লন্ডনে বাংলাদেশী জামিনুর হত্যাকান্ডের রায় প্রকাশ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭
লন্ডন, ২৬ ডিসেম্বর: গত ১১ এপ্রিল মাইল্যান্ডের ওয়াগনার স্ট্রিটে নিজ ঘর আর মায়ের সামনে ছুরিকাঘাতে নিহত হয় ২০ বছর বয়সী বাংলাদেশী যুবক সৈয়দ জামিনুর ইসলাম। এ মর্মান্তি হত্যা কান্ডে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশী কিশোরকে। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় আইনী কারনে উক্ত কিশোরের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাকে ১৬ বছরের জেলদন্ড দিয়েছে আদালত। গত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্টে চুড়ান্ত শুনানি শেষে জামানুরকে হত্যা, হত্যায় ষড়যন্ত্র, শারীরিকভাবে আঘাত, বেপোরোয়া গাড়ি চালানো এবং বিপজ্জনক অস্ত্র রাখার দায়ে আরো তিন তরুনকে ইয়াং অফেন্ডার হিসেবে দোষি সাব্যস্ত করে ১২ মাস করে ডিটেনশন এবং বিভিন্ন মেয়াদে আরো ৬ মাস করে সাজা প্রদান করেছেন বিচারক। রায়ে-সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জামানুরের মা-বাবা।
‘ইনার লন্ডন ক্রাউট আদালত’ জানিয়েছে এই হত্যা কান্ডের সূত্রপাত হয় ডিম ছুঁড়াকে কেন্দ্র করে। আদালত জানায় এ ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীদের মধ্যে মাইল্যান্ডের বার্ডেট রোড়ে বসবাসকারী নাঈম চৌধুরী ১৮। জামানুরকে শারীরিকভাবে আঘাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ১২ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিপজ্জনক অস্ত্র রাখার অভিযোগে ইসমাইল উদ্দিনকে দেয়া হয়েছে ১২মাসের জেল।বেথনালগ্রীনের সাইপ্রাস রোড়ে বসবাসকারী সামিউর রহমানকেও ১২ মাসের জেল দিয়ে আদালত
ঘটনাসূত্রে জানা যায় এবং সিসিটিবি ফুটেছে দেখা গেছে ঝগড়া হবার পরে ওয়াগনার স্ট্রিটে অভিযুক্ত তিন যুবক ভাড়া করা একটি গাড়ী নিয়ে জামিনুরের ভাইকে খোঁজতে ছিল। এসময় তাদের হাতে ছিল ছুরি ও বেইজবল বেড। কিন্তু যখন সৈয়দ জামিনুর, নাঈম চৌধুরীর সামনা সামনি আসে, তখন তাকে বেইজবল বেড দিয়ে আঘাত করে ক্যানারি ওয়ার্ফ এ বসবাসকারী ইসমাইল মোহাম্মদ উদ্দিন ১৮ প্রায় একই সময় ১৬ বছর বয়সী কিশোর তার বা পায়ে ছুরিকাঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে সেখানেই জামিনুরের মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নাঈম চৌধুরীর জ্যাকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ীর চাবি উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ৪ অপরাধী নর্থ লন্ডনে পালিয়ে যায়। পরে তাদের আটক করে বিচারের সম্মুখিন করা হয়। এর মধ্যে ১৬ বছর বয়সী কিশোরের রায় প্রকাশ করা হয় শুক্রবার। বাকীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর একই আদালতে তাদের কারাদন্ড দেয়া হবে। তদন্তকর্মকতা টনি লিন্স বলেন, সৈয়দ জামিনুরকে নিষ্ঠুরভাবে আক্রমাণ করা হয়েছিল যিনি তার ভাইয়ের জন্য এই ঘটনার স্বীকার হন।

