বৃটিশ রাজনীতিতে যৌন কেলেঙ্কারি: পদত্যাগ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্যালন
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ নভেম্বর ২০১৭
দেশ ডেস্ক: যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে জেরবার বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র প্রশাসন। এরই মধ্যে মন্ত্রীসহ তার কনজার্ভেটিভ দলের ৩৬ জন এমপির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পদত্যাগ করেছেন অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও রেডিও উপস্থাপিকা জুলিয়া হার্টলি ব্রুয়ারকে অশোভনভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ আছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে দলীয় এক নৈশকালীন সম্মেলনে জুলিয়া হার্টলে ব্রেুয়ারকে বার বার হাঁটুর নিচে স্পর্শ করেছিলেন ফ্যালন। এক পর্যায়ে জুলিয়া তাকে হুমকি দেন।
বলেন, যদি তিনি আর একবার এভাবে তাকে স্পর্শ করেন তাহলে তাকে ঘুষি মারবেন। এ অভিযোগের দায় মাথায় দিয়ে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী পদ ছেড়ে দিলেন। নিজের আচরণের জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। তেরেসা মে প্রশাসন থেকে যৌন কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগকারী প্রথম মন্ত্রী হলেন তিনি। এ নিয়ে বৃটেনের মিডিয়াগুলো বোমা ফাটানোর মতো করে রিপোর্ট প্রকাশ করছে। বলা হচ্ছে, যৌন কেলেঙ্কারির প্রথম বলি হলেন স্যার মাইকেল ফ্যালন। যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার যখন বিব্রত তখন অশোভন আচরণের কারণে পদত্যাগ করলেন মাইকেল ফ্যালন। এর এর মধ্য দিয়ে তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদবী। তিনি তেরেসা মের সবচেয়ে শক্তিধর মিত্র বা ঘনিষ্ঠদের অন্যতম ছিলেন। তিনি স্বীকার করেছেন, তিনি যে মন্ত্রণালয়ে, যাদের প্রতিনিধিত্ব করেন তাতে যে মানদন্ড প্রয়োজন তিনি তা বজায় রাখতে পারেন নি। যৌন হয়রানি যাদের বিরুদ্ধে উঠেছে সেইসব মন্ত্রীর কাছে এটি একটি অশুভ ইঙ্গিত। মাইকেল ফ্যালন বলেছেন, আমাদের সবাইকে এখন অতীতের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন সবার উচিত তার অতীতের ভুলগুলো স্বীকার করা।
ওদিকে মাইকেল ফ্যালন বিবিসিকে বলেছেন, ১৫ কিংবা ১০ বছর আগে যা গ্রহণযোগ্য ছিল, বর্তমানে তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বৃটেনের পার্লামেন্টে বেশ কয়েকজন এমপি’র বিরুদ্ধে সম্প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ফ্যালকন হচ্ছেন প্রথম রাজনীতিবিদ, যিনি পদত্যাগ করলেন। তার পদত্যাগের সঙ্গে নতুন কোন অভিযোগের সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে নি ডাউনিং স্ট্রিট। ফ্যালন মন্ত্রীপরিষদের একজন সদস্য হিসেবে তার ভূমিকাকে যে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন তার প্রশংসা করেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এক বিবৃতিতে মাইকেল ফ্যালন বলেছেন, অতীতে আমার কিছু আচরণসহ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন এমপি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের অনেকটাই মিথ্যা। কিন্তু আমি স্বীকার করছি, অতীতে আমার আচরণ সর্বোচ্চ মানের তুলনায় ঘাটতি ছিল। বিবিসির অনুষ্ঠানে ফ্যালনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি ক্ষমা চাইবেন কিনা? জবাবে তিনি বলেছেন, আমার মনে হয় আমরা এখন সবাই অতীতের দিকে ফিরে তাকিয়েছি। সেখানে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যার জন্য আপনার অনুতাপ হতে পারে, যেটা ভিন্নভাবে করা যেত। গত সাড়ে তিন বছর ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে সম্মানের ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, মাইকেল ফ্যালনের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে ওয়েস্টমিনস্টারে বয়ে যাবে শকওয়েভ বা কড়া হতাশা। কারণ, বুধবারও নতুন অভিযোগ বেরিয়ে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, একজন পুরুষ ও একজন নারী স্টাফকে যৌন হয়রান করেছেন বিভিন্ন রাজনীতিক। আরেকজন নারী বলেছেন, তাকে পানীয় পান করিয়ে পার্লামেন্টের একটি বারে ধর্ষণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রভাবশালী মার্ক গারনিয়ের ও ডামিয়েন গ্রিনের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ আছে। ওদিকে পদত্যাগপত্রে স্যার মাইকেল ফ্যালন লিখেছেন, সম্প্রতি বেশ কিছু এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আমার অশোভন আচরণের কথাও রয়েছে। এসব অভিযোগের অনেকটা হতে পারে মিথ্যা। তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আমার যোগ্য মানদন্ডের চেয়ে অনেক নিচের। আমি আমার অবস্থানের প্রতিফলন দেখতে পেয়েছে। তাই আমি পদত্যাগ করছি।

