বদলে গেছে দানা মাঝির জীবন
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ আগস্ট ২০১৭
অমর সাহা, কলকাতা : ভারতের ওডিশার দানা মাঝির কথা মনে আছে? সেই দানা মাঝি, স্ত্রীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অর্থ ছিল না যাঁর। অগত্যা হাসপাতাল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে নিজের গ্রামে স্ত্রীর লাশ কাঁধে করে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। পালটে গেছে সেই মাঝির জীবন। গত বছর ভারতের ওডিশা রাজ্যের কালাহান্ডি জেলার ক্ষুদ্র জাতিসত্তার দানা মাঝি উঠে এসেছিলেন খবরের শিরোনামে। যক্ষ্মায় মারা যাওয়া স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে ১২ কিলোমিটার হেঁটে গিয়েছিলেন দানা মাঝি। পাশে ছিল ১২ বছরের মেয়ে। এ দৃশ্য চোখে পড়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের। এরপরই সাংবাদিকেরা প্রশাসনকে খবর দিয়ে বাকি পথ দানা মাঝির স্ত্রীর লাশ সরকারি যানে পৌঁছে দেন। এই ঘটনা সেদিন ভাইরাল হয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিভিন্ন সংস্থাসহ বাহরাইনের প্রধানমন্ত্রীও বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত। দানা মাঝির ব্যাংকে এখন জমেছে ৩৭ লাখ রুপি।
মূলত দানা মাঝির কাঁধে স্ত্রীর মৃতদেহ বহনের ছবি দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর নজর কাড়ে বিভিন্ন সংস্থার। বাহরাইনের প্রধানমন্ত্রী খলিফা বিন সালমান আল খলিফা গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৮ লাখ ৮৭ হাজার রুপি দেন তাঁকে। এ ছাড়া সুলভ ইন্টারন্যাশনাল ৫ লাখ রুপি দিয়ে একটি স্থায়ী হিসাব খুলে দেয় দানা মাঝিকে। সাহায্য আসতে থাকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও ওডিশা সরকারের কাছ থেকেও।
এদিকে এই বিপুল অর্থ পেয়ে দানা মাঝি পালটে ফেলেছেন নিজেকে। নিজের তিন মেয়ে চাঁদনি, প্রমীলা ও সোনেইকে ভর্তি করিয়েছে ওডিশার রাজধানী ভুবনেশ্বরের একটি নামী স্কুলে। আবার বিয়ে করে নতুন করে ঘর-সংসারও পেতেছেন। সরকারিভাবে ইন্দিরা আবাস যোজনায় পেয়েছেন থাকার জায়গা। আর্থিকভাবে এখন বেশ সচ্ছল দানা মাঝি। তবে দানা মাঝির তিন মেয়ের অভিমান, নতুন মা তাদের সেভাবে গ্রহণ করেন নি। খোঁজও নেন না। কথাও তেমন বলেন না। মেয়েদের অভিযোগ, বাবাও অনেকটা ভুলে যাচ্ছেন তাঁদের। দানা মাঝি অবশ্য এসব কথায় গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য এখন নিজের পরিবার নয়, বরং গ্রামের উন্নয়ন। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছে গ্রাম।

