বর্ণাঢ্য আয়োজনে জেএমজি’র ১৬তম বর্ষপূর্তি উদযাপন : কার্গো ব্যবসায় সফলতার একটি উদাহরণ মনির আহমেদ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭
লন্ডন, ১৪ ডিসেম্বর: ব্রিটেন তথা ইউরোপের খ্যাতনামা কার্গো সেবা প্রতিষ্ঠান জেএমজি এয়ার কার্গো’র ১৬ বছর পূর্তি ও অ্যাওয়ার্ডস বিতরণ অনুষ্ঠান গত ৬ ডিসেম্বর বুধবার পূর্ব লন্ডনের অ্যাট্রিয়াম হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেএমজি এয়ার কার্গোর সত্ত্বাধিকারী ও ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স’র ফাইন্যান্স ডিরেক্টর মনির আহমদের সভাপতিত্বে এবং উর্মি মাজহার ও ফারহান মাসুদ খানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ১৬বছর পূর্তি ও অ্যাওয়ার্ডস বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’র পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং মার্কেটিং এন্ড সেলস সাব কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রত্যাশা মানুষকে তার লক্ষ্য পানে নিয়ে যায়। ব্যবসায় সফলতা পেতে হলে সততা এবং বিশ্বস্ততা থাকতে হয়। মনির আহমদ জন্মভূমি ছেড়ে এসে ব্রিটেনের মাটিতে যে কঠিন কাজটি করে দেখিয়ে দিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে কার্গো ব্যবসাকে তিনি জনপ্রিয় শুধু করেননি এটার যে একটি সফলতার সোপান হতে পারে সেটাও তিনি বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, বিমানযাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্গো পরিবহণে সব সময় উন্নত সেবা দেয়ার প্রচেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসে যারা আছেন আপনারা বিমানের এ সেবা গুলো গ্রহণ করুন এবং মনির আহমদ বাংলাদেশী কমিউনিটিকে যে সকল ব্যবসার দিক প্রদর্শন করেছেন সেটা আপনাদেরই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল কাওনাইন, বাংলাদেশ হাই কমিশনের কমার্শিয়াল কন্সুলার মিসেস শরীফা খান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’র কান্ট্রি ম্যানেজার (ইউকে এন্ড আয়ারল্যান্ড) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র জন বিগস, ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম ও স্পিকার কাউন্সিলর সাবিনা খাতুন।
বক্তারা জেএমজি এয়ার কার্গো দীর্ঘ ১৬ বছরে পথ পরিক্রমার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, জীবনে কিছু অর্জন করতে হলে মানুষকে উদ্যোমী এবং প্রত্যয়ী হতে হয়। প্রত্যয় এবং আকাঙ্খা মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে সেটার বাস্তব উদাহরণ মনির আহমদ। সততা বিশ্বস্থতা এবং ব্যবসা ক্ষেত্রে উদ্যোমী একজন মনির আহমদ কার্গো ব্যবসাকে ব্রিটেনের মাটিতে শুধু জনপ্রিয়ই করেননি তিনি এই ব্যবসাকে একটি সফল ইন্ডাষ্ট্রিতে রূপান্তরিত করেছেন। দেশে রেখে আসা স্বজনকে কিছু পাঠাতে কিংবা প্রিয়জনকে কিছু দিতে হলে জেএমজি এক আস্থা এবং ভরসার নাম।
বক্তারা বলেন, ব্যবসা ক্ষেত্রে ব্রিটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য একটি সফলতার উদাহরণ জেএমজি এয়ার কার্গো। সততা, বিশ্বস্থতা এবং কমিটমেন্ট একটি প্রতিষ্ঠান কিংবা কোন ব্যক্তিকে সফলতার পর্যায়ে কিভাবে নিয়ে যেতে পারে সেটার বাস্তব উদাহরণ জেএমজি এয়ার কার্গো। জেএমজি কার্গো এখন বাংলাদেশী কমিউনিটির কাছে একটি হাউজহোলড নাম উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির সফলতার উদাহরণ অনেক বিশাল। কারি ব্যবসা করে একটি জাতির খ্যাদ্যাভাস পরিবর্তন করে দিয়ে কারি ব্যবসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশীরা সফলতার যে উদাহরণ তৈরী করেছেন সেটা যেমন এখন একটি সফলতার নাম, তেমনি কার্গো ব্যবসা নামে একটি ব্যবসা চালু করে ব্রিটেনে বাংলাদেশীদের নতুন এবং জনপ্রিয় একটি ব্যবসার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে জেএমজি এয়ার কার্গো।
বক্তারা বলেন, গ্রাহকের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি আপনজনদের সাথে ভালোবাসার সেতুবন্ধন তৈরী করে দিতে সকল ব্যবসা এবং গ্রাহকসেবামূলক প্রতিষ্ঠার নাম জেএমজি এয়ার কার্গো। বক্তারা বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম যদি ব্যবসা ক্ষেত্রে বাস্তব কোন প্রদর্শক দেখতে চায় তবে আমাদের উচিত মনির আহমদকে সামনে তুলে ধরা। বক্তারা মনির আহমদ এবং জেএমজি এয়ারকার্গোর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল কাওনাইন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে প্রবাসীরা ব্রিটেনে সফলতার এক একটি উদাহরণ আমাদের সামনে তুলে ধরছেন। ব্যবসা, রাজনীতি, অর্থনীতি, মানবকল্যাণে ব্রিটেনে বাংলাদেশের সন্তানরা তাদের সফলতার মাধ্যমে শুধু নিজেদের যোগ্যতাকে তুলে ধরছেন না, এর মাধ্যমে তারা একটি স্বাধীন দেশের যোগ্য নাগরিকের যথার্থ পরিচয় তুলে ধরছেন। নাজমুল কাওনাইন জেএমজি কার্গোর সফলতা কামনা করেন এবং এ পথ চলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশ হাই কমিশনের কমার্শিয়াল কন্সুলার মিসেস শরীফা খানম বলেন, জেএমজি কার্গো ব্যবসাকে ব্রিটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির কাছে শুধু জনপ্রিয়ই করেননি, মনির আহমদ জেএমজির মাধ্যমে কার্গো প্রেরণকে যেমন সহজ করেছেন তেমনি তার ব্যবসাকে একটি হাউজহোলড ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর কান্ট্রি ম্যানেজার (ইউকে এন্ড আয়ারল্যান্ড) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জেএমজি এয়ারকার্গো ১৬ বছর পথ চলা বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য একটি বড় অর্জন। আমি আমার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে যেটা দেখছি সেটা হলো মনির আহমদ ব্যবসাকে সেবা হিসেবে দেখেছেন এবং তিনি তার সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেনিয়ে সফলতার এ পর্যায়ে এসেছেন। তিনি বলেন, মনির আহমদের মত বিশ্বস্থতা নিয়ে যারাই এমন ব্যবসায় আসবেন, বিমান তাদের পাশে থাকবে।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র জন বিগস বলেন, জেএমজির মতো জনপ্রিয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় থাকা আমার জন্য গর্বের বিষয়। ব্যবসা ক্ষেত্রে সফলতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ পালনে জেএমজির কর্ণধার মনির আহমদ আজকের নতুন জেনারেশনের জন্য একজন আইকন। মেয়র জন বিগস জেএমজির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
জেএমজির সত্ত্বাধিকারী মনির আহমদ বলেন, ষোল বছর আগে যখন ব্যবসা শুরু করি তখন অনেক কষ্ট করেছি। জীবনের সোনালী সময়ের একটি মূহুর্ত পার করেছি পরীক্ষা এবং ত্যাগ স্বীকার করে। তবে প্রতিটি মূহুর্তে আমি আমার নিজের উপর আস্থা রেখেছি এবং সততা, বিশ্বস্থতা থেকে সরে যাইনি। বিশ্বাস রেখেছি নিজের উপর এবং কমিউনিটির মানুষের উপর। আল্লাহ আমার লক্ষ্যকে সফল করে দিয়েছেন। মনির আহমদ বলেন, জেএমজির সকল অর্জন মানুষের ভালবাসার অর্জন। তিনি কার্গো ব্যবসাকে জনপ্রিয় করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা না করলে এতোদূর এগিয়ে আসা সম্ভব হতো না। মনির আহমদ বলেন, জেএমজির পথ চলায় আমার প্রতিটি গ্রাহক, এজেন্ট, সাব এজেন্ট সবাই আমার ভালবাসা এবং নির্ভরতার প্রতীক। তিনি বলেন, জেএমজিকে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মকর্তা, কর্মচারী এক একজন প্রহরীর মতো কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেএমজি এয়ার কার্গোর সিইও দিলারা খাতুন জেনী, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ নাহাশ পাশা, গ্লোব এয়ার কার্গোর রিজারভেসন ম্যানেজার মিস্টার দুরা বাবা, চ্যানেল এস এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাজ চৌধুরী, এটিএন বাংলার সিইও হাফিজ আলম বকস, চ্যানেল আই ইউরোপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী সুয়েব, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসাইন, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়ের, ক্যানারী ওয়ার্ফ গ্রুপের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর জাকির খান, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক মেয়র আব্দুল আজিজ সর্দার ও মতিনুজ্জামান, সাবেক ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর ওহিদ আহমেদ, ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এর সাবেক প্রেসিডেন্ট মুকিম আহমেদ, মাহতাব চৌধুরী, ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী, মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর আবুল কালাম আজাদ, ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স সেক্রেটারি একাউন্টেন্ট আবুল হায়াত নুরুজ্জামান, কমিউনিটি এফেয়ার্স সেক্রেটারি ডক্টর সানোয়ার চৌধুরী, টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার কাউন্সিলর আয়াস মিয়া, নিউহাম কাউন্সিলের কাউন্সিলর আয়েশা চৌধুরী, নেটওয়ার্ক এয়ার লাইন্স এর সেলস ডিরেক্টর জন গিলফিটার, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবী শাহ ফারুক আহমেদ, যুক্তরাজ্য সফররত দৈনিক সিলেটের ডাকের বিভাগীয় সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি, এটিএন বাংলা ইউকে’র ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সুফি মিয়া, লন্ডন টাইগার্স এর চেয়ারম্যান মিসবাহ আহমেদ, প্রবাসী বালাগঞ্জ-ওসমানী নগর এডুকেশন ট্রাস্ট এর সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মাসুদ আহমেদ, কাউন্সিলর আব্দাল উল্লাহ, হিল সাইড ট্রাভেলস এর সত্ত্বাধীকারী হেলাল খান, হ্যামলেট কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর জামাল আহমেদ, জেএমজির ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান দুলাল, সাবেক ম্যানেজার কামরুল হাসান, হিউমান রাইটস কমিশন ইউকে’র চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধুরী, অটো সার্ভিস এর ডাইরেক্টর এএসএম মিসবাহ, মিডিয়া লিংক এর ডাইরেক্টর মুজিবুল ইসলাম, সলিসিটর লুৎফুর রহমান, জেএমজি বার্মিংহাম এর পরিচালক মইনুল ইসলাম খান, ম্যানচেস্টার পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসাইন, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আহমেদ হোসাইন, ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এর ডাইরেক্টর আব্দুল মোহাইমিন মিয়া, জেএমজির ম্যানেজার (অপারেশন) সুরমান আহমেদ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জেএমজি এয়ার কার্গোর কমিউনিকেশন ম্যানেজার সাংবাদিক এনাম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেএমজি হিথ্রো ব্রাঞ্চ ডিরেক্টর সামসাদুর রহমান রাহিন। পুরো অনুষ্ঠানটি লাইভ প্রচার করে অনলাইন টেলিভশন ‘এলবি টুয়েন্টি ফর টিভি’।

