প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলন : ৯ এপ্রিল মে-ফেয়ার ভ্যানুতে ‘রমজান এবং ঈদ মেলা’ ২০২৩
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ মার্চ ২০২৩
দেশ রিপোর্ট, ৮ মার্চ ২০২৩: গত বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ এপ্রিল রোববার পূর্ব লন্ডনের মে-ফেয়ার ভ্যানুতে আয়োজন করা হচ্ছে দিনব্যাপী ‘রমজান এবং ঈদ মেলা ২০২৩’ । ওইদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য মেলার সমাপ্তি ঘটবে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে। মেলায় অংশগ্রহণকারি ৫ শতাধিক মানুষের জন্য ফ্রি ইতফারের আয়োজন থাকবে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘নেক মার্ট লিমিটেড’ মেলার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে গত ৩ মার্চ শুক্রবার বিকেলে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেলার আয়োজক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ব্যারিস্টার নিশাত খুশবু। এসময় উপস্থিত ছিলেন নেক মার্ট লিমিটেডের পরিচালক মোঃ মাসুদ চৌধুরী, ব্যবসায়ী চপল দাস ও হারবালিস্ট নন্দিতা শারমিন।
লিখিত বক্তব্যে মেলা আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে ব্যারিস্টার নিশাত খুশবু বলেন, মেলায় প্রবেশে কোনো ফি পরিশোধ করতে হবেনা । আর ইফতারের জন্য ফ্রি কুপন সংগ্রহ করতে হবে । দিনব্যাপি উৎসবমূখর পরিবেশে চলবে ঈদের কেনাকাটা। মেলায় থাকবে শাড়ি, সেলোয়ার কামিজ, গয়না, হার্বাল প্রডাক্ট, ইসলামিক পোশাক, সুগন্ধী, খাবার, মেহেদীসহ বিভিন্ন রকমের আয়োজন । যেকোনো ব্যবসায়ি স্টল বরাদ্দ নিতে পারবেন । মেলার ভ্যানুর আশেপাশে পর্যাপ্ত ফ্রি পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে । যাতায়াতে পাবলিক ট্রান্সপোর্টেরও রয়েছে সুন্দর ব্যবস্থা।
মেলায় পুরুষ এবং নারীদের জন্য নামাজ এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকবে । সাথে থাকবে ছোট্ট শিশুদের নাশিদ এবং কুরআন তেলায়াত, বাউন্সি ক্যাসল। দূপুর ৩ টায় সবার জন্য থাকছে একটি বিশেষ ঘোষনা, যেখানে কমিউনিটির অগ্রগতির কথা চিন্তা করেই আমরা বাজারে আনতে যাচ্ছি একটি নতুন কোম্পানী তার ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ । শুধু তাই নয়, আমরা একটি ম্যাগাজিন প্রকাশেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এই ম্যাগাজিনের জন্য যে কেউ লেখা জমা দিতে পারবে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরিচিতিও তুলে ধরতে পারবে। ম্যাগাজিনটি আমাদের ওয়েবসাইটেও ফিচার করা হবে। মেলায় রাফেল ড্র’র ব্যবস্থা থাকবে। এ থেকে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ খরচ করা হবে বাংলাদেশের একটি এতিমখানার শিশুদের ঈদের পোশাকের জন্য।
আশা করছি আমাদের এবারের মেলাতেও অংশগ্রহনকারী সকল বিক্রেতা, নারী উদ্যোক্তা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবেন, অনলাইনে গড়ে ওঠা ব্যবসাগুলো ক্রেতাদের কাছে একটি মজবুত আস্থার স্থান গড়ে নিবে এবং মেলায় আগত দর্শনার্থীরাও পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের আগাম উৎসবে মেতে উঠবেন।
ব্যারিস্টার নিশাত খুশবু তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় ও এ ধরনের আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, আইনপেশা এবং আইন বিষয়ক পড়াশোনার পাশাপাশি আমার আরেকটি পছন্দের কাজ হচ্ছে, কমিউনিটির মানুষের উপকার হয় এমন কোনো কাজ করা। ছাত্র জীবন থেকেই চেষ্টা করেছি, সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে।
সেই চিন্তা থেকে কোভিডের সময় থেকে মুঠোফোনে শুরু করি। যেই যাত্রাটির নাম- সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েশন।
প্রথম দিক থেকেই বিভিন্ন রকমের ক্রিয়েটিভ কন্টেন্ট তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার দর্শকদের সাথে তথ্যের একটি আদান প্রদান শুরু করি । ধিরে ধিরে ইউটিউবের সিলভার বাটন লাভ করি এবং ফেইসবুকে ৫ লক্ষের কাছাকাছি ফলোয়ার অর্জন করি।
আমার কাছে আমার দর্শকরা শুধু একটি সংখ্যা নয়, জনশক্তি। আর আমি মনে করি এই জনশক্তি মিলে একটি উন্নয়নশীল সমাজ যেমন গড়তে পারে, ঠিক একইভাবে দেশের অগ্রগতিতেও ভূমিকা পালন করতে পারে।
আমি যেহেতু মানুষটা খুব সামান্য। তাই ক্ষুদ্র পরিসরেই শুরু করি । আমার সোশ্যাল মিডিয়ার জনশক্তি সাথে নিয়ে গত দুই বছরে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াসে চেষ্টা করেছি ছোট বড়, মূলত বাংলাদেশী ব্যবসাগুলোকে প্রমোট করে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমার ব্যবসায়িক ধারনাগুলো তাদের সাথে শেয়ার করতে এবং যথাযথভাবে তা কাজে লাগাতে। আল্লাহর অশেষ রহমতে কমবেশি সকলেই উপকৃত হয়েছেন।
আমার উদ্দেশ্য ছিল মূলত সমাজের নারীদের নিয়ে কাজ করা, তাদেরকে একটু আত্মনির্ভরশীল করা এবং অর্থনৈতিকভাবে তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কারণ আমি বিশ্বাস করি যেকোনো সমাজ বলেন, আর দেশ বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতিই মূল ভূমিকা পালন করে অগ্রগতির জন্য। আর নারীদের কথা প্রথমে চিন্তা করার বিষয়টি প্রথমে আসে আমার পিএইচডির প্রপোজাল তৈরী আর আইনপেশার কারনে দেখা বিভিন্ন ঘটনার কারনণ।
আমাদের সমাজে অনেক নারীরাই বাসার বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারেন না পারিবারিক কারনে, সন্তানের কারনে অথবা বিভিন্নধরনের ব্যক্তিগত কারনে । ধিরে ধিরে কিছু নারী হতে পরেন অন্যের ওপর নির্ভরশীল এবং অসহায়। মাঝে মাঝে কেউ কেউ শিকার হন বিভিন্ন রকমের পারিবারিক নির্যাতনের।
কোভিড পরবর্তি সময়ে বিভিন্ন কারণে একজন দুজন করে নারীরা শুরু করেন অনলাইন বিজনেস। আমিও নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করি। ধিরে ধিরে গত দুই বছরে বিশেষ করে অনলাইনে গড়ে ওঠে অনেকগুলো বিসনেস। দিনশেষে অনলাইনে আস্থার একটি স্হান তৈরী করে নেয়া এবং নিজের যত্নের একটি পন্য সবার সামনে তুলে ধরার স্বাদ সবার, কিন্তু সাধ্য যে নেই সবার । এই সাধ্যের ব্যবস্থা করতেই, গত বছরে মাথায় আসে রমজান মাসে একটি মেলা করার । সকলের সহযোগিতায় খুব বড় করে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ডের আকলু প্লাজাতে অনুষ্ঠিত হয় নিশাত খুশবু আয়োজিত দুইদিন ব্যাপি “ রমজান এবং ঈদ মেলা ২০২২” । বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই, বড় ভাই চপল দাস, জনাব আকলু মিয়া, জনাব আতাউল্লাহ ফারুক, আমার স্বামী জনাব মাসুদ চৌধুরী এবং কমিউনিটির সকলকে যারা গত বছরে আমার ছোট্ট চেষ্টাটিকে আন্তরিকভাবে উৎসাহ দিয়ে সফল করতে সহযোগিতা করেছিলেন।

