ফরেস্টগেইট গোরস্থানে সমাহিত হলেন হাজি মোহাম্মদ চান মিয়া
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ নভেম্বর ২০২২
স্টেপনী শাহজালাল মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে ফরেস্ট গেইট গোরস্থানে সমাহিত হলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমানের চাচা, প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হাজি মোহাম্মদ চান মিয়া। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে তিনি ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন তাঁর জানাজা যেন শাহজালাল জামে মসজিদেই হয়। কারণ এই মসজিদের খেদমতে তিনি তাঁর মন ও দেহকে নিয়োজিত রেখেছিলেন বছরের পর বছর। তিনি ছিলেন মসজিদের ট্রাস্টি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট। মসজিদ কমিটিও তাঁর ওসিয়ত পূর্ণ করেছেন। কারণ সাধারণত স্টেপনী মসজিদে জানাজার জামাত আয়োজন করা হয়না।
গত ১৫ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় মুসল্লিগণ ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই জড়ো হতে থাকেন স্টেপনী মসজিদ প্রাঙ্গণে। মসজিদের ভেতরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বাইরের পার্কেও নামাজ পড়তে হয়েছে। জোহরের নামাজ দুই জামাতে আদায় করে তারপর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুম চান মিয়ার নাতি লন্ডন ইসলামিক স্কুলের প্রাক্তণ ছাত্র সোলাইমান ইয়াহইয়া মামুন। জানাজাপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান তাঁর চাচার জন্য দোয়া চাইতে গিয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার চাচা খুবই ধর্মভীরু ছিলেন। মসজিদ-মাদ্রাসার খেদমতে তিনি তাঁর সারাটি জীবনই ব্যয় করেছেন। মেয়র বলেন, আমার জীবনে চাচার অবদান কোনোদিনও ভুলার মতো নয়। আমি কোনোদিনও তাঁর ঋণশোধ করতে পারবো না। সেই তরুণ বয়স থেকে এই পর্যন্ত আমার সকল সাফল্যের পেছনে চাচার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি সকলের কাছে তাঁর চাচার রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া কামনা করেন।
তিনি বলেন, গত রোববার ভোরে তাঁর চাচা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু এর আগ পর্যন্ত তিনি শারিরীকভাবে ভালো ছিলেন। এমনকি মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি পরিবারের স্বজনদের সাথে কথা বলেছেন। অনেক বিষয়ে ছোট্ট ছোট্ট উপদেশ দিয়ে গেছেন। স্টেপনী মসজিদে তাঁর জানাজা আয়োজনের জন্য ওসিয়ত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হাজী মোহাম্মদ চান মিয়া ১৩ নভেম্বর রোববার ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে পূর্ব লন্ডনের স্টেপনী গ্রীনে নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলো ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে, ৩ মেয়ে নাতি-নাতনিসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সিলেটের ওসমানী নগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর (মাজগাও)-এর এই সুসন্তান ১৯৫৩ সালে লন্ডন আসেন। দেশে থাকাকালে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। মেয়র লুৎফুর রহমানের তরুণ বয়সকালে তাঁর উচ্চতর লেখাপড়ায় সহযোগী ছিলেন জনাব চান মিয়া।

