লন্ডনে ইতালিয়ান নাগরিক হত্যার দায়ে বাঙালি মহিলার জেলদণ্ড
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭
লন্ডন, ২২ ডিসেম্বর : লন্ডনে ইতালিয়ান নাগরিক হত্যার দায়ে বাঙালি মহিলাকে যাবজ্জীবন জেলদণ্ড দিয়েছে ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্ট। দণ্ডপ্রাপ্ত মহিলার নাম হাসনা বেগম (২৫)। তিনি ইস্ট লন্ডনের ই-ফোরটিন এলাকার বাইং স্ট্রিটের বাসিন্দা বলে সোমবার রায় ঘোষণার সময় আদালতে জানানো হয়েছে। ২৩ বছর বয়সী ইতালিয়ান নাগরিক পেট্রিও সান্নাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে একই দিন হাসনা বেগমের সাজার মেয়াদও ঘোষণা করেন আদালত। তাকে অন্তত ২০ বছর জেলের ভেতরে থাকতে হবে।
আদালত জানিয়েছেন, গত ২৬শে জুন ইস্ট লন্ডনের ই সিক্সটিন (কেনিংটাউন) এলাকার রেভেনস্ক্রফট ক্লসে নিজের বেডরুম থেকে ছুরিকাহত পেট্রিওকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ২৭শে জুন হাসনা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর ২৮ জুন পেট্রিও’র ময়না তদন্ত হয়। ময়না তদন্ত উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করা হয়।
হাসনা বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, নিহত পেট্রিও’র সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এ কারনে গত ২৩শে জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রেভেনস্ক্রফট ক্লজে গিযেছিলেন। তখন তার মাথায় পরচুলা লাগানো ছিল। হাসনা বেগম সেখানে বিভিন্ন বাসায় তল্লাশির পর পেট্রিও’র দেখা পান। এ সময় বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তিনি তার ওপর হামলা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতকারে হাসনা বেগম আরো জানিয়েছেন, ঘটনার সময় পেট্রিও তার উপর ভয়ঙ্করভাবে আক্রমণাত্মক ছিল। ফলে আত্মরক্ষার জন্যে তিনি পেট্রিও’র উপর পালটা হামলা করেন। এই ঘটনার পর হাসনা বেগম স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে। তিনি হাতে আঘাত পেয়েছিলেন। পেট্রিও’র উপর হামলার পর তার মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে আসেন হাসনা। সঙ্গে থাকা পেট্রিও’র মোবাইলে তিনি নিজে অন্তত ৬ বার কল দিয়েছেন।
পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, পেট্রিও’র উপর হামলার অন্তত ৩ দিন পর একটি গোপন নাম্বার থেকে তার ভাইকে কল করেন হাসনা বেগম। টেলিফোন করে পেট্রিও’র ঘরে গিয়ে তার খবর নিতে তার ছোট ভাইকে বলেন তিনি। তখন পেট্রিও’র ভাই কাজে ছিলেন। পরবর্তীতে পেট্রিও’র ঘরে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পান তার ছোট ভাই।
এছাড়াও পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, পেট্রিও হত্যার কয়েকদিন আগে হাসনা বেগম একটি নকল ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট খুলেন। এই একাউন্ট দিয়ে তিনি ইনস্টাগ্রামে পেট্রিও’কে অনুসরণ করতেন এবং কোন মহিলা যদি তার সঙ্গে ডেটিং করত সেই মহিলাকেও হুমকি দিতেন।
তবে পেট্রিও এবং হাসনা বেগমের মধ্যে কিভাবে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে বা সেই সম্পর্কের গভীরতা কতটুকু ছিল সে বিষয়ে বিশেষ কিছু উল্লেখ করা হয়নি আদালতে। হাসনা বেগম পেট্রিও হত্যার আগে কোন দিন পুলিশে গ্রেফতার হননি বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি একটি দোকানে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

