হোমলেস মানুষের জন্য ১০ টনের বেশি খাবার সংগ্রহ করলো মুসলিম এইড : লন্ডনে প্রতিরাতে ৪,১৩৪ জন মানুষ রাস্তায় রাত্রিযাপন করে
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ ডিসেম্বর ২০১৭
দেশ রিপোর্ট: জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে লন্ডনের হোমলেস মানুষের পাশে দাঁড়ালো চ্যারিটি সংস্থা মুসলিম এইড এবং ইস্ট লন্ডন মসজিদ। ক্রিসমাসের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি, শীতকালে গৃহহীন মানুষেরা যাতে অভুক্ত না থাকে, এজন্য ‘দ্যা বিগ ফুড ড্রাইভ’ প্রজেক্টের আওতায় ১০ টনেরও বেশি খাবার সংগ্রহ করে তা হোমলেস মানুষের জন্য চ্যারিটি সংস্থা ক্রাইসিস-এর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। ‘ক্রাইসিস’ এই খাবার হোমলেস ও অভুক্ত মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেবে।
গত ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার হোমলেসদের জন্য খাবার সংগ্রহের এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করে মুসলিম এইড ও ইস্ট লন্ডন মসজিদ। ওইদিন ইস্ট লন্ডন মসজিদে জুমার নামাজে আগত প্রায় ৭ হাজার মুসল্লি, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা গরীব মানুষের জন্য চাউলের প্যালেটসহ বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত খাবারসামগ্রী নিয়ে আসেন। খাবারের মধ্যে ছিলো পাস্তা, সিরিয়ালস, বেকড বিনস ইত্যাদি। খাবার সংগ্রহের পর তা ক্রাইসিস চ্যারিটি সংস্থার ওয়ার হাউসে পৌঁছে দেয়া হয়।
ফিলগেট স্ট্রিটে মারিয়াম সেন্টারের সম্মুখে ফুড সংগ্রহ কর্মসূচি চলাকালে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের সিইও নজমুল হোসাইন, মুসলিম এইড-এর সিইও জাহাঙ্গির মালিক ওবিই, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস, বেথনাল গ্রীন ও বো আসনের এমপি রুশানারা আলী, বৃটিশ রিফর্ম জুডাইজমের সিনিয়র রাবাই লাউরা জেনার, মুসিলম-জুইশ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা রাবাই হারসেল গ্লুক ওবিই, বো কমন চার্চের বার্নাডেট হেগারটি ও চ্যারিটি সংস্থা ক্রাইসেস এর ক্লায়েন্ট সার্ভিসের ডাইরেক্টর মিকি ওয়ালশ।
ফুড ড্রাইভ প্রসঙ্গে মুসলিম এইড’র সিইও জাহাঙ্গির মালিক ওবিই বলেন, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে যেভাবে হোমলেসদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই ফুড ড্রাইভে সকলের সহযোগিতার অর্থ হলো, লন্ডনের হাজার হাজার মানুষকে এই ক্রিসমাস এবং শীতে অভুক্ত থাকতে হবে না। আমরা আশাবাদী, সকল ধর্মবর্ণের মানুষ বিগ ফুড ড্রাইভে দান অব্যাহত রাখবেন। এতে করে আমরা আমাদের কমিউনিটির অসহায় মানুষের সাহায্যে ভুমিকা রাখতে পারবো। তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করে বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে যে ব্যক্তি উদরপূর্তি করে খায় সে আমার (সমাজের) অন্তর্ভূক্ত নয়।
ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের সিইও নজমুল হোসাইন বলেন, দ্যা বিগ ফুড ড্রাইভে মানুষের স্বতস্ফুর্ত সাড়া দেখে আমি আনন্দে অভিভূত। এটি আমাদের জন্য একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত যে, আমরা মানবতার সেবায় ঐক্যবদ্ধ। আমরা মানুষের এই উদারতাকে ধরে রেখে সারা বছরই অসহায় অভুক্তদের সাহায্য করতে চাই। বার্নাডেট হেগারটি বলেন, মানুষকে দান করা খ্রিষ্টান ও মুসলিম ধর্মে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা আমাদের ভাইবোনদের জন্য সাধ্য অনুযায়ী দান করবো, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি কাজ।
উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে মুসলিম এইড প্রতিবছর ক্রিসমাস উপলক্ষে এ ধরনের ফুড ড্রাইভ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। প্রতিবছরের কার্যক্রমের জন্য একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিলো ‘শেয়ার দ্যা লাভ’। লন্ডনে হোসলেস বা গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ক্রাইসেস প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে লন্ডনে হোমলেস মানুষের সংখ্যা ছিলো ৩ হাজার ৫৬৯। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৩৪ জনে। মুসলিম এইড এর উদ্যোগে একই ধরনের ফুড ড্রাইভ কর্মসূচি ১২ ডিসেম্বর বালাম মসজিদে, ১৩ ডিসেম্বর টুটিং ও ক্রয়ডন মসজিদ পালিত হয়েছে। এছাড়াও ৫ জানুয়ারি ওয়েস্ট লন্ডনে, ২১ জানুয়ারি ওয়েলথামস্ট্রো ও এক্সিটারে এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসে হোমলেস মানুষের মধ্যে খাবার বিতরনের কর্মসুচি রয়েছে।



