টিউলিপ সিদ্দিকের মন্তব্যে বৃটিশ মিডিয়ায় ঝড়
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ নভেম্বর ২০১৭
দেশ ডেস্ক: বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের দ্বিমুখী চরিত্র ফুটে উঠেছে চ্যানেল ফোর-এর রিপোর্টে। ইরানিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারী নাজনীন জাহাগারী যিনি ইরানে গিয়ে কারাবন্দি হয়েছেন তার মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার লন্ডনে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান ব্যক্তি ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক এমপি। সেখানে চ্যানেল ফোরের সাংবাদিক অ্যালেক্স টমসন বাংলাদেশে গুম খুনের প্রসঙ্গ তুলতেই ফ্যাকাঁশে হয়ে যায় টিউলিপ সিদ্দিকের চেহারা। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে তিনি বলেন ‘আমি বাংলাদেশী নয়, আমি বৃটিশ এমপি। লন্ডনে আমার জন্ম। আমি লেবার পার্টির এমপি। আপনি কি আমাকে বাংলাদেশী রাজনীতিতে জড়াচ্ছেন? আপনি যা বলছেন তার ব্যাপারে খুবই সতর্ক হওয়া উচিত। চ্যানেল ফোর এর রিপোর্টে বলা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক চ্যানেল ফোর এর প্রডিউসার ডেইজি আইলিফকে এপারেন্টলি হুমকী দেন। প্রডিউসার একজন গর্ভবর্তী মহিলা। অথচ টিউলিপ সিদ্দিক পার্লামেন্টের ওয়েম্যান এন্ড ইকুয়ালিটি সিলেক্ট কমিটির সদস্য। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, টিউলিপের খালা শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকেই বিরোধী মতের মানুষের বিরুদ্ধে শুরু হয় গ্রেপ্তার, নির্যাতন গুম, খুন ও অপহরণের ঘটনা। ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক প্রকাশ্যেই সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাজনীতিতে তাঁর খালা শেখ হাসিনা তাঁর আদর্শ। খালার আদর্শ ধারণ করে ব্রিটেনে রাজনীতি করা টিউলিপ মানবাধিকার নিয়ে প্রায়ই শোরগোল করলেও বাংলাদেশের গুম খুনের ব্যাপারে বরাবরই নীরব।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসেব অনুযায়ী আওয়ামী লীগ শাসনামলে শত শত মানুষ গুম হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন হলেন ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেম। তিনি বিতর্কিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাশেম আলীর পুত্র। আহমদ বিন কাশেম ব্রিটেন থেকে আইন পড়ে বাংলাদেশে হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করতেন। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে গুম হওয়ার পর এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ব্যাপারে চ্যানেল ফোরের সাংবাদিক টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে জানতে চান- যেহেতু তার খালা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সুতরাং ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেমের মুক্তির ব্যাপারে তার কিছু করণীয় আছে কি-না। জবাবে তিনি রিপোর্টারকে বলেন, আপনি কার কথা বলছেন? তখন রিপোর্টার আহমদ বিন কাশেমের একটি ছবি দেখান। এবার টিউলিপ সিদ্দিক জানতে চান- এই ব্যক্তি কি তাঁর নির্বাচনী এলাকা হ্যামস্টেড এন্ড কিলবার্ণের বাসিন্দা? জবাবে রিপোর্টার বলেন, নাহ কাশেম যুক্তরাজ্য থেকে বার-এট-ল পাশ করে বাংলাদেশে প্রাকটিস করছিলেন। তাকে গুম করা হয়েছে। আপনার একটি ফোন-কল তাকে ফিরে আসতে সহযোগিতা করতে পারে।
কিন্তু যেহেতু আহমদ বিন কাশেম টিউলিপ সিদ্দিকের নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা নন, তাই তিনি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলবেন না বলে স্থান ত্যাগ করেন। এরপর চ্যানেল ফোর এর রিপোর্টে বলা হয়, আজ টিউলিপ সিদ্দিক বলছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা না হওয়ায় আহমদ বিন কাশেমকে সাহায্য করতে পারবেন না। অথচ বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বিডিনিউজ২৪-এ ইতোপূর্বে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, তিনি মনে করেন একজন রাজনীতিক মানুষকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে সহযোগিতা করতে পারে। বাংলাদেশ কিংবা বৃটেনে থাকতে হবে এমন কথা নয়। চ্যানেল ফোর-এর রিপোর্ট প্রচারের পর পরই গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফসহ বৃটেনের মূলধারার বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদটি ফলাও করে ছাপা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় রিপোর্টটি হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেন। বিষয়টি টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়।

