বিনম্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ আগস্ট ২০১৭
দেশ ডেস্ক, ১৮ আগস্ট : ১৫ই আগস্ট। ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। বাঙালি জাতির জনক হারানোর দিন। এ দিনে শোক, কান্না, মাতম, আহজারি আর বিনম্র শ্রদ্ধায় দেশে বিদেশে জাতি স্মরণ করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ই আগস্টের শহীদদের। ফুল আর ভালোবাসায় জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি খুনিদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছে পুরো জাতি। পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি নিশ্চিতের দাবিও উচ্চারিত হয়েছে মানুষের মুখে মুখে। জাতীয় শোক দিবসকে ঘিরে দেশব্যাপী পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে ভোর থেকেই রাজধানীর সব পথ গিয়ে মিশে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে। সেখানে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান লাখো মানুষ।
সকালে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩২ নম্বরে যান সকাল সাড়ে ৬টার দিকে। ক্ষণিক পরেই সেখানে উপস্থিত হন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। এরপর প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষপস্তবক অর্পণ করেন। ফুল দিয়ে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায় জাতির পিতার প্রতি। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। ১৫ই আগস্ট নিহত শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় করা হয় বিশেষ মোনাজাত। পরে স্পিকার শিরীন শারনিম চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসাবে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দেন। আওয়ামী লীগের পর ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন দলের নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাবার প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়ার পর পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিতে কিছুক্ষণ সময় কাটান। পরে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যান বনানী কবরস্থানে। বঙ্গবন্ধু ছাড়া ১৫ই অগাস্ট নিহত তার পরিবারের সদস্য ও অন্য সব স্বজনদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রতিটি কবরে গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দেন। তার আগে মোনাজাতে অংশ নেন তারা। পরে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া যান।
টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি এই মহান নেতার প্রতি সম্মান জানাতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে রেহানাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল জাতির পিতাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়, এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। তিন বাহিনী প্রধানগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও মুহম্মদ ফারুক খান, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ অন্য মন্ত্রী এমপিগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা জাতির পিতার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে পরে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে বঙ্গবন্ধুর সমাধি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন। এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দিনভর সারা দেশে পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, কাঙালি ভোজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ ছিল নানা আয়োজন। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচি পালন করেছে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো।

