প্রাইমারী স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ হতে পারে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ নভেম্বর ২০১৭
দেশ রিপোর্ট: ইংল্যান্ডের প্রাইমারী স্কুলগুলোতে হিজাব বা স্কার্ফ পরিধান করার কারণ জানার জন্য মুসলিম ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদের আহবান জানিয়েছে ‘অফিস ফর স্ট্যান্ডার্ডস ইন এডুকেশন, চিলড্রেন্স সার্ভিসেস এন্ড স্কিল্স’ (অফস্ট্যাড)। অফস্ট্যাডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার-পাঁচ বছর বয়সের মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরালে সেটি ‘সেক্সুয়ালাইজেশন’ হিসাবে অনেকে ব্যাখ্যা করতে পারে; সেই পরিস্থিতি এড়াতেই তাদের এই উদ্যোগ। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুসলিম ছাত্রীদের আলাদাভাবে বেছে নেয়ার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মুসলিম কাউন্সিল অব বৃটেনসহ মুসলিম কমিউনিটির বিভিন্ন অংশ।
প্রামইমারী স্কুলের মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব/স্কার্ফ পরিধানের বিষয়ে জানার জন্য যে ঘোষণা এসেছে তা এখনও সুপারিশ আকারে রয়েছে। সুপারিশটি করা হয়েছে অফস্ট্যাডের পরিদর্শকদের প্রতি। এখনও সেটি নথিভূক্ত হয়নি। গত সপ্তাহে অফস্ট্যাডের প্রধান আমান্দা স্পিলম্যানের সাথে বৈঠক করেন স্কুলে হিজাব পরিধানের বিরোধী ক্যাম্পেইনাররা। বৈঠকে ছিলেন স্যোশাল অ্যাকশন এন্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কো-ডাইরেক্টার আমিনা লৌন। সেই বৈঠকের পরই অফস্ট্যাডের প্রধান আমান্দা স্পিলম্যান স্কুল পরিদর্শকদের প্রতি বিতর্কিত ওই আহবানটি জানান।
আমান্দা স্পিলম্যান বলেন, অধিকাংশ ইসলামি শিক্ষকের মতে মেয়েরা বয়:সন্ধিকালে পৌঁছালে হিজাব পরিধানের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু চার-পাঁচ বছরের মেয়েদের হিজাব/স্কার্ফ পরিয়ে দিলে সেটি ‘সেক্সুয়ালাইজেশন’ হিসাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন অনেকে। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই জিজ্ঞাসাবাদের ওই আহবান জানানো হয়েছে বলে জানান স্পিলম্যান। তিনি বলেন, নিজেদের সংস্কৃতিতে ছেলে-মেয়েদের বড় করার বিষয়টিকে শ্রদ্ধা করার পাশাপাশি যদি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রীদের হিজাব পরিধানের একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিষয়টিকে অনেকেই ছোট মেয়েদের ‘সেক্সুয়ালাইজেশন’ হিসাবে দেখতে পারে। তিনি বলেন, এই উদ্বেগ দূর করতে এবং স্কুলগুলো ঠিকভাবে ইকুয়েলিটির পলিসি অনুসরণ করছে কিনা সেটি পরিমাপ করতে স্কুল পরিদর্শকরা হিজাব/স্কার্ফ পরিধানের বিষয়ে জানার চেষ্টা করবেন। তিনি আরো বলেন: কোনো মৌলবাদী গ্রুপ স্কুলের নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করছে কি-না কিংবা ইকুয়েলিটি আইন ভঙ্গ করছে কি-না সে বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হলে তা সংশ্লিষ্ট স্কুলকে অভিযোগ আকারে জানানোর জন্য অথবা সরাসরি অফস্ট্যাডকে জানানোর জন্য অভিভাবক ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্পিলম্যান।
২০১৪ সালে বার্মিংহাম থেকে ‘ট্রজান হর্স’ কেলেঙ্কারি নামে একটি ইস্যু বিস্তার লাভ করে দেশজুড়ে। তখন অভিযোগ উঠেছিল যে, সরকারী স্কুলগুলোতে ইসলামিক প্রভাব বাড়ানো হচ্ছে। এরপরই ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন এবং অফস্ট্যাড স্কুলগুলোলোতে বৃটিশ মূল্যবোধ শিক্ষাদানের উপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সম্প্রতি বার্মিংহামের আরেকটি সরকারী ইসলামিক স্কুলকে ঘিরে শুরু হয়েছে আইনী লড়াই। ওই স্কুলে ছেলে ও মেয়েদের আলাদাভাবে বসিয়ে পাঠদানের কারণে অফস্ট্যাড তাদের রিপোর্টে স্কুলটিকে ‘ইনএডিকুয়েট’ হিসাবে শ্রেণীভূক্ত করে। এর বিরোধিতা করেই আইনী লড়াইয়ের শুরু। ২০১৪ সালেরই আরেকটি ঘটনায় একটি ইসলামিক স্কুল পরিদর্শনের সময়ে নয় বছরের শিক্ষার্থীকেও সমকামীতা বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গী জানতে চেয়েছিলেন স্কুল পরিদর্শকরা। স্কুলের অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের এমন প্রশ্ন করার বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেননি।

