নিবন্ধন নবায়ন করছে না টিএফএল : উবার কি বন্ধ হয়ে যাবে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭
০ স্তম্ভিত ৩৫ লাখ সেবাগ্রহিতা ০ বেকার হবে ৪০ হাজার চালক ০ দুশ্চিন্তায় ১০ হাজার বাংলাদেশি ০ ট্যাক্সবঞ্চিত হবে সরকার
দেশ রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যে অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি সেবা নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) উবারের রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের পর এই ট্যাক্সিসেবা বন্ধ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। টিএফএল এর এই সিদ্ধান্তের পর বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অবস্থা হয়ে উবারের ড্রাইভার ও সেবাগ্রহিতাদের মধ্যে। উবার কর্তৃপক্ষ দৃঢ়তার সাথে জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের সার্ভিস অব্যাহত রাখতে আইনী লড়াইয়ে যাবে। কিন্তু আইনী লড়াইয়ে বিজয়ী হতে না পারলে এই সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাবে এবং এতে করে ৩৫ লাখ সেবাগ্রহীতা এই সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হবেন। আর বেকার হয়ে পড়বেন ৪০ হাজার উবার ড্রাইভার। যার মধ্যে শুধু বাঙালি উবার ড্রাইভার রয়েছেন ১০ হাজার।
গত ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার টিএফএল যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায়। টিএফএল এর বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিই আমাদের কাছে সবার আগে। ভাড়া করা গাড়ি দিয়ে পরিবহন সেবা পরিচালনাকারীদের কিছু নিয়মনীতি মানতে হয়। তাদের দেওয়া সেবা পর্যালোচনা করে লন্ডন পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিবন্ধ নবায়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। উবার বেশ কিছু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে যেগুলো জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই উবারের নিবন্ধন নবায়ন করা হচ্ছে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উবার যেভাবে পুলিশের কাছে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের রিপোর্ট করত এবং চিকিৎসা সনদপত্র আদায় করত তা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এ ছাড়া ‘গ্রেবল’ নামের একটি বিতর্কিত সফটওয়্যার ইনস্টলের ব্যাপারেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি উবার কর্তৃপক্ষ।
লন্ডনে উবারের মহাব্যবস্থাপক টম এলভিজ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তে লন্ডনের ৩৫ লাখ ব্যবহারকারী ও ৪০ হাজার চালক স্তম্ভিত হয়ে গেছেন। আমাদের নিষিদ্ধ করতে চাওয়ার মাধ্যমে পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও লন্ডনের মেয়র সেই ছোট গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করেছেন যারা কিনা ভোক্তাদের পছন্দ করার ক্ষমতাকে সীমিত করতে চান। এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে ৪০ হাজারেরও বেশি চালক বেকার হবেন। লন্ডনবাসী সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী একটি পরিবহন সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধমূলক কোনো কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে আমরা সব সময়ই নিয়ম মেনে চলি। এ ব্যাপারে আমাদের একটি বিশেষ দল নগর পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে।’ লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, ‘লন্ডন পরিবহন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে আমি পুরোপুরি সমর্থন করি। জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি থাকলে উবারের নিবন্ধন নবায়ন করা হবে ভুল সিদ্ধান্ত।’
লন্ডনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যাক্সিচালকদের সংগঠন লাইসেন্সড ট্যাক্সি ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনস লিমিটেডের (এলটিডিএ) প্রধান স্টিভ ম্যাকনামারা বলেন, ‘আমাদের শহরের রাস্তায় নামার পর থেকেই উবার আইন ভাঙছে। গাড়ির চালকদের শোষণ করার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নিতেও অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আমরা আদালতের কাছে এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখার আরজি জানাবো। লন্ডনের রাস্তায় এই অনৈতিক কোম্পানির কোনো স্থান নেই।’ পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা একজন উবার চালক সাপ্তাহিক দেশকে বলেন, কেউ যখন উবারে কাজ শুরু করতে চায় তার কমপক্ষে ১০ হাজার পাউন্ড খরচ হয়ে যায়। মিনিক্যাবিং লাইসেন্সসহ আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র তৈরিতে খরচ হয় প্রায় এক হাজার পাউন্ড। তারপর একটি ভালো গাড়ি কিনতে হয়। ৮/৯ হাজার পাউন্ড না হলে ভালো গাড়ি কিনা যায়না। এখন যদি উবার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে যারা ১০ হাজার পাউন্ড খরচ করে কাজ শুরু করেছেন তাদের অবস্থা কী হবে। যে ১০ হাজার বাঙালি চালক রয়েছেন সকলেইতো বেকার হয়ে পড়বেন। যারা উবারে কাজ করেন তারা সকলেই সেল্ফ এমপ্লয়েড। বছর শেষে তারা আয়ের উপর সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে থাকেন। উবার বন্ধ করে দিলে একদিকে যেমন এই ট্যাক্স থেকে সরকার বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে একটি বিরাট জনগোষ্ঠীকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিবে। তাই বৃটেনের স্বার্থেই উবারকে তার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়া উচিত।
উল্লেখ্য, বিশ্বের ৬০০টিরও বেশি শহরে উবার চালু রয়েছে। ২০১২ সালে লন্ডনে উবার চালু হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে এখন ৪০টিরও বেশি শহরে এই সেবা চালু রয়েছে। গত বছরের ২২ নভেম্বর ঢাকায় যাত্রা শুরু করে উবার।

