লন্ডনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো গোলাপগঞ্জ উৎসব
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ অক্টোবর ২০২২
লন্ডনে সিলেটের গোলাপগঞ্জবাসীদের নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো গোলাপগঞ্জ উৎসব। গত ২৩ অক্টোবর রোববার পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আট সেন্টারে অনুষ্ঠিত গোলাপগঞ্জ উৎসব যেন পরিণত হয়েছিল মিলনমেলায়। লন্ডনের বুকে গোলাপগঞ্জ উৎসব যেন হয়ে উঠে একখণ্ড গোলাপগঞ্জ।
উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকেও এসেছিলেন উৎসবপ্রিয় গোলাপগঞ্জের মানুষ। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পশ্চিমা ধারায় বেড়ে ওঠা প্রজন্মের শেকড়মুখি হওয়ার একটি উপলক্ষ্যও যে এই উৎসব সেটাই লক্ষ্য করেছেন গোলাপগঞ্জবাসী।
বেলা সাড়ে ১২টায় শুরু হয় গোলাপগঞ্জ উৎসব-এর আনুষ্ঠানিকতা। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল বাছিতের সভাপতিত্বে লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পীকার কাউন্সিলর শাফি আহমদ এবং বার্কিং ও ডেগেনহাম বারা কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলার ফারুক চৌধুরী বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্ধোধন করেন। এ সময় ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি সাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহান এবং ট্রেজারার বদরুল আলম বাবুল সবাই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
গোলাপগঞ্জ উৎসবে বিভিন্ন পর্বে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফর রহমান, লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পীকার কাউন্সিলর শাফি আহমদ, কেমডেন কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর নাসিম আলী ওবিই, বার্কিং ও ডেগেনহাম বারা কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলার ফারুক চৌধুরী, ওয়ার্থিং বারা কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলার ফেরদৌসী হেনা চৌধুরী, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমদাদুল হক চৌধুরী, আই অন টিভির সিইও আতাউল্লাহ ফারুক, সাবেক স্পীকার আহবাব হোসেন।
গোলাপগঞ্জ উৎসবে গোলাপগঞ্জ পদক, স্টুডেন্ট অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, সবজি বাগান প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান, গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান, গোলাপগঞ্জ হাউস- এর পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বারদের ক্রেস্ট প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ ছিল নানা আয়োজন।
উৎসবে আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি, ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মুতলিব মছন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান, তছউর আলী মাস্টার, সিটি অব ওয়েসমিনস্টার কাউন্সিলের লাইসেন্সি এর চেয়ার কাউন্সিলর ড. আব্দুল আজিজ তকি, রাজনীতিবিদ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শামীম আহমদ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার ফর সেইফার কমিউনিটিস এর কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর আ ম অহিদ আহমদ, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক রহমত আলী, লেখক গবেষক ফারুক আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের, কাউন্সিলর রেবেকা সুলতানা, কাউন্সিলর জোসনা ইসলাম, কাউন্সিলর ফায়জুর রহমান, কাউন্সিলর জায়েদ চৌধুরী, কাউন্সিলর সাবরিনা খান, কাউন্সিলর বেলাল উদ্দিন, ব্রিট বাংলা২৪ ডটকম’র এক্সিকিউটিভ এডিটর সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু, জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক আহমদ সওদাগর সায়েক ও লেখক সাংবাদিক নুরুন্নবী আলী।
সোশ্যাল ট্রাস্টের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমিন রুহেল, জহির হোসেন গৌছ, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ও আতিকুর রহমান শাফার, এসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি, রায়হান উদ্দিন ও জেনিফার সারোয়ার লাক্সমী, এসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার শিহাব উদ্দিন, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাকারিয়া, মেম্বারশিপ সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম, কালচারাল সেক্রেটারি সালেহ আহমদ, এডুকেশন সেক্রেটারি আব্দুল বাছিত, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মুহিবুল হক, স্পোর্টস সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, ইয়ুথ সেক্রেটারি কবির আহমদ, ইসি মেম্বার তারেক রহমান সানু, মুফিজুর রহমান চৌধুরী একলিল, মোহাম্মদ সুলতান আহমদ, বোর্ড মেম্বার সলিসিটর এম এ শাফি ও শাহিন আহমদ প্রমুখ।
অতিথিদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বুধবারীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি আফছর হোসেন এনাম, হাওয়া টিভির মাহমুদুর রহমান শানুর, গোলাপগঞ্জ হেলপিং হ্যান্ডস ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম, এডুকেশন ট্রাস্টের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মকলু মিয়া, গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডস ইউকের সাবেক সভাপতি ফেরদৌস আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো তাজুল ইসলাম, গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, সোশ্যাল ট্রাস্টের সাবেক আহবায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান, সোশ্যাল ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রোমান আহমদ চৌধুরী, ঢাকাদক্ষিণ উন্নয়ন সংস্থার কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামীম আহমদ প্রমুখ।
উৎসবে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠক মুজিবুল হক মনি, মিলাদ চৌধুরী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এম এ মতিন, সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুল মুনিম ক্যারল, সংগঠক জামাল খান, সাংবাদিক আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ, নাট্যকার হেলেন ইসলাম, সাংবাদিক রেজাউল করিম মৃদা, সাংবাদিক জাকির হোসেন কয়েছ, সাংবাদিক এনাম চৌধুরী, সাংবাদিক আলাউর রহমান খান, প্রকাশক বায়েজিদ মাহমুদ ফয়সল, সাংবাদিক কয়েস আহমদ রুহেল, সমাজকর্মী আশিক রহমান, সাংবাদিক ফয়ছল মাহমুদ, মনজুরস সামাদ চৌধুরী মামুন, সাংবাদিক ফজলে রহমান পিনাক, দিলোয়ার আহমেদ, সৈয়দ হাসান, হেলপিং হ্যান্ডসের কোষাধ্যক্ষ হাসান আহমদ, শামছুজ্জামান সাবুল, মোহাম্মদ শাহিন, দিলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আলি রিংকু, টাস্টি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন, সাংবাদিক ফারিয়া আক্তার, ইয়াহহিয়া খান, জি এম অপু সাহরিয়া, সুহেল আহমদ আলী আশরাফ চৌধুরী সজল, আক্সগুর মিয়া, জ্যোতি জামান, আসমা আক্তার, নাসরিন শাহজাহান, রোহেলা বেগম, জোসনা বেগম, পারভীন চৌধুরী, রওশন আরা রিতা, শামসিরা কামালী শিফা প্রমুখ।
গোলাপগঞ্জ উৎসবে ব্রিটেনে বসবাসরত গোলাপগঞ্জের যে সকল নাগরিকরা বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং বর্তমানে রেখে যাচ্ছেন তাঁদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪ জন গুণী ব্যক্তিকে ‘গোলাপগঞ্জ পদক’ দেয়া হয়।
পদকপ্রাপ্তরা হলেন, মরহুম নিসার আলী, তাসাদ্দুক আহমদ এমবিই, সালেহ আহমদ খান এমবিই ও ড. রেণু লুৎফা। উৎসবে ৪ জন জিসিএসই এবং ৩ জন এ লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা হলেন ফাইয়া জাফরিন, তায়েফ ইসলাম, সানজিদা আহমেদ, সাফরাজ মোহাম্মদ চৌধুরী, ওয়াফি আদনান আহমেদ, সামিরা খান ও তাসনিয়া হোসেন। সবজি বাগান প্রতিযোগিতায় ১৮ জন অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রথম হন মির্জা মাহফুজ আলম নিজাম, দ্বিতীয় লুৎফর রহমান, তৃতীয় মাওলানা আশরাফুল ইসলাম এবং চতুর্থ কবির আহমদ।
গোলাপগঞ্জ উৎসবে ‘গোলাপগঞ্জ হাউস’ এর ৩৬ জন পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বারকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তারা হলেন, মোহাম্মদ আব্দুল বাছিত, আনোয়ার শাহজাহান, রুহুল আমিন রুহেল, বদরুল আলম বাবুল, মোহাম্মদ জাকারিয়া, মো. নুরুল ইসলাম, নাসরিন শাহজাহান, রোমান আহমদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মকলু মিয়া, ডক্টর আব্দুল আজিজ তকি, আব্দুল কাদির হাসনাত, মোহাম্মদ সাইফুল আলম, আব্দুল হাকিম চৌধুরী, হাবিবুর রহমান, তারেক রহমান শানু, মুহিবুল হক, এম শামসুদ্দিন, আবজল হোসেন, লুৎফর রহমান, আতিকুর রহমান শাফার, জেনিফার সারোয়ার লাক্সমী, মোহাম্মদ সুলতান আহমদ, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল বাছিত, ইয়াহিয়া খান, মোহাম্মদ শামীম আহমদ, শাহরিয়ার আহমদ সুমন, তারেক উদ্দিন দৌলা, আব্দুস সামাদ, মো নুর উদ্দিন, আমির হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, মরহুম তারা মিয়া খান (পক্ষে জালাল মিয়া খান), নামর আলী, সৈয়দ রাজু আহমদ।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয় সংগীত, ধামাইল, পুঁথি পাঠ, কৌতুক, ছিলটি চিঠি সহ কবিতা আবৃত্তি। এতে অংশগ্রহণ করেন, কণ্ঠ শিল্পী দিলরুবা চৌধুরী, ডাক্তার শম্পা দেওয়ান, সাংবাদিক ও উপস্থাপক মিসবা জামাল, শতাব্দী কর, দেবব্রত রাউত তনু, রানা খান, রিংকু, লাবনী বড়ুয়া, নুরজাহান শিল্পী, ববি রায়, তানজিয়া তানিয়া তাহমিনা আক্তার শিপু, শায়েক আহমেদ সওদাগর, দিব্যেন্দু রাউত তনু, বাবুল আহমদ, ছড়াকার সৈয়দ হিলাল সাইফ, কবি শাহারা খান, কবি হাজেরা কোরেশি অপি, কবি হাফসা ইসলাম, এফটি তাহিরা জিনিয়া, পপি শাহনাজ, জিয়াউল রহমান সাকলাইন, আনিসুর রহমান বাদল, মাহমুদা শিরীন রহমান নিনি, ফখরুল আম্বিয়া ফয়জুল ইসলাম ফয়েজনুর, আনাপুরনা দেব আখি, নার্গিস রাহাত, শাম্মী খান, ডাক্তার নিতু, নৃত্য শিল্পী মোহাম্মদ দ্বীপ, টিয়া আলী প্রমুখ।

রাত সাড়ে ১০টার সময় গোলাপগঞ্জ উৎসব এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন পর্বে উপস্থাপনা করেন লেখক সাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহান, সাংবাদিক জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি, রোমানা এনাম ও আফসানা শাহজাহান। গোলাপগঞ্জ উৎসবে তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়সী এমকি অনেক বয়স্ক মানুষও সমবেত হয়েছিলেন। উৎসব প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ধরনের স্টলও ছিল। পুরো অনুষ্ঠানটি ফেইসবুক লাইভ করেন হাওয়া টিভির কিশোয়ার এনাম লিটন, বাংলাভাষী মিডিয়ার শাহারা খান, সোশ্যাল ট্রাস্টের সদস্য ইয়াহইয়া খান। গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল বাছিত, জেনারেল সেক্রেটারি আনোয়ার শাহজাহান এবং ট্রেজারার বদরুল আলম বাবুল উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

