করছে রিয়া।
‘রিয়া’ নামের অর্থ:
‘রিয়া’ নামটি প্রসঙ্গে লোপেজ বলেন, শব্দটির অর্থ রেমেসেস ইন্টার-অ্যামেরিকানাস বা ইংরেজিতে ইন্টার অ্যামেরিকান রেমিটেন্স । প্রতিষ্ঠানটি এখন আর অ্যামেরিকা মহাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় । বিশ্বব্যাপী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান এটি । তাদের লক্ষ্য, সবধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে বিশ্বের যে কোনো স্থানে অর্থ পৌঁছে দেয়া—দ্রুততম সময়ে, নিরাপদে এবং কম খরচে। এখন এই প্রতিষ্ঠানের মুল প্রতিপাদ হচ্ছে, ‘রোজকার জীবন উন্নত করার পথ খুলে দেই আমরা।’

রিয়ার সেবার ব্যাপ্তী
ইভাস-লোপেজ দাবি করেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান অন্য যেকোনো মানি ট্রান্সফার কোম্পানির চেয়ে স্বতন্ত্র। তাদের ব্যাংক-ডিপোসিট নেটওয়ার্ক বিশ্বে সর্ববৃহৎ। ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাদের কোম্পানী সংযুক্ত । তাদের মূল লক্ষ্য গ্রাহকদের কাজ সহজ করে দেয়া। আর এ লক্ষ্য থেকেই প্রযুক্তি ব্যবহার করেন তারা। ৯০ শতাংশ আর্থিক লেনদেন রিয়েল টাইমের মধ্যেই হয়ে থাকে।
ইভাস-লোপেজ জানান, মধ্যসত্ত্বভোগীদের বাদ দেয়ার কারণে অর্থ পাঠাতে তাদের সময় অনেকটাই কম লাগে। বিশ্বজুড়ে তাদের একটি বিশ্বস্ত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। যাদের ট্র্যাক রেকর্ড পরীক্ষিত। তারা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করেন। ফলে লেনদেনের খরচ ও সময়—দুই-ই বাঁচে। বজায় থাকে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা।
বাংলাদেশী কমিউনিটিতে রিয়ার অবস্থান:
ইউকের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে রিয়া বেশ জনপ্রিয়। এ প্রসঙ্গে ইভারস-লোপেজ বলেন, তাদের দ্রুত ও নিরাপদে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে সাফল্যই এর মূল কারণ। তাছাড়া বাংলাদেশে ক্যাশ পে আউটের সবচেয়ে বেশি লোকেশন এখন তাদেরই । মোবাইল ব্যাংকিং-এর জন্যও তারা সম্প্রতি তিনটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছেন। তা ইতিবাচকভাবে কাজ করছে।
ইউকে থেকে অর্থ পাঠানোর ব্যাপারে আস্থা রাখা যায়-এমন যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের মধ্যে ‘রিয়া’ অন্যতম । রিয়া অ্যাপ বা ইউকেজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রিয়ার ২০০০ অ্যাজেন্টের মাধ্যমেও যে কেউ দেশে অর্থ পাঠাতে পারেন।
বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ বাংলাদেশে রিয়াকে খুঁজে পাওয়া বেশ সহজ। দেশের মোট ৫৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩০ হাজারের লকেশনে রেমিটেন্স পাঠানো হয় । রেমিটেন্সের বেশিরভাগ অর্থই যায় সিলেটে। তাই রিয়ার উপস্থিতিও সেখানেই সবচেয়ে বেশি।
বিশ্বজুড়ে অর্থ লেনদেনের জন্য মানুষ নানা ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করে। মোবাইল ফোন ওয়ালেটেও এখন লেনদেন হচ্ছে। সেবা গ্রহিতারা এখন আর একটি মাত্র চ্যানেল ব্যবহার করছেন না। ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন অ্যাপ । রিয়াও তাদের নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে। তাদের অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহারের জন্য সেবাগ্রহিতাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে নানাভাবে।

মানুষ কেন রিয়াকে বেছে নেবে
বাজারে আরো বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার থাকা সত্ত্বে মানুষ কেন অর্থ পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে রিয়াকেই বেছে নেবে—এমন এক প্রশ্নের জবাবে ইভাস-লোপেজ বলেন, তারা সব সময়ই বাঙালি কমিউনিটির কাছাকাছি থাকা এবং তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করেন। তারা মনে করেন, বিশ্বাস অর্জন করতে হয় । আর যারা তাদের কষ্টে উপার্জিত অর্থ অন্য কারো হাতে তুলে দেন তাদের সম্মান করতেই হয় । এর অর্থ হচ্ছে, সেবা গ্রহিতাদের সব কিছু কেন্দ্রে রাখতে হবে। এছাড়াও রিয়া স্বল্পকালীন প্রাপ্তিতে নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্জনে বেশি আগ্রহী। এক্ষেত্রে দীর্ঘ দিন থেকে কাজ করায় তারা বোঝেন সেবাগ্রহিতাদের কী প্রয়োজন। সঠিক সময়ে অর্থ অভিবাসীদের প্রিয়জনের হাতে পৌঁছে দেয়া জরুরি । অতীতে যা নিয়ে মানুষের নানা ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এ কারণেই তিনটি মোবাইল নেটেওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছে রিয়া । তিনি জানান, রিয়ার প্রতিটি লেনদেনে অন্তত ২২০ পাউন্ড পাঠানো হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে যায় ২১ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকে রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে বছরে ২১ বিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়ে থাকে । এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছে । অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে ৫.৪ বিলিয়ন ডলার এবং সিলেটে ২.১ বিলিয়ন ডলার । ইউকে থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাঠানো হয় তার ৮০ শতাংশই যায় সিলেটে । কারণ ইউকেতে বহু সিলেটির বাস।
ইউকে থেকে বাংলাদেশে বছরে যায় ৪৬৯ মিলিয়ন ডলার প্রেরণ
২০১৭ সালের এক হিসাব অনুযায়ী শুধু ইউকে থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে ২৬.৮ বিলিয়ন ডলার । এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে ৪৬৯ মিলিয়ন ডলার । এ ব্যাপারে সাম্প্রতিক তথ্য প্রদানে অবশ্য নারাজ ইভারস-লোপেজ। তবে তিনি জানান, ইউকে থেকে তারাই সর্বোচ্চ অর্থ পাঠিয়ে থাকেন ।
বাংলাদেশে ৪৭.৫ মিলিয়ন অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের সঙ্গে যুক্ত
বাংলাদেশে রিয়ার অফিসও রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে রিয়ার ৩০ হাজার স্টোর, এজেন্ট এবং পে আউট লোকেশন রয়েছে । তারা সম্প্রতি ৫৮ টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করছে । বাংলাদেশে মোট ৪৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের সঙ্গে কাজ করেন তারা। এছাড়া অ্যাকাউন্ড হোল্ডারের অর্থ বিকাশের মতো মোবাইল ওয়ালেটে ট্রান্সফারের সুযোগও তারা দিয়ে থাকেন।
‘রিয়া’র আর কী সেবা আছে?
অর্থ লেনদেন ছাড়াও বাংলাদেশে ‘রিয়া’ সেবাগ্রহিতাদের বিল পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। এই সেবা নিয়ে তারা মোবাইল ফোনের বিল, ক্যাশ চেক করা এবং অন্যান্য অর্থিক সুবিধা নিতে পারে।
আর্থিক লেনদেন ছাড়াও ইউকেতে রিয়ার সেবাগ্রহিতারা কারেন্সি বিনিময়ের সুযোগ পেয়ে থাকে। বাই ব্যাক অপশনের মাধ্যমে কারেন্সি বিনিময় এবং হলিডে মানির সুযোগ রয়েছে সেবাগ্রহিতাদের জন্য।
রিয়ার অর্থ পাঠানোর পরিমাণ নির্ভর করে যে দেশ থেকে পাঠানো হচ্ছে এবং যে দেশে যাচ্ছে সেই দেশের আইনী ব্যবস্থার ওপর । রিয়া তাদের সকল সেবা গ্রহিতার সঙ্গেই অভিন্ন আচরণ করে থাকে। তবে নতুন সেবাগ্রহিতার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম রয়েছে।
হোয়াইটচ্যাপেলে আরো এজেন্ট কেন নয়:
পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায় রিয়ার আরো এজেন্ট নিয়োগের প্রসঙ্গে ইভাস-লোপেজ বলেন, যে কোনও ব্যস্ত রোডেই তারা যত বেশি সম্ভব রিয়ার এজেন্ট দিতে আগ্রহী। হোয়াইটচ্যাপেলও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। সেখানে রিয়ার বেশ কয়েকটি এজেন্ট রয়েছে। তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে চায় রিয়া। আর এ কারণেই এখনই নতুন করে এই এলাকায় এজেন্ট নিয়োগের পরিকল্পনা তাদের নেই।
রেমিটেন্স পাঠাতে কড়াকড়ির কারণ
রিয়ার এজেন্টে অর্থ পাঠাতে গিয়ে মানুষ নানা ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়ে—এত কড়াকড়ির কারণে কী—এমন এক প্রশ্নের জবাবে ইভাস-লোপেজ বলেন, গ্রাহকদের অর্থের সুরক্ষা দেয়াই তাদের কড়াকড়ি ব্যবস্থার প্রধান কারণ। একই সঙ্গে দ্রুত এবং আস্থা রাখা যায় এমন পদ্ধতিতে টাকা পৌছে দেয়াও তাদের উদ্দেশ্য। রিয়া নিশ্চিত করতে চায় তারা, প্রকৃত গ্রাহক ও তাদের পরিবারকে সেবা দিতে পারছে । মানি ট্রান্সফার অপারেটর হিসেবে তারা ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তাদের ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ (আপনার কাস্টমার সম্পর্কে জানুন) নামে একটি প্রোগ্রাম রয়েছে । জালিয়াতি, অর্থ পাচার এবং অন্যান্য আর্থিক জালিয়াতি দূর করে প্রকৃত সেবাগ্রহিতাদের সহায়তা করাই এই প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশি গ্রাহকদের জন্য অফার
বাংলাদেশি সেবাগ্রহিতাদের জন্য তাদের বিশেষ কোনো অফার আছে কিনা- জানতে চাইলে ইভান বলেন, বিশ্বজুড়ে রিয়ার সেবাগ্রহিতাদের জন্য নানা ধরনের অফার ও বিশেষ অফার বছরজুড়ে চলতে থাকে। অফারগুলো সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত থাকা অথবা ইমেইলে সাইন আপ করা। এছাড়া নিকটবর্তী রিয়া অফিসের কর্মীরা এ ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে। এ বছরের শেষ দিকে রিয়ার মিডিয়া পার্টনার সাপ্তাহিক দেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাতব্য প্রকল্পে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনার কথা জানান ইভারস-লোপেজ।
চিত্রগ্রহণ: খালিদ হোসাইন


