সিলেটে তুচ্ছ বাকবিণ্ডার জেরে ছাত্রলীগের ভয়াবহ হামলা, রক্তাক্ত হলেন তিন লন্ডনী ভাই
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ আগস্ট ২০১৯
দেশ রিপোর্ট, ৯ আগস্ট : সিলেটে শেকড়ের টানে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন বৃটিশ-বাংলাদেশী তিন ভাই। তারা বার্মিংহ্যামের বাসিন্দা। তিনজনই চাচাতো ভাই। বার্মিংহ্যাম সোনালী সুপার মার্কেট তাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
জানা যায়, গত ৬ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সিলেট শহরের জল্লারপারের পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরই তিন ভাইকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বুধবার সকালে চিকিৎসা শেষে তাঁরা বাসায় ফিরেছেন। এ ঘটনায় পলাশ নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় আহত প্রবাসীরা হলেন-বার্মিংহামের সোনালী সুপার মার্কেটের মালিক সিলেট শহরের বালুচর এলাকার বাসিন্দা সফিক উদ্দিনের ছেলে হাসান (২৪), বশির উদ্দিনের ছেলে ইমন (১৮) ও গয়াস মিয়ার ছেলে নাহিয়ান (১৮)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে এই তিন ভাই রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় গেটে দাঁড়ানো কয়েকজন তরুণ তাদের কটূক্তি করে। এ সময় তারা প্রতিবাদ করলে ওই তরুণেরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে একজনের মাথা ফেটে যায়। তিন ভাই বহনকারী গাড়ি ভাংচুরের সময় গাড়িচালকও আঘাত পান। এ সময় প্রবাসী তিন ভাই পালটা আঘাত করলে ছাত্রলীগের দু’তিনজনও আহত হয়।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পীযূষ কান্তি দের গ্রুপের সদস্যরা এ হামলায় জড়িত বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। তবে পিযূষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, প্রবাসীরা মাতাল অবস্থায় তার কর্মীদের মারধর করলে রাশেদ ও আসাদ নামে ছাত্রলীগের দুই কর্মী আহত হয়।
বুধবার বিকেল পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোঃ সেলিম মিয়া। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে বুধবার বিকেলে সাপ্তাহিক দেশ থেকে আহতদের চাচা বার্মিংহ্যাম সোনালী সুপার মার্কেটের মালিক সিরাজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে এর বাইরে বেশ কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
এরপর এই মুহূর্তে বাংলাদেশে থাকা আহত আলিম উদ্দিন ইমনের পিতা বশির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও হামলার ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি। ব্যস্ততা দেখিয়ে ঘণ্টা খানেক পরে ফোন করার কথা বললেও আর ফোন করেননি। হামলার ঘটনায় তারা পরিবার আতংকিত রয়েছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
সন্ত্রাসী হামলায় আহত আলিম উদ্দিন ইমনের এক বন্ধু বার্মিংহ্যামের বাসিন্দা মোস্তফা লিমন সাপ্তাহিক দেশকে বলেন, তিনি ইমনকে ভালো করে চিনেন। তার সাথে কিছুদিন একসাথে কাজ করেছেন। ইমন খুব শান্ত-শিষ্ট ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাতাল থাকার অভিযোগ সত্য হওয়ার কথা নয়।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে হামলায় রক্তাক্ত তিন ভাইয়ের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে বাঙালি কমিউনিটিকে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কমিউনিটির মানুষ ফেসবুকে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করতে জোর দাবী জানিয়েছেন।

