নিউক্যাসলে কারি লাইফ এর কালিনারি ওয়ার্কশপ ও এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ আগস্ট ২০১৭
ব্রিটেনের জনপ্রিয় রেষ্টুরেন্ট ম্যাগাজিন কারি লাইফ এর উদ্যোগে উত্তর ইংল্যান্ডের নিউক্যাসলে অনুষ্ঠিত হলো কারি লাইফ কালিনারি ওয়ার্কশপ ও এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস। নিউক্যাসলের পাঁচতারকা হোটেল ম্যারিয়ট মেট্রো সেন্টারে গত ১৪ আগস্ট সোমবার এই অনুষ্ঠানে নিউক্যাসল এবং আশেপাশের বিভিন্ন শহরের রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, শেফ ও টেকওয়ে মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। এমনকি লন্ডন ও মিডল্যান্ড থেকেও রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা অংশ নেন ওয়ার্কশপে। এই প্রথমবারের মতো নিউক্যাসলে কোনো পাঁচ তারকা হোটেলে এ ধরণের অনুষ্ঠান হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা এ ধরণের অনুষ্ঠানের গুরুত্বারোপ করে ভবিষ্যতেও কারি লাইফকে নিউক্যাসলে অনুষ্ঠান করার আহবান জানান। এই প্রথমবারের মতো অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে কারি লাইফ তাদের তিনজন তারকা শেফকে দিয়ে অনুষ্ঠানের খাবার তৈরি করে। আর এরসাথে বিখ্যাত মিশেলিন স্টার শেফ রুপার্ট রাওলির তৈরি ডেজার্টও উপভোগ করেন সবাই।
অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে আগত অতিথিদের ক্যানাপে ও পানীয়সহ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর পরে চলে নেটওয়ার্কিং। অনলাইন অর্ডারিং প্রতিষ্ঠান জাস্ট ইট এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্য স্পন্সর কিংফিশার, টার্কিশ এয়ারলাইনস, শিভাস ও ট্রাভেল লিংক এর প্রতিনিধিরা তাদের সার্ভিস নিয়ে কথা বলেন অতিথিদের সাথে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথিরা স্থানীয় এলাকার রেস্টুরেটার্সদের সাথে মতবিনিময় করেন।
মূল অনুষ্ঠান শুরু হলে কারি লাইফ এর সম্পাদক সৈয়দ বেলাল আহমদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বেলাল আহমদ বলেন, আমাদের স্টাফের সংকট রয়েছে এটা ঠিক, কিন্তু খাবারের মান নিয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। রেষ্টুরেন্টগুলোকে শুধু পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এর জন্যে শুধু প্রয়োজন ম্যানুকে ছোট করা। বিশাল ম্যানু রাখলে তাদের স্ট্রাগল করতেই হবে। তিনি বলেন, সর্বকালের ফেভারিট ডিশ, মাদ্রাজ, ভিন্দালু, বাব্বি জালফ্রেজি, কোরমা ইত্যাদির দিকেই তাদের মনোযোগ দেয়া উচিত। এগুলোই ব্রিটেনের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় এটা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। এসব ডিশের জনপ্রিয়তা এখন বিদেশেও। যারা এসব ডিশ মেন্যু থেকে তুলে নিয়েছেন তাদের জনপ্রিয়তা সাময়িক হয়েছে কিন্তু কাস্টমাররা ঘুরে ফিরে এসে তাদের বহুকালের পরিচিত ডিশের কথাই জিজ্ঞেস করেন।
সৈয়দ বেলাল আহমদ ফুড হাইজিন এর উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, আমাদের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। প্রাকটিক্যালি ট্রেনিং নিতে হবে শেফ এবং ম্যানেজারদের ব্যবসার উন্নতি করতে হলে। এ ব্যাপারে কারি লাইফ তার কাজ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান। কারি লাইফ কালিনারী ওয়ার্কশপের মূল স্পন্সর জাস্ট ইট এর মার্কেটিং ডিরেক্টর বেন কার্টার অনুষ্ঠানে ব্যবসার উন্নয়নে তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি টেকওয়ে ব্যবসার যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং কিভাবে জাস্ট ইট ব্যবসাকে সহযোগিতা করছে তা প্রদর্শন করছে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ টেকওয়ে ব্যবসার বার্ষিক টার্ণওভার ৯ বিলিয়ন পাউন্ডের উপরে। জাস্ট ইট এর পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত স্বতন্ত্র সংগঠন ষ্ক্রষ্ক্রব্রিটিশ টেকওয়ে ক্যাম্পেইনম্বম্ব (বিটিসি) কারি ইন্ডাষ্ট্রির স্টাফ সমস্যাসহ নানা সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের সাথে লবিং করে যাচ্চেছ। পুরো টেকওয়ে ইন্ডাষ্ট্রির সমস্যা নিয়ে কাজ করছে বিটিসি। তিনি জাস্ট ইট টেকওয়ে ব্যবসার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্চেছ বলে জানান।
ওয়ার্কশপে আরও বক্তব্য রাখেন স্পন্সর কিংফিশারের প্রতিনিধি নীল লেমি। নীল কিংফিশার বিয়ার রেষ্টুরেন্টের ব্যবসার উন্নয়নে যে সব উদ্যোগ নিয়েছে তা তুলে ধরেন রেষ্টুরেটার্সদের কাছে। ব্যবসার উন্নয়নের রেষ্টুরেন্টগুলোকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবেন বলে নীল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। শুধু অনুষ্ঠানে ডেজার্ট তৈরি করে পরিবেশনই নয়, কিভাবে তিনি মিশেলিন স্টার অর্জন করলেন তার বিস্তারিত তুলে ধরেন শেফ রুপার্ট রাওলি। একজন বিখ্যাত শেফ হতে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে এবং সুনাম ধরে রাখাটাও এরচেয়ে বেশি কষ্টের বলে উল্লেখ করেন রুপার্ট রাওলি। শেফ রাওলি সম্পতি কারি লাইফ এর সাথে ইন্ডিয়া ভ্রমণের কথাও তুলে ধরেন। আগামী জানুয়ারী মাসে তিনি কারি লাইফ টীমের সাথে শ্রীলংকায়ও যাচ্চেছন একটি ফুড ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে। অনুষ্ঠানে রেষ্টুরেন্টে সার্ভিস উন্নয়নে বক্তব্য রাখেন গর্ডন রামসের সাবেক রেষ্টুরেন্ট ম্যানেজার মো ঘেরাস। মো বিভিন্ন বিখ্যাত রেষ্টুরেন্টে ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিখ্যাত ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট জাইকাতেও ম্যানেজার ছিলেন তিনি। মো ঘেরাস কিভাবে একজন কাস্টমারকে সার্ভিসের মাধ্যমে বার বার ফিরিয়ে আনা যায় সে সম্পর্কে আলোকপাত করেন। ব্যবসা বৃদ্ধির অবিচ্চেছদ্য অংশ হলো সার্ভিস। আর এই বিষয়গুলো অবজ্ঞা করলে রেষ্টুরেন্টগুলোকে পিছনে পড়ে থাকতে হবে।
কারি লাইফ এর ট্রেনিং ডিরেক্টর শামসুল ইসলাম ফুড হাইজিন এর উপর একটি সেশন পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ব্যবসায় এক স্টার ও দুই স্টার নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব। হাইজিন রেইটিং ৪ অথবা পাচঁ অর্জন করতে হবে। সরকার এবং লোকাল অথরিটিগুলোও এই রেটিং অর্জনে বাধ্য করবে খাবার প্রতিষ্ঠানগুলোকে। কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের রেটিং উন্নতির দিকে নজর দিচ্চেছনা তাদের বিরুদ্ধে। তিনি সকল ব্যবসায়ীদের হাইজিনের দিকে গুরুত্বারোপ করার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনার পূর্বে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শেফ আবুল মনসুর, শেফ সৈয়দ জহরুল ইসলাম, শেফ বিজয় পানওয়ার ও শেফ রুপার্ট রাওলিকে নিয়ে এই প্রামান্য চিত্রটি তৈরি করেছে কারি লাইফ ম্যাগাজিন। তারা কারি লাইফ এর সাথে বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করেছেন এবং তাদের তৈরি খাবার দিয়ে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানে সকল অতিথি ও স্পন্সরকে ধন্যবাদ জানান কারি লাইফ এর প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা। বিশেষ করে লন্ডন থেকে আগত সিটি স্পাইসের আব্দুল আহাদ, ম্যান্সফিহ্বের ব্যবসায়ী ফয়সল চৌধুরী, ওয়াটফোর্ড এর ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান, লেমিংটন স্পার ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নিউক্যাসলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা মাহতাব মিয়া, সান্ডারল্যান্ড এর বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা সৈয়দ ওলিদ মিয়াকে তাদের সহযোগিতার জন্য কারি লাইফ এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়। যেসব রেষ্টুরেন্ট এক্সেলেন্স এওয়ার্ড ও সার্টিফিকেট পেয়েছে এগুলো হলো: মিহাদ রহমান, ইন্ডিয়ান সিজলার, শাহিন হক, লাষ্ট মনসুন রেষ্টুরেন্ট, সৈয়দ এজহার আহমদ, মায়দা টেবিল স্প্রেড, মোহাম্মদ আবদুল আহাদ মিলেনিয়াম বালটি, আতাউর রহমান পেনশো তান্দুরি, কওসার মিয়া সাফরন, সৈয়দ ইয়াকুত মিয়া সাগর সিহাম, সৈয়দ নুর হোসেন স্পাইস লাঞ্জ, সৈয়দ জহরুল ইসলাম দ্যা ক্যাপিটাল, এম এইচ মাসুদ স্পাইস ভেন্যু, আব্দুল আহাদ সিটি স্পাইস ও সৈয়দ খালেদ মিয়া ওলিদ মু“াই ম্যাজেস্টিক। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি




