লন্ডনে কেমন আছেন মেয়র আনিসুল হক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
রহমত আলী: যে মানুষটি সব সময় জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতেন আর চিন্তা করতেন কিভাবে নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের উন্নয়ন করা যায় সে মানুষটি বিগত একমাস যাবত শুয়ে আছেন লন্ডনের একটি হাসপাতালে। তাঁর পাশে নেই কোন দর্শনার্থীর ভিড় কন্ঠেও নেই কোন কথা। অনেকটা নিঃসঙ্গ অবস্থায় শুয়ে আছেন হাসপাতালের বেডে। কেননা তাঁর পাশে কেবলমাত্র আপনজন ছাড়া অন্য কাউকে যেতে চিকিতসকদের পক্ষ থেকে বারণ করা হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট থেকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকা উত্তর সিটি কার্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। মস্তিষ্কের রক্তনালীতে প্রদাহ জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু তার এ অসুস্থতা নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযেগ মাধ্যমে। তার অবস্থা আশংকাজনক এবং তিনি জীবিত নেই এমন খবরও চাউর হয়ে পড়ে সম্প্রতি। কিন্তু এ ব্যাপারে তার প্রকৃত অবস্থা জানার সুযোগ না থাকায় এ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
এমতাবস্থায় গত ১২ অক্টোবর মঙ্গলবার তিনি যে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন (বিশেষ কারণে চিকিৎসাধীন হসপিটালের নাম উল্লেখ করা যাচ্ছেনা) সেখানে আমাদের যাওয়ার সুযোগ হয় এবং প্রকৃত অবস্থা দেখার সুযোগ মিলে। দেখা যায় মেয়র আনিসুল হকের শরীরের বিভিন্ন অংশে মেডিকেল যন্ত্রাংশ ও নাকের মধ্যে অক্সিজেন লাগানো। এপাশ-ওপাশ করছেন কিন্তু সে সংযোগের কারণে দিক পরিবর্তন বা পাশ কাটাতে পারছেন না। শ্বাস প্রশ্বাস মোটামুটি স্বাভাবিক, তবে কোন কোন সময় একটু ঘনঘন নিশ^াস নিচ্ছেন। চোখ দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকালেও দৃষ্টি এখনও ফিরে আসেনি। সেসময় সেখানে পরিচর্যাকারী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। সকালের দিকে তার স্ত্রী এসেছিলেন বলে জানা যায়। দর্শনার্থীদের সাক্ষাত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। কেবলমাত্র তালিকাভুক্ত ঘনিষ্ঠজন ছাড়া আর কেউ সেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা বিশেষ সুযোগ সেখানে পৌছে যাই।
উল্লেখ্য, ২ মাস পূর্বে দেশে থাকাকালীন তিনি প্রথম বার এ রোগে আক্রান্ত হন কিন্তু সেখানে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এরপর পারিবারিক কাজে গত ২৮ জুলাই লন্ডনে চলে আসেন এবং আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং তার প্রকৃত রোগ নির্ণয় করা হয়। বর্তমানে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। রয়েছেন ইনটেসিভ কেয়ারে। তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হতে আরো কয়েকমাস সময় লাগতে পারে। তবে পূর্বের চাইতে তার অবস্থা এখন ভালো ও ধীরে ধীরে তা উন্নতি হচ্ছে।

