পুরো ম্যানিলা পুলিশবাহিনী বরখাস্ত
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
দেশ ডেস্ক: তিন কিশোরের হত্যা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা শহরের পুরো পুলিশ বাহিনীকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে বাহিনীর কিছু সদস্য তিন কিশোর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলো। বাকিদের সিকিউরিটি-ক্যামেরায় এক বাড়িতে ডাকাতি করতে দেখা গেছে। ম্যানিলা পুলিশ প্রধান অস্কার আলবায়ালদে বলেন, ‘শহরটির কালোওকান পুলিশ বাহিনীর ১ হাজার ২০০ সদস্যকে বরখাস্ত করে দেয়া হবে এবং তাদের জায়গায় নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে।’ এ খবর দিয়েছে আলজাজিরা।
খবরে বলা হয়, গত মাসে এক মাদক বিরোধী অভিযানের সময় ১৭ বছর বয়সী কিশোর কিয়ান দেলোস সান্তোসকে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে কালোওকানের চার পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। এছাড়া কালোওকানের আরও দুই পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে দুই কিশোর কার্ল এঞ্জেলো আর্নিয়াজ(১৯) ও রেনালদো দে গুজমানকে(১৪) হত্যা ও নির্যাতন করার দায়ে প্রমাণসহ মামলা করেছেন কিশোরদ্বয়ের পিতামাতা। এদিকে গত সপ্তাহে মাদক-অভিযানের সময় এক সিকিউরিটি-ক্যামেরায় ১৩ পুলিশ সদস্যকে এক বাড়িতে ডাকাতি করতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, ফিলিপাইনের প্রেসদিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের এই মাদক বিরোধী অভিযান ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানী ঘটিয়েছে। তবে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সান্তোসের হত্যার পর জনগণের মধ্যে এই কথিত মাদক-বিরোধী অভিযান নিয়ে ক্ষোভ নাড়া দিয়ে ওঠেছে।
পুলিশের ভাষ্য ছিলো, সান্তোস একজন মাদক ব্যবসায়ী। সে পুলিশের এক অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে গুলি চালিয়েছে। তবে তার বাবা-মা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেছেন, সান্তোসকে পুলিশরা হত্যা করার আগে সে বারবার তাদের কাছে তার জীবন ভিক্ষা চাইছিলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের বক্তব্যের পক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ জমা দেন। ওইসব প্রমানের মধ্যে সিকিউরিটি-ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ফুটেজও ছিলো। ওই ফুটেজে দেখা গেছে দু’জন পুলিশকর্মী সান্তোসকে টেনে-হেচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরেই গুলির আওয়াজ শোনা যায়। সান্তোসের মৃতদেহ উদ্ধারের সময় দেখা যায় যে তাকে মাথায় গুলি করে হয়েছিলো। তার বাম হাতে একটি পিস্তল ধরা ছিলো, তবে তার বাবা-মা জানিয়েছে সান্তোস ছিলো ডানহাতি। পুলিশকর্মীরা এক সেনেট শুনানীতে সাক্ষ্য দেয় যে, ভিডিওতে যেই ব্যক্তিকে দেখা গেছে সে সান্তোস নয়। কিন্তু, অনেক প্রত্যক্ষদর্শীই পুলিশ কর্মীদের ওই সাক্ষ্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। সান্তোস হত্যার ঘটনার কিছুদিন পরই ইউনিভার্সিটি অফ ফিলিপাইনসের এক ছাত্র কার্ল এঞ্জেলো আর্নিয়াজ ও এক কিশোর রেনালদো দে গুজমাকে হত্যা করা হয়। আর্নিয়াজের বাবা-মা বলেন, ১৭ই আগস্টের রাতে আর্নিয়াজ ও গুজমান একসঙ্গে স্নাক কিনতে বেরিয়েছিলো। কিন্তু তারা কেউই আর বাড়ি ফেরেনি। ১০ দিন পর এক লাশঘরে আর্নিয়াজের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। আর রেনালদো দে গুজমানের লাশ পাওয়া যায় ম্যানিলার উত্তরে অবস্থিত এক শহরের নালায় ভাসমান অবস্থায়। গুজমানের মাথা ‘প্যাকিং-টেপ’ দিয়ে জড়ানো ছিলো। তার দেহে ২৮ টি ছুড়িকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

