‘রেড জোনে’ ভাগ হচ্ছে সিলেট
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুন ২০২০
দেশ ডেস্ক: সিলেটে ‘ভয়ঙ্কর’ রূপ নিচ্ছে মহামারি করোনা। এখন শ’য়ে শ’য়ে বাড়ছে রোগী। একদিনেই রোগী বেড়েছে ১৭৭ জন। টেস্ট যতই বাড়ছে, রোগীও ততই বাড়ছে। শুধু সিলেট জেলাতেই এখন সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের উপরে। সব কিছু স্বাভাবিক, এ কারণে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না করোনার ছোবল। দিন যতই যাচ্ছে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসা সেবাও সংকোচিত হয়ে আসছে। খবর: মানবজমিন।
এ কারণে করোনা নিয়ে সিলেটে সরকারি, বেসরকারি সব পর্যায়েই টেনশন বাড়ছে। এই অবস্থায় রেড জোনে বিভক্ত হচ্ছে সিলেট। অপর তিন জেলা সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারেরও বেশি সংক্রমিত এলাকা রেড জোনের আওতায় আসছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- আজ-কালের মধ্যে সিলেটে রেড জোনের পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে। এরপর সেটি ঢাকা পাঠানোর পর রেড জোনে লকডাউন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। পরিসংখ্যানটি যাবে প্রধানমন্ত্রীর টেবিল পর্যন্তও। সিলেট বিভাগে গতকাল সকাল পর্যন্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ২৩২০ জন। আর সিলেট জেলায় এ সংখ্যা ১৩৭২ জন। বিভাগের তিন জেলায় যত করোনা রোগী রয়েছেন তার চেয়ে বেশি রোগী সিলেটে রয়েছেন। আর সিলেট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী নগর এলাকাতেই। রোববার পর্যন্ত নগর এলাকায় ২৫৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত রয়েছেন।
এছাড়া, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, জৈন্তাপুরে রোগী সংখ্যা বেশি। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- সিলেট জেলায় করোনা ভয়াবহ আকারে ছোবল বসিয়েছে। মোট সংক্রমণ ১৩৭২ জনের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার খুবই কম। মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। এ পর্যন্ত ১৪৮ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ রোগী নিজ বাড়িতে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে সুস্থ হয়েছেন। হাসপাতালে এখনো ভর্তি রয়েছেন ১৪৮ জন। আর মারা গেছেন ৩৬ জন। সিলেটে করোনায় প্রথম মারা যান গরিবের ডাক্তার বলে খ্যাত ডা. মঈন উদ্দিন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ‘মৃত্যু মিছিল’ এখন বাড়ছে। উপসর্গ নিয়ে কতজন মারা গেছেন তার কোনো পরিসংখ্যান কারো কাছে নেই।
তবে- বেসরকারি সূত্র গুলো বলছে- এই হিসাব একশ’র কাছাকাছি হবে। এর মধ্যে কেউ বাড়িতে, কেউ হাসপাতালে আবার কেউ চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালের দরোজায় ঘুরে ঘুরে মারা গেছেন। কোনো হিসাবই স্বস্তি দিচ্ছে না সিলেটবাসীকে। সরকারি হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর সংখ্যা আনুপাতিক হারে কম হলেও বেসরকারী হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল পর্যন্ত সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটের পর সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুনামগঞ্জ। এই জেলায় এখন পর্যন্ত ৫১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ১১১ জন। ফলে সিলেটের মতো সুনামগঞ্জের রেড জোন ভাগ করার বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন- সিলেটের রেড জোনকে ভাগ করতে ইতিমধ্যে বিভাগের চার সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা আজকের মধ্যে রেড জোন এলাকা চিহ্নিত করে দেবেন। এরপর সেগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে লকডাউনের নির্দেশনা এলে সেটি পালন করা হবে। তিনি জানান- রেড জোন এলাকায় প্রথমে তিন সপ্তাহে লকডাউন আসতে পারে। এরপর আরো তিন সপ্তাহ থাকবে নজরদারিতে। এভাবে জোন ভিত্তিক লকডাউন কার্যক্রমের মাধ্যমে সিলেটে করোনা সংক্রমণের হার কমানোর চেষ্টা করা হবে। রেড জোন বিভক্ত নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন সিলেটের বিভিন্ন এলাকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। কারণ- যারা নমুনা দিয়ে রিপোর্ট পজেটিভ পেয়েছেন তাদের অনেকেই ঠিকানায় গরমিল রয়েছে। কেউ কেউ অফিসের কিংবা কর্মস্থলের ঠিকানা দিয়ে নমুনা টেস্ট করিয়ে পজেটিভ এসেছেন। আবার কেউ কেউ হাসপাতালে ভর্তি থেকে নমুনা টেস্ট করিয়ে পজেটিভ এসেছেন। এ কারণে তাদের সটিক ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য এলাকা ভিত্তিক রোগী নির্ণয়ে নানা সমস্যায় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন- ‘রেড জোন বিভক্ত করতে সরকারের নির্দেশনার অনেক আগে থেকেই আমরা কাজ শুরু করি। কিন্তু পজেটিভ রোগীর ঠিকানা প্রাপ্তি নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ কারণে রেড জোন বিভক্ত করতে অনেক বেগ হতে হচ্ছে।’ তিনি জানান- তার নগর এলাকায় রোগী বেশি। ফলে, অধিক সংক্রমিত কয়েকটি এলাকাই রেড জোনের আওতায় আসতে যাচ্ছে। এই পরিসংখ্যান এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
এদিকে- সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরে আলম শামীম জানিয়েছেন- সিলেট রেড জোনে বিভক্ত হওয়া জরুরি। বিষয়টি অনুধাবন করছেন সবাই। গত দু’সপ্তাহে সংক্রমণের হারও বেশি। এজন্য প্রতিটি উপজেলায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন, নগর এলাকায়ও একই ভাবে লকডাউন করা হতে পারে।

