সিলেটে আশফাক-সুজাত মুখোমুখি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ নভেম্বর ২০১৯
আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে উত্তাপ
সিলেট, ২৫ নভেম্বর :: নেতারা চান সমঝোতা। কর্মীদের দাবি ভোট। এই বিতর্কের কারণে শেষ পর্যন্ত সিলেট সদর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। মধ্যরাত পর্যন্ত এ নিয়ে চলে পাল্টাপাল্টি। কিন্তু ঐকমত্যে পৌঁছা সম্ভব হয়নি। এমন ঘটনা ঘটেছিলো সিলেটের গোলাপগঞ্জে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নিজের এলাকায়ও আওয়ামী লীগের পরিণতি হয়েছে একই। এ কারণে আটকে আছে কমিটি গঠন প্রক্রিয়াও।
তবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জের কমিটি খুব দ্রুত ঘোষণা করা হবে। সিলেট সদরের কমিটি নিয়ে আরো চিন্তাভাবনা করতে হবে। সিলেট সদর বলতে সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকা। এই উপজেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতি সিলেটের সিনিয়র নেতাদের হাতে। দীর্ঘ দিন ধরে এ উপজেলায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ। এ কারণে তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ওই এলাকায়। এলাকার আরেক সন্তান হচ্ছেন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক। তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। সদর আওয়ামী লীগে আশফাক-রফিক দ্বন্দ্ব পুরনো। এই দ্বন্দ্বের কারণে সিলেট উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের মুখোমুখি হতে হয়েছিলো আশফাক আহমদকে। অবশেষে তিনি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করে উপজেলা নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
৫ই ডিসেম্বরের সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে এখন চলছে জেলার বিভিন্ন উপজেলা কমিটির সম্মেলন ও কাউন্সিল। উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন প্রায় শেষ পর্যায়ে। রোববার ছিল সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। আর এই সম্মেলনে সিলেট-১ আসনের এমপি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ছিলেন প্রধান অতিথি। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা সম্মেলনে এসে যোগদান করেন। সিলেট সদরের কাউন্সিলররা জানিয়েছেন বিকালের আগেই সম্মেলন শেষ হওয়ার পর কাউন্সিলের তোড়জোড় শুরু হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন, মফিজুর রহমান বাদশা, নুরে আলম সিরাজী, মো. শাহানুর, নিজাম উদ্দিন, মাসুম আহমদ চৌধুরী, রমিজ উদ্দিন বাবুল, শাহাবুদ্দিন লাল ও মখলিছুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন, হিরন মিয়া, মকসুদ আহমদ মকসুদ, নজরুল ইসলাম বেলাল, ফজলুল করিম ফুল মিয়া, এইচএম মালিক ইমন ও সাজিদ আহমদ।
সম্মেলনের পর কাউন্সিলের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এ সময় উপস্থিত কাউন্সিলররা সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের পক্ষে সায় দেন। কাউন্সিলররা জানান, অধিবেশনে উপস্থিত প্রায় সবাই সভাপতি হিসেবে নিজাম উদ্দিনকে মেনে নেন। দু’একজন আপত্তি জানালেও জেলার সিনিয়র নেতারা তাদের শান্ত করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন, মকসুদ আহমদ ও খাদিমপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বেলাল। এ সময় আরেক প্রার্থী প্রবাসী নেতা ও মোগলগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিরন মিয়াকে নিয়ে কানাঘুষা শুরু হলে বিপত্তি দেখা দেয়।
এক পর্যায়ে এতে বাদ সাধেন উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ও তার অনুসারীরা। তারা হিরন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। এ সময় উপস্থিত কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানান। কিন্তু জেলার নেতারা চান সমঝোতার কমিটি। এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। এই বিতর্কের মধ্যে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেন কাউন্সিলরদের তালিকা নিয়ে। হৈচৈ-হট্টগোলের মধ্যে পণ্ড হয়ে যায় কাউন্সিল। রাতে কমিটি না করেই ফিরে আসেন নেতারা। তবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, সদর উপজেলার কাউন্সিলরদের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে এ নিয়ে অনেকে আপত্তি জানিয়েছেন। তাই আমরা এই তালিকা সংশোধনের কথা বলেছি। তালিকা সংশোধন করে পরে নতুন কমিটি করা হবে।
স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই মুখোমুখি ছিলেন, আশফাক আহমদ ও সুজাত আলী রফিক। দু’জনই আওয়ামী লীগ নেতা। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারা অনেক আগে থেকেই মুখোমুখি। এবারের সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়েও তারা মুখোমুখি অবস্থান নেন। জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সুজাত আলী রফিক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিরন মিয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। আর আশফাক আহমদ ছিলেন, সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বিলালের পক্ষে। এ কারণে সাধারণ সম্পাদক নিয়ে কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি।
এদিকে কমিটি গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট সদরের কাউন্সিলররা। গতকাল সদরের জালালাবাদ, হাটখোলা, খাদিমনগর, খাদিমপাড়া, টুলটিকর, মোগলগাঁও ও কান্দিগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বৈঠক করেছেন। বিকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারা সদরের কমিটি নিয়ে বিশৃঙ্খল ঘটিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৈঠকে থাকা সিলেট সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মকসুদ আহমদ মকসুদ জানিয়েছেন, সদরের কাউন্সিলররা এখনো ভোটের মাধ্যমে কমিটি চান। তারা কোনো সমঝোতার কমিটি চান না। এ কারণে তারা বৈঠকে বসেছেন। প্রয়োজনে এ নিয়ে তারা দলীয় প্রধানের কাছে অভিযোগ করবেন। -মানজমিন


