অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে দেড় লাখ রোহিঙ্গা, মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
দেশ ডেস্ক: পঁচিশে আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গত বছর অক্টোবরের পর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ। জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীদের উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এতে বলা হয়, এর ফলে মানবিক সঙ্কট ঘনীভূত হয়েছে। ত্রাণ বিষয়ক এজেন্সিগুলোর মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগস্টে সৃষ্ট সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা কমপক্ষে ৮৭ হাজার। গত বছর অক্টোবরে একই রকম সহিংসতায় যে পরিমাণ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছিল এ সংখ্যা তাকে ছাড়িয়ে গেছে। কক্সবাজারে বাংলাদেশ সীমান্তে জাতিসংঘের ত্রাণ কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী গত অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।
ওদিকে চারদিন আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন মোহাম্মদ হোসেন (২৫)। তিনি এখনও থাকার কোনো জায়গা পান নি। বলেছেন, আমরা অস্থায়ী হলেও একটি ঘর বানানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু জায়গা নেই। কোনো বেসরকারি সংগঠন আমাদের কাছে আসে নি। আমাদের কাছে খাদ্য নেই। রাস্তার পাশে সন্তান প্রসব করছেন কোনো কোনো মা। অসুস্থ শিশুরা পাচ্ছে না চিকিৎসা। গত বছর অক্টোবরের নৃশংসতার পর বালুখালিতে একটি রোহিঙ্গা শিবির গড়ে তোলা হয়েছিল। এটি সরকার স্বীকৃত নয়। সেই ক্যাম্পের পরিধি নাটকীয়ভাবে বাড়ছে। শত শত রোহিঙ্গা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যরা বাঁশ ও তারপুলিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আবাসনে আশ্রয় নিয়েছে। ওদিকে মিয়ানমার সরকার বলছে, তারা রাখাইনের উত্তরাঞ্চল থেকে ১১ হাজার ৭০০ জাতিগত (বৌদ্ধ) অধিবাসীকে সরিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান, তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসোগুলু রোহিঙ্গা মুসলিমদের এমন করুণ পরিণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার মুসলিমদের বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এরদোগান। তিনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদকেও ফোন করেন। এ সময় তিনি পলায়নরত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রস্তাব দেন। তবে সেই সহায়তা কেমন হবে, আর্থিক সহায়তা কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট করা হয় নি। এরদোগানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভাসোগলু মুসলিম বিশ্বের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওেিদক রোববার মিয়ানমার পৌঁছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। অং সান সুচি ও মিয়ানমারের শীর্ষ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সোমবার তার সাক্ষাতের কথা। ওদিকে রোববার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় মিয়ানমারের দূতাবাস লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোড়া হয়েছে।

