কাতালান: একদিকে স্বাধীনতা, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ অক্টোবর ২০১৭
দেশ ডেস্ক: একদিকে ‘স্বাধীনতা’। অন্যদিকে স্পেনের ‘নিয়ন্ত্রণ’। এরই মাঝে শনিবার ঘুম থেকে জেগে উঠলো কাতালোনিয়া। ততক্ষণে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়েছেন সেখানকার ‘প্রেসিডেন্ট’ কার্লেস পুইগডেমন্ট। সে আনন্দে উত্তাল আনন্দের বন্যা রাস্তায় রাস্তায়। অন্যদিকে কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্টসহ পুরো শাসকগোষ্ঠীকে বরখাস্ত করেছে স্পেন।
এর মধ্য দিয়ে কাতালোনিয়ার শায়ত্তশাসন বাতিল করে সেখানে স্পেনের কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা হয়েছে। কার্লেস পুইগডেমন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও বড় কোনো দেশের তরফ থেকে স্বীকৃতি মেলে নি। যুক্তরাষ্ট্র বলেই দিয়েছে কাতালোনিয়া হলো স্পেনের অংশ। এমনই এক জটিল পরিস্থিতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে কাতালানে। সৃষ্টি হয়েছে এক রাজনৈতিক সঙ্কট। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাতালানের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা কার্লেস পুইগডেমন্ট বা তার সহযোগীদের স্পেন সরকার গ্রেপ্তার করতে পেরেছে কিনা তা জানা যায় নি। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ১লা অক্টোবর গণভোটের পর শুক্রবার কাতালানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় । এর পরেই স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় কাতালানের শায়ত্তশাসন বাতিল করেন। বাতিল করেন সেখানকার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট, শাসকগোষ্ঠীদের। জারি করেন স্পেনের সরাসরি শাসন। পাশাপাশি কাতালানে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেছেন তিনি। বলেছেন, কাতালানে উত্তাল পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ওই নির্বাচন হবে ২১ শে ডিসেম্বর। এর মধ্য দিয়ে স্পেনে রাজনৈতিক সঙ্কট আরো গভীর হলো। ইউরোপ উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি দেখছে। হতাশা বয়ে যাচ্ছে স্পেনের মেরুদ- দিয়ে। কাতালানের স্বাধীনতাকামী নির্বাহী নেতারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন কিনা এবং তাদের উল্লাসরত সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাতালানকে মাদ্রিদের অধীনে নেয়া সমর্থন করেন কিনা তার জন্য উদ্বেগের সঙ্গে বিশ্ব তাকিয়ে আছে রোববারের দিকে। স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার পর স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের রাস্থায় শনিবার দেখা গেছে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রতিবাদ। এর আগের দিন শুক্রবার বার্সেলোনা ও কাতালানের অনেক শহরে আঞ্চলিক পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা দেবে বলে আনন্দ উদযাপন করেছে হাজার হাজার মানুষ। কাতালানের পার্লামেন্টে স্বাধীনতার পক্ষে ভোটাভুটি হয়। তাতে পক্ষে পড়ে ৭০ ভোট। বিপক্ষে পড়ে ১০ ভোট। দু’জন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। ১৩৫ সদস্যের পার্লামেন্টের বাকিরা প্রতিবাদে পার্লামেন্টেই যান নি। তবে পার্লামেন্টের বাইরে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছে ততক্ষণ।
পার্লামেন্টের ভোটের ফল ঘোষণা হতেই বার্সেলোনার রাস্তা ‘স্বাধীনতা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা ঘোষণা দিতেই পক্ষের এমপিরা উল্লাস করতে থাকেন। হাত তালি দেন। একে অন্যকে আলিঙ্গন করেন। কাতালানের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। উল্লেখ্য, কাতালান হলো স্পেনের সবচেয়ে ধনী অঞ্চল। সেখানে বসবাস করে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ। শায়ত্তশাসন বাতিল করে তাদেরকে স্পেনের সরাসরি শাসনের অধীনে নেয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সাবেক স্বৈরশাসক ফ্রাঁসোয়া ফ্রাঙ্কোর ১৯৩৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শাসনের পর এই প্রথমবার কাতালানের শায়ত্তশাসন বাতিল করে সেখানে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা হলো। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিগুলো বলছে, তারা স্পেনের এই বাধা মোকাবিলা করবে। উগ্র বামপন্থি দল সিইউপি টুইটে বলেছে, আমরা রাজয়ের কর্তৃত্ববাদী গুহায় বসবাস করি না। সংবিধানের ১৫৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে নই। আমরা স্বাধীন। স্বাধীনতার পক্ষের এই বাধা আসতে পারে রাস্তায় বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের মাধ্যমে।

